শান্তি

অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে একটা লেক রয়েছে। লেকের পাড়ে বসার জন্য সুন্দর জায়গা রয়েছে। মাঝে মাঝে এখানে বসে থাকতে ভালো লাগে। ভালো লাগে এখানে বসে বসে ভাবতে। বিকেল হলে পাখির কিছির মিছির শোনা যেতো। এখন শুনা যায় কিছু পোকার ডাক। এসব কি পোকা? ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক? হতে পারে। সূর্য অনেক আগেই ডুবে গিয়েছে। পাখিরা নীড়ে ফিরে গিয়েছে। আমি নীড়ে ফিরব ফিরব করেও ফিরছি না। আসলে ফিরতে ইচ্ছে করছে না। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে নিজ ঘরে না ফিরে অন্য কোথাও চলে যেতে। অনেক দূর। যেখানে গেলে আর ফিরে আসা যাবে না। হারিয়ে যাওয়া যাকে বলে। এমন ভাবে হারাতে চাই, যেন নিজেকেই নিজে খুঁজে না পাই। মানুষের এমন হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে? নাকি শুধু আমারই এমন অদ্ভুত ইচ্ছে করে? জানি না।

আচ্ছা, ঊর্মির কি এখনো হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে? ইচ্ছে করে প্রজাপতির মত হয়ে উড়তে? একসময় তো তেমনই বলছিল। নাকি বাচ্চা কাচ্চা গুলোকে সামলাতে সামলাতে এমন বাচ্চামি চিন্তা করার সময়ই হয়ে উঠে না? জানি না। মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে। জানতে ইচ্ছে করলেও জানা যায় না। মানুষের কত কিছুই তো অজানা রয়ে যায়। আচ্ছা, তার বরের ও মাঝে মাঝে দূরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে? নাকি অফিস থেকে দ্রুত বাসায় ফেরার চেষ্টা করে? তাও জানি না। আচ্ছা, ঊর্মি যদি আমার বউ হতো, তাহলে আমি কি এখানে বসে বসে অভান্তর সব ভাবনা ভাবতাম নাকি অফিস থেকে দ্রুত বাসায় ফিরতাম? বা মাঝে মাঝে এখানে বসে ঊর্মির সাথে গল্প করতাম? এটাও জানা সম্ভব না। সম্ভব হতো যদি আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রাম হতাম। তাহলে সিম্যুলেশন চালিয়ে সব কিছু জানা যেতো। হয়তো তখনো জানা সম্ভব হতো না। কারণ মানুষের জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত্বই এক একটা ভ্যরিয়েবল। এতগুলো ভ্যারিয়েবল দিয়ে কত ট্রিলিয়ন জিলিয়ন সম্ভাব্য ফল হতো। এতগুলো ক্যালকুলেশন মনে হয়না কোন কম্পিউটার করতে পারবে। ভবিষ্যৎ এ হয়তো করা যাবে। কেমন হতো যদি কোন ক্যাপসুলের ভেতর ঘুমিয়ে থেকে ভবিষ্যৎ এ যেগে উঠা যেতো? জানি না। এতটুকু জানি, আমার বাসায় ফিরতে ইচ্ছে করে না।

বাসা বলতে যেখানে ভালোবাসা থাকে। কিন্তু আমার বাসায় মনে হয় না কোন ভালোবাসা রয়েছে। অথচ অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করে কত মানুষই তো সুখে শান্তিতে বসবাস করছে। জয়াকে আমি বুঝতে পারি না। না পারে জয়া আমাকে বুঝতে। দুইজনের মধ্যে কেমন একটা দূরত্ব। কোন সামঞ্জস্যতা নেই। দুইজনের চিন্তা ভাবনাও কেমন ভিন্ন।

শিকল না পরেও কেমন বন্দী বন্দী লাগে। আচ্ছা, জয়ারও কি এমন লাগে? জানি না। জানা সম্ভবও না। সবাই কিভাবে চিন্তা করে, কি চায়, এসব জানা গেলে মাঝে মাঝে মনে হয় খুব ভালো হতো। আবার মাঝে মাঝে মনে হয় জানা নেই বলেই একটু খানি আগ্রহ থাকে। জেনে ফেললে সব কিছু বিরক্তিকর হয়ে উঠত।

ইচ্ছে করে একদিন জয়ার সাথে বসে সব সমস্যার সমাধান করে ফেলি। দুইজনের সমস্যা গুলোর একটা লিস্ট তৈরি করি। সেই লিস্ট ধরে একটা একটা করে সব গুলো সমাধান করি। হ্যাপি এন্ডিং কোন বই এর মত যেন বলতে পারি, অতপর আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলাম। মাঝে মাঝে অলসতা কাজ করে। অশান্তি গুলোর সাথে কেমন সয়ে যাচ্ছি। আরেকদিন আরেকদিন করতে করতে সময় গুলো পার করে দিচ্ছি কিভাবে জানি।

আজকে কি ঐ আরেকদিন? দেখা যাক। সম্ভবত মার্কেটটা এখনো খোলা পাবো। গিয়ে দেখি ভালো কোন উপকোটন পাওয়া যায় কিনা। শান্তি চুক্তি করতে হবে একটা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *