সেজদা

Last Updated on November 16, 2021

সেজদা দিতে পারা আল্লাহর একটা রহমত। অনেকেই এই রহমত থেকে বঞ্চিত। দেখেন, আপনি সেজদা দিতে পারেন, এখানে আপনার কৃতিত্ব খুব কম। আল্লাহ তায়লা আপনাকে এতটুকু সুযোগ দিয়েছেন বলেই আপনি সেজদা দিতে পারছেন।

যে সেজদা দিতে পারে, সে কত গুলো রহমত দ্বারা বেষ্টিত, কল্পনাও করা যায় না। সে তো নন মুসলিমও হতে পারত। সে তো নামে মাত্র মুসলমান হতে পারত। কোন বিপদে থাকতে পারত। আরো কত কিছু। কিন্তু না, আল্লাহর কেমন অশেষ রহমতের কারণেই সেজদা দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। এখানে বড়ত্বের, অহংকারের বা গর্বের কিছু নেই। মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েছে বলে অনেকে গর্বিত। তাদের গর্বের কিছু নেই। ভয় পাওয়া উচিত। কখন এই রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে যাই।

যারা গরীব তাদের আমরা কেমন চোখে দেখি? সাহায্যের হাত বাড়িতে দেই না? যারা সেজদা দিতে পারে না, তাদের সাথে ঠিক তেমন আচরণ করা উচিত। তাদের প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের যতটুকু পারা যায়, সাহায্য করা উচিত। আমরা উল্টোটাই করি।

Photo by afiq fatah on Unsplash

কাউকে মুসলিম বানানোর দ্বায়িত্ব আমার না। আল্লাহ চাইলে তো সবাইকেই মুসলিম বানিয়ে দিতে পারতেন। দেন নাই। আমার দ্বায়িত্ব হচ্ছে দাওয়াত দেওয়া। এটাই চাচ্ছেন আমার কাছে, যাকে দাওয়াত দিচ্ছি, তার কাছে। এভাবে আল্লাহ তায়লা দুইজনকেই পরীক্ষা করছেন। আর দাওয়াতের সর্বোকৃষ্ট মাধ্যম হচ্ছে উদাহরণ। নিজ জীবন দিয়ে উদাহরণ। আল্লাহ তায়লা লিখিত আল কোরআন নাযিল করে দিতে পারতেন। কিন্তু না, উনি একজন রাসুলের (সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে উদাহরণ দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিলেন কিভাবে কি করা উচিত।

কেমন হতো যদি আমি নন মুসলিম হতাম? কেমন হতো যদি একজন নন মুসলিমের ঘরে জন্ম নিতাম? আমার ইসলাম গ্রহণ করা কখনো সম্ভবত হত? পসিবিলিটি খুবি সামান্য। যে নেয়ামত আল্লাহ তায়লা দিয়েছেন, তার শুকরিয়া করা উচিত। ধনী কেউ যেমন নিয়মিত ভয়ে থাকে কখন তার ধন সম্পদ চুরি হয়ে যাবে, ঠিক তেমন ভয় পাওয়া উচিত। ধনী কেউ যেমন সিকিউর একটা যায়গায় নিজের সম্পদ যত্ন করে রেখে দেয়, ঠিক তেমন করে আমাদের ঈমানের যত্ন নেওয়া উচিত। ভয়ে থাকা উচিত যে যে কোন সময় হারিয়ে যাবে। গর্ব না করে চিন্তা করা উচিত যে নেয়ামত আল্লাহ তায়লা আমাদের দিয়েছেন, তার সঠিক ব্যবহার করি কিনা।

1 thought on “সেজদা”

Leave a Reply