সিলেটের ভোলাগঞ্জ এবং খাদিমনগরে একদিন

আমরা কয়েকজন মিলে প্ল্যান করি ভোলাগঞ্জ যাবো। সাদা পাথর আর স্বচ্ছ পানি দেখতে। আমি, ইমন, সাবিহা আপু এবং সুমায়ইয়া আপু। ভোলাগঞ্জ হচ্ছে সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে। আমরা রওনা দিয়েছি বৃহস্পতিবার রাতে। পূজার ছুটি থাকায় টিকেট পাওয়া যায়নি। গিয়েছি শ্যামলীর একটা নন এসি বাসে। একেবারে পেছনের আগের সিটে। যারা এই সিটে বসে কোথাও যাওয়া আসা করেছেন, তাই বুঝতে পারবেন কেমন অভিজ্ঞতা।

সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে আমা সিলেট পৌঁছাই। একটা সিএনজি নিয়ে চলে যাই পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে। সেখানে সকালের নাস্তা করি। গরুর কলিজা ভুনা আর নান রুটি খেতে ভালোই লাগছিল। খাওয়া দাওয়া করে একটা সিএনজি ঠিক করে আমরা রওনা দেই ভোলাগঞ্জ। ঐখানে ১০ নম্বর ঘাট নিয়ে যায় সিএনজি। রাস্তার কিছু অংশ ভালো। বাকি অংশ ভয়াবহ রকম খারাপ। শরীর ব্যথা করে দেয়। ৩৬ কিলো মিটারের মত দূরত্ব যেতে লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। শারীরিক টর্চার। যদিও রাস্তার কাজ হচ্ছে। হয়তো ৬ মাস পর যারা যাবে, তারা খুব সুন্দর ভাবে যেতে পারব। যায়গাটিকে ভোলাগঞ্জ জিরোপয়েন্ট ও বলে। ঘাট থেকে নৌকায় করে যেতে হয় এই সাদা পাথর গুলো দেখতে।

স্বচ্ছ পানি এবং সাদা পাথর

নৌকা ভ্রমণটা ভালো লাগে। নিচে স্বচ্ছ পানি। দুই পাশে সুন্দর বালি। সুন্দর একটা পরিবেশ। নৌকা থেকে নেমে কিছুদূর হেঁটে গেলেই দেখা মিলে এই শুভ্র পাথর গুলো। পাথরের উপর দিয়ে স্বচ্ছ পানি বয়ে যায়। শীতল স্বচ্ছ পানি। কিছুক্ষণ আমরা সেখানে থেকে ফিরে আসি।

বিভিন্ন রকম পাথর

লেকের পানিতে জেলেরা মাছ ধরছেশহরে ফিরতে ফিরতে প্রায় একটা বাজে। খিদা লেগেছে প্রচুর। সিলেট আমি যতবার গিয়েছি, প্রতিবারই উনদালে খেয়েছি। ওদের খাবার খুব ভালো লাগে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। আমরা দুপুরের খাবার খেতে যাই উনদালে। জুমার নামাজ পড়তে হবে। উনদালের পাশেই মসজিদ ছিল। খাবার অর্ডার করে গিয়ে নামাজ পড়ে আসি। ওদের যে কয়টা আইটেম ট্রাই করেছি, সব গুলোই ভালো লেগেছে। রান্নার স্টাইল ভিন্ন। খুব সুন্দর করে রান্না করে।

খাওয়া দাওয়া করে আমরা আরেকটা সিএনজি ঠিক করে নেই। এবার গন্তব্য খাদিমনগর জাতিও উদ্যান। ঐখানে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ট্রি এক্টিভিটি এবং জিপ লাইন অ্যাডভেঞ্চার। কিন্তু সময় নিয়ে গেলে ঐখানে একদিন কাটানো যাবে। ট্রেকিং করা যাবে। আমরা তো বিকেলের দিকে গিয়েছি। শহরের কাছেই। যখন শহর থেকে ভেতরের দিকে যাচ্ছিলাম বনের ভেতর দিয়ে, তখন ভাবতেছিলাম এখানে ট্রি এক্টিভিটি, জিপ লাইনিং কই? অনেক দূর যাওয়ার পড় একটা টিকেট বুথ দেখতে পেলাম। টিকেট বুথে কাউকে না দেখে আরেকটু সামনে গেলাম। তখনো কাউকে দেখলাম না। এরপর জিপ লাইন দেখে আমরা সিএনজি থেকে নামলাম। অপর পাশে ঘর দেখে চিৎকার দিকে ডাকলাম কেউ আছেন? হ্যালোওওও ..

অপর পাশ থেকে সাড়া মিলল। জিজ্ঞেস করলাম জিপ লাইন করা যাবে কিনা। বলল যাবে। অপর পাশে যেতে। যাওয়ার রাস্তা দেখিয়ে দিল। সিঁড়ি করা। আমরাও গেলাম।

যাওয়ার পর দেখলাম আসলে সুন্দর ব্যবস্থা। যারা রাতে টেন্টে থাকতে চায়, তাদের জন্য টেন্ট রয়েছে। রয়েছে এক গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার জন্য ট্রি এক্টিভিটি। যারা বাচ্চাদের নিয়ে যাবে, তারাও যেন অ্যাডভেঞ্চার করতে পারে, তাদের জন্য ও জিপ লাইনিং রয়েছে।

এন্ট্রি ফি মাত্র ১০ টাকা + ভ্যাট। আর জিপ লাইনিং এর জন্য ১০০ এবং ট্রি এক্টীভিটির জন্য ১০০ টাকা। পুরো প্রজেক্টটা US এইডের। আমরা ট্রি এক্টিভিটি করলাম। ঐটা খুব সহজ মনে হবে। কিন্তু করতে গেলে মোটামুটি ঘাম ঝরে যাবে। এক্সাটিং ও বটে। জিপ লাইনিং ৩ সেকেন্ডেই শেষ। ছোট। যদিও শিলং গিয়ে এর থেকে অনেক বড় জিপ লাইনিং করে এসেছি। তারপর ও ভালো লেগেছে।

ট্রি অ্যাক্টিভিটি

 

ট্রি অ্যাক্টিভিটি

সব শেষ করে আমরা রওনা দিলাম শহরের দিকে। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই আমাদের সিএনজি নষ্ট হয়ে যায়। এমন এক জায়গা, যেখানে হেল্প পাওয়াও মুশকিল। অনেক চেষ্টা করেও সিএনজি স্টার্ট নিচ্ছিল না। সত্যিকারের অ্যাডভেঞ্চার হয়ে যাচ্ছিল। পরে অন্য সিএনজি ড্রাইভার এসে অনেকক্ষণ চেষ্টা করে ঠিক করে দিল। এরপর কিছুদূর পর আবার নষ্ট হল। যদিও ততক্ষণে আমরা মেইন রোডে চলে এসেছি। অনেকক্ষণ পরেও যখন ঠিক হচ্ছিল না, তখন অন্য সিএনজি করে আমরা চলে আসি শহরে।

শহরে এসে ঘুরতে যাই সাস্টে। আমাদের সাথে যোগ দেয় রায়হান ও আতিক ভাই। সাস্টে গিয়ে ফুসকা চটপটি খাই আমরা। এরপর চা খাওয়ার কথা বললে রায়হান ভাই উনার বাসায় নিয়ে যায়। ঐখানে আবার চা নাস্তা খেয়ে নেই। কিছুক্ষণ বসে গল্প করি।

আমরা একদিনের প্ল্যান করে সিলেট যাই। রাত ১১.৩০ এর টিকেট। রায়হান ভাই এর বাসা থেকে চলে যাই নবাব কিচেনে। জেলগেটে। নবাব কিচেন যে বিল্ডিং এ, ঐ বিল্ডিংটা সুন্দর। ঐটার ছাদ থেকে জেলখানাও দেখা যায়। যদিও রাতের বেলা হওয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

পেটে জায়গা খুব একটা ছিল না। এরপরও নবাব কিচেনে বসে আমরা রুমালি রুটি এবং কাবাব খেয়ে নেই। খাওয়া দাওয়া করে চলে আসি বাস স্ট্যান্ডে। হাতে কিছু সময় থাকায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সবাই মিলে গল্প করি, চা খাই। এবং এক সময় বাসে উঠে পড়ি। এনা বাস! এবার যদিও ভালো সিট। সারাদিন অনেক ঘুরাঘুরি করেছি। বলা যায় টায়ার্ড। বাসে উঠে খুব আরাম করে ঘুমিয়ে পড়ি। বিরতি দিলেও নামার ইচ্ছে হয়নি। ভোরের দিকে ৩০০ ফিট বসুন্ধরার গেটে আমাদের নামিয়ে দেয়। যে যার বাসায় ফিরি। সুন্দর একটা ট্যুর শেষে।

One thought on “সিলেটের ভোলাগঞ্জ এবং খাদিমনগরে একদিন

Leave a Reply