মুড

কোন কিছু করা নির্ভর করে আমাদের মুডের উপর। মুড নির্ভর করে মস্তিষ্ক থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন হরমনের জন্য। কিছু কিছু কথা শুনলে আমাদের মুড পরিবর্তন হয়। কিছু লেখা পড়লে নিজেদের কাছে ভালো লাগে। কিছু কিছু লেখা মটিভেশন হিসেবে কাজ করে। আমাদের কাজ করার আগ্রহ বেড়ে যায়। নিজের মনের মধ্যে একটু শক্তি পাওয়া যায়।

মানুষকে উৎসাহ খুব কম মানুষই দিতে পারে। আপনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করুন, কেউ ফিরেও তাকাবে না। কিন্তু যারা ভালো উৎসাহ দিতে পারে, তাদের কথা সবাই কি সুন্দর মনোযোগ দিয়ে শুনে। উৎসাহ জিনিসটা এনজাইমের মত কাজ করে। স্বাভাবিক কাজ কর্ম বা পড়ালেখায় একটা বুস্ট হিসেবে কাজ করে।

ঠিক একই কারণে আমরা আজ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই সাতই মার্চের ভাষণ। ঐটা কি মটিভেশনাল স্পিক ছিল না? ‘ … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে… এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

একজন নেতার সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে উৎসাহ দিতে পারা। যে নেতা যত ভালো করে উৎসাহ দিতে পারে, তার টীম তত প্রোডাক্টিভ। এটা হোক কর্পোরেট টিম, হোক কোন সৈন্য বাহীনির টিম।

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের মটিভেশনের দরকার হয়। ভালো কিছু করার জন্য মটিভেশনের দরকার হয়। আমাদের মস্তিষ্ক খুবি অলস। এর থেকে কিছু আদায় করতে হলে একে উৎসাহ দিতে হয়। ছোটবেলায় আমাদের বলত, যদি পরীক্ষায় ভালো করিস, তাহলে তোকে সাইকেল/ মোটর সাইকেল/ প্লে স্টেশন ইত্যাদি কিনে দেওয়া হবে। তখন আমরা আগের থেকে একটু বেশি উৎসাহ নিয়ে পড়ালেখা করার চেষ্টা করতাম। ছোট বেলায় আমাদের মা বাবা আমাদের উৎসাহ দিত। বড় হওয়ার পর নিজের উৎসাহ নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়। এ জন্যই আমরা বিভিন্ন লেখা পড়ি, বিভিন্ন ইভেন্টে যাই, উৎসাহ মূলক কোন কথা শুনে বাসায় ফিরে আসি। আরেকটু বেশি উৎসাহ নিয়ে কাজে মনোযোগ দেই।

মাঝে মধ্যে আমরা পথ হারিয়ে পেলি। কোন পথে যাবো, নিজে নিজে ভেবে বের করতে পারি না। মটিভেশনাল লেখা বা বক্তৃতা গুলো পথ দেখানোর মত কাজ করে। তখন এই ধরনের লেখা বা বক্তৃতা গুলো পথ দেখায়।

আমরা কিছু কিছু জিনিস দেখে বা পড়ে শিখি। কিছু কিছু জিনিস নিজে নিজে করে। এখনকার সময় গুলো খুব দ্রুত পরিবর্তনশীল। সব কিছুই যদি আমরা নিজে করে শিখি তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভব না। মটিভেশনাল লেখা গুলোতে বিভিন্ন সফল মানুষদের উদাহরণ দেওয়া থাকে। তারা কিভাবে করেছে, তাদের বাঁধা গুলো কি ছিল, কিভাবে বাঁধা গুলো অতিক্রম করেছে ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। এগুলো পড়লে নিজের আইডিয়া বাড়ে। নিজে কিছু করার সময় ঐ বিষয় গুলো মাথায় থাকে। এ ছাড়া এমন এমন কিছু বিষয় জানা যায়, যা আমরা চিন্তাও করি নি। নতুন পথ আমাদের সামনে উন্মুক্ত হয়।

কোন কিছু করার আগে কেউ যদি শুরুতেই বলে, তুই বেটা পারবি না। তাহলে আমরা হয়তো চেষ্টাও করব না। যদি উৎসাহ দিয়ে বলে চেষ্টা করে দেখ, পারবি, তাহলে চেষ্টা করি। অন্তত এতটুকু তো বুঝতে পারি, নিরুৎসাহিত করা কতটা ক্ষতিকর। কোন কিছু অঙ্কুরেই বিনিষ্ট করার মত।

আমাদের সবার নিজস্ব বুদ্ধি রয়েছে। আমাদের এক এক জনের চারপাশের অবস্থা এক এক রকম। একই ফর্মুলা সবার জন্য কাজে লাগবে না। এখানেই নিজ বুদ্ধি। নিজের চারপাশে অবস্থা বিবেচনা করে ফর্মুলাটা কাস্টোমাইজেশন করে নেওয়া। আর বেশি কিছু না 🙂

2 thoughts to “মুড”

  1. অনেক সুন্দর কন্টেন্ট ।। খুব ভাল লাগল।এবং বাস্তব ভিত্তিক কথা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *