বিষণ্নতা এবং ধৈর্য্য

মাঝে মাঝে যখন বিষণ্নতায় ভুগি, সত্যিকার অর্থে তখন কাছে কাউকে পাওয়া যায় না। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নিজের সমস্যার কথা আসলে কেউ শুনতেও চায় না। দুই একজন শুনলে হয়তো দেখা যায় নিজের সমস্যা দেখে তারা উল্টো খুশি হয়। নিজের যত ভুল আছে, সব গুলো মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় ঐ ভুল গুলোর ফলাফল হচ্ছে বর্তমানের সকল সমস্যা।

ভুল সবাই করে। সবার ভুল হয়। তাছাড়া একজের কাছে যেটা ভুল, অন্যের কাছে হয়তো ঐটা সঠিক। একটা দৃষ্টিকোণ থেকে যেটা ভুল, অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে হয়তো ঐটা সঠিক। আমরা সবাইকে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখি। ভুলে যাই যে হয়তো আমরটাই সঠিক না।

পৃথিবীতে সবাই সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত। নিজের অনুভূতির মূল্য অন্যের কাছে শূন্যের কাছাকাছি। এখানে সবার আগে আমরা যা শিখতে পারি, তা হচ্ছে নিজেকে ভালোবাসতে শেখা। সব পরিস্থিতিতে নিজেকে শান্ত রাখা। অন্যের পাশে দাঁড়ানোর আগে নিজের পাশে নিজে দাঁড়াতে শেখা।

দেখবেন আপনি যদি কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে চান, হয়তো তাদের কাছে কোন মূল্যায়নও পাবেন না। তাদের কাছে গেলে তারা দূরে সরে যাবে। তাদের ইম্প্রেস করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হবেন। এ ক্ষেত্রে করণীয় কি জানেন? নিজেকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করা। নিজের যা ভালো লাগে, তা করার চেষ্টা করা। ভালো লাগার মত কিছু খুঁজে নেওয়া। যখন আপনি নিজের ভালো লাগার পেছনে সময় দিবেন, নিজেকে ইম্প্রুভ করার চেষ্টা করবেন, তখন আস্তে আস্তে আপনার চারপাশে মানুষ ভিড়তে শুরু করবে। এক সময় আপনি সবাইকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করেছিলেন। এখন অন্যরা আপনাকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করবে।
আমরা যা চাই হয়তো তার সব কিছুই পাবো না। আমাদের যা আছে, তা হয়তো কখনোই পারফেক্ট হবে না। এটাই হয়তো জীবনের নিয়ম। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেলে হয়তো যা চাই, তার থেকে অনেক ভালো কিছু পাওয়া যাবে বা পাওয়া যায়।

সবাই জীবনের কিছু না কিছু সময় খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। কেউ হয়তো মানষিক কষ্টে ভুগে, কেউ আর্থিক, কেউ শারিরীক। যে সমস্যাই হোক না কেন, একদিন না একদিন তা কেটে যাবে। দরকার ধৈর্য্য ধরা। যত খারাপ সময়ই আসুক না কেন, হাল ছেড়ে না দেওয়া। শেষ দেখে ছাড়া। শেষ দেখে একটা বিজয়ের হাসি দেওয়া। বুঝিয়ে দেওয়া, যতটুকু দুর্বল ভেবেছে সবাই, ততটুকু দুর্বল নই। অনেক অনেক সবল। অন্তত মানষিক ভাবে।

2 thoughts to “বিষণ্নতা এবং ধৈর্য্য”

  1. হে প্রতিটা মানুষর এই জিনিস
    টা প্রয় জন ধৈর্য্য দন্যবাধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *