অপরূপ সুন্দর বালি দ্বীপ  ভ্রমণ

বালি ভ্রমণের প্ল্যান এবং টিকেটিং

কোথাও ট্যুর দিতে ইচ্ছে করছিল। দেশে অনেক গুলো ট্যুর দেওয়া হয়েছে। পছন্দের লিস্টে আছে ইন্ডিয়ার শিলং, কাশ্মীর, থাইলেন্ড, সিঙ্গাপুর এবং মালদ্বীপ।

ঐদিন সাইদুর ভাইয়ের সাথে কথা বলতেছিলাম ট্যুর নিয়ে। সাইদুর ভাই বলল বালি থেকে ঘুরে আসতে। বলল আমার নাকি পছন্দ হবে। সমুদ্র আর পাহাড়, দুইটাই রয়েছে এক জায়গায়। যাওয়ার প্রসেস জানা শুরু করলাম। ইন্দোনেশিয়ায় ভ্রমণের  জন্য ভিসা লাগে না। অন এরাইভাল ভিসা পাওয়া যায়। দরকার শুধু টিকেট আর হোটেল বুকিং।  একটু সার্চ করে দেখি আসলেই সুন্দর জায়গা। ঐদিনই একটু সার্চ করে ভাবছি এয়ার টিকেট কাটব। পরে দেখি বাংলাদেশের ভিসা ডেভিড কার্ড দিয়ে কাটা যায় না।

আমার কাছে পেওনিয়ার কার্ড ছিল। ঐটাতে পর্যাপ্ত ডলার ছিল না। আর আমার সব গুলো কার্ডই লোকাল। ক্রেডিট কার্ড করতে ইচ্ছে করেনি অনেক গুলো কারণে। ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত ডলার ব্যবহার করা যায়। EBL এর একুয়া কার্ড সম্পর্কে জানতাম আগে থেকে। ট্রাভেলিং এর জন্য জোস। এপ্লাই করলে একটা মাস্টার কার্ড দিবে। পরে ঐ কার্ডে টাকা ঢুকানো যাবে। দুইটা অপশন আছে। একটা হচ্ছে ডলার, আরকেকটা হচ্ছে টাকা। টাকা ঢুকানোর সময় বলে দিতে হয় ডলার হিসেবে জমা হবে নাকি টাকা হিসেবে। ডলার হিসেবে টাকা ঢুকালে পরে ঐ টাকা যে কোন দেশ থেকেই তোলা যাবে। আমি পরেরদিন গিয়ে একটি কার্ডের জন্য এপ্লাই করলাম। সাথে সাথেই কার্ড দিয়ে দিয়েছিল। অপেক্ষা করলে নিজের নাম সহ পাওয়া যেত। ইচ্ছে করেই তা করিনি।

আপওয়ার্কে ঢুকে দেখি কিছু ডলার জমা হয়ে আছে। পেওনিয়ারে ট্রান্সফার করে নিলাম সেগুলো। ৩৭০ ডলারের মত ছিল। আল-আমিন ভাইকে বলার পর উনি ১০০ ডলার পাঠিয়েছে। skyscanner.net  এ সার্চ করে দেখে নিলাম কোন এয়ারলাইন্সে কম ফেয়ার কম আসে।  দেখলাম যাওয়ার সময় Scoot এয়ারলাইন্স সাশ্রয়ী। আসার সময় এয়ার এশিয়া।  পেওনিয়ার দিয়ে পেমেন্ট দিয়ে দিলাম। সব কিছু নিজে নিজে। একটু কিছু ভুল হলে সব গড়বড় হয়ে যাবে। জানি না সব ঠিক মত হবে কিনা, আল্লাহ ভালো জানেন। ১২ তারিখে ফ্লাইট। ইনশাহ আল্লাহ ১৩ তারিখে বালি পৌছাবো। Scoot এয়ারলাইন্স টিকেট প্রসেসিং এর জন্য প্রায় ১৪ ডলার কেটেছে। আর এয়ার এশিয়া কেটেছে ৪ ডলার মাত্র। এই প্রসেসিং ফি বুকিং এর সময় দেখায় না।

এর আগে একা একা দার্জিলিং ভ্রমণ করতে যেয়ে কত যে ভুল করেছি। ফ্লাইট মিস করেছি, ট্রেন মিস করেছি। এভাবেই ঐ ট্যুরটা শেষ হয়েছে, যদিও অনেক গুলো ভালো   নিয়ে। এবার   জানি না কিভাবে কি হবে। অনেক এক্সাইটমেন্ট  কাজ করছিল। আজ মাত্র ৮ তারিখ। ১২ তারিখ আসতে এখনো ৩ দিন। টিকেট কিনে, হোটেল বুক করে বাসায় বসে অপেক্ষা করা একটু কষ্টকর বটে। আমি বাংলাদেশে থাকলে আমার মন ততক্ষণে বালিতে।

হোটেলের জন্য  Airbnb এ সার্চ দিলাম। ১২ ডলারের মধ্যে অনেক হোটেল পেয়ে গেলাম। কিন্তু দেখা গেলো ঐ গুলো মূল স্পট থেকে একটু দূরে দূরে। ১৫ ডলারের মধ্যেও অনেক হোটেল। Kuta EchoStay কনফার্ম করলাম। পেওনিয়ার দিয়ে পে করেছি এখানেও। তিন রাতের জন্য প্রসেসিং ফি সহ প্রায় ৫০ ডলার।

এয়ার টিকেট এবং হোটেল মিলিয়ে টাকায় প্রায় ৩১ হাজারের মত লেগেছে। Dhaka to Bali $198, Bali to Dhaka $130। হোটেল $50। টিকেট কাটার আগে এশিয়ান হলিডেজ এ গিয়েছিলাম প্যাকেজের জন্য। ট্যুর বা ট্রাভেল লিখে গুগলে একটু সার্চ করলেই ফেসবুক আপনার হোম পেইজ বিভিন্ন স্পন্সর পোস্ট দিয়ে ভরিয়ে ফেলবে। আমি ওদের এড দেখেই গিয়েছিলাম। এয়ার টিকেট এবং হোটেল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। যখন শুনল আমি একা যাবো, তখন বলল প্রাইস আরো বাড়বে, কারণ হোটেল  রুম গুলো দুইজনের জন্য। পরে এসে নিজে নিজেই সব করলাম।  যদিও ওদের যে সব হোটেলের সাথে এফিলিয়েট, সেগুলো 3 Star মানের যা ৩০-৩৫ ডলারে পাওয়া যায়।

বালি সম্পর্কে একটু একটু জানতাম। ছোট্ট একটা দ্বীপ। ভাবলাম ৩ দিনই যথেষ্ট। ৪ দিন তিন রাত বলা যায়। পরে বিভিন্ন ব্লগ পড়ে জানতে পারলাম এখানে আসলে ৭-৮ দিন ঘুরার মত স্পট এবং এক্টিভিটিজ রয়েছে। যাই হোক, আগে গিয়ে দেখি। ভালো লাগলে ইনশাহ আল্লাহ হয়তো আবার কখনো বেশি সময় নিয়ে যাওয়া যাবে।

১১ তারিখ রাতে বসে বসে প্ল্যান করলাম। আগেও একটু একটু করে তথ্য গুলো সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ম্যাপে দেখে কোথায় কত সময়ের মধ্যে যাওয়া যাবে, তার আশে পাশে কি কি দেখা যাবে এসব আরকি, যেন সময়ের সঠিক ব্যবহার করা যায়।

১০ তারিখের দিকে Abdullah Al Mahmud ভাই বলল উনিও যাবে। আমি বললাম টিকেট কেটে নেন। উনি টিকেট কেটে নিলো।

ফ্লাইট

ফ্লাইট ছিল সকাল ৯টায়। এয়ারপোর্ট পোঁছেছি সাড়ে ছয়টার দিকে। এরপর বোর্ডিং পাস নিলাম। স্কুট এয়ারলাইন্স সলো এবং বাজেট ট্রাভেলিং এর জন্য দারুণ। বাড়তি কোন কিছু হলেই বাড়তি টাকা লাগে। আমার সামনে এক ভদ্রলোক একটা ট্রলি নিয়ে এসেছে। ট্রলি থাকলে তা আগেই বলে দিতে হয়, টিকেট কেনার সময়। তার জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। কিন্তু ঐ ভদ্রলোককে যে টিকেট কিনে দিয়েছে, সে জানিয়ে দেয় নি। পরে উনাকে এক্সট্রা ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ট্রলিটার জন্য। ব্যাকপ্যাকে ১০ কেজি পর্যন্ত ফ্রিতে ক্যারি করা যায়।

বোডিং পাস নেওয়ার পর ইমিগ্রেশন। ইমিগ্রেশনের জন্য ছোট্ট একটা ফরম পূরণ করতে হয়। এরপর লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশন পাস করতে হয়। অনেক গুলো এয়ার, অনেক দেশের যাত্রী। সবাই লাইনে দাঁড়ানো। আমি পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন ফরম এবং বোর্ড পাস দেওয়ার পর দেখা গেলো বাংলাদেশ বিমানের একটা ফ্লাইটের সময় হয়েছে। তাই ওদেরকে আগে দেওয়ার জন্য বলল। আমার কাগজ পত্র ফিরিয়ে দিয়ে অপেক্ষা করতে বলল।

আমি কয়েক দিন আগে নতুন পাসপোর্ট করেছি। আগেরটা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে। ইমিগ্রেশন অফিসার জিজ্ঞেস করল কোথায় যাবো, রিটার্ণ টিকেট করছি কিনা, হোটেল বুকিং করছি কিনা। দেখাতে বলায় মোবাইলে দেখালাম। এরপর সীল মেরে পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস পেরত দিল। আগের পাসপোর্ট ও সাথে রেখেছিলাম যদি দরকার পড়ে, এ চিন্তা করে। এবং এয়ার টিকেট ও হোটেল রিজার্ভেশনও প্রিন্ট করে রেখেছিলাম। যদিও এসবের কিছুই দরকার পড়েনি।

ইমিগ্রেশন শেষে এশার নামাজ পড়ে নিলাম। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বোর্ডিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বোর্ডিং পার হওয়ার সিকিউরিটির এখ প্যান্ট এর বেল্টও খুলতে হলো। এসব পার হয়ে বিমানে।

স্কুট এয়ারলাইন্স এতই বাজেট যে এরা কোন স্ন্যাক্সও প্রোভাইড করে না যাত্রার সময়। কিছু খেতে হলে এখান থেকে কিনে তারপর খেতে হবে। মোটামুটী অনেক প্রাইস দিয়েই কিনতে হবে। ১০ ঘন্টার মত জার্নি। ক্ষুদা লাগতেই পারে চিন্তা করে আমি কিছু চকলেট কিনে নিয়েছিলাম। ট্রাভেলিং এর জন্য পারফেক্ট।

সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে এসে নেমেছি ৩টার দিকে। চার ঘন্টার ফ্লাইট ছিল। এটা হচ্ছে সিঙ্গাপুরের লোকাল টাইম। বাংলাদেশ থেকে দুই ঘন্টা বেশি এখানে।

এই এয়ারপোর্টের প্রায় সব কিছুই অটোমেটেড। টার্মিনাল ২ এ বের হয়েছি আমরা।  এয়ারপোর্টে নেমে সবার আগে কি করেছি? ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড খুঁজে বের করেছি। এয়ারপোর্টে ফ্রি ইন্টারনেট রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বুথ আছে। ঐখানে আপনার পাসপোর্ট স্ক্যান করলে একটা পাসওয়ার্ড দিবে। এরপর ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করতে পারবেন। ভালোই স্পিড।

দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে খাবার খাওয়া। অনেক গুলো ফুড স্টল আছে। একটা ফুড ভিলেজও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন চেইন ফুড শপ রয়েছে। সাবওয়েতে আমরা অর্ডার করতে গেলে জিজ্ঞেস করল আমরা মুসলিম কিনা। হ্যা বলার পরে বলল উনারা হালাল ফুড সার্ভ করে না। পাশেই ম্যাকডোনাল্ড দেখিয়ে দিল। ম্যাকডোনাল্ড থেকে বার্গার, ফ্রাই, ড্রিঙ্কস নিয়ে খেয়ে নিলাম। এখানে দারুণ সব কফি স্টল রয়েছে। কফিও নিয়ে নিলাম একটা। এখানে অনেক গুলো জায়গায় ফুট ম্যাসেজ নেওয়ার ব্যবস্তা রয়েছে। অটোমেটেড এবং ফ্রি। কিছুক্ষণ ফুট ম্যাসেজ নিলাম।

এরপর ঘুরতে বের হলাম। মোট চারটা টার্মিনাল। এক একটা টার্মিনাল অনেক বড়। দুই নাম্বার টার্মিনাল থেকে গেলাম ৩ নং টার্মিনালে। ৩নং টার্মিনালে যাওয়ার পর নামাজের জায়গা চোখে পড়ল। ফজরেরও সময় হয়েছে। নামাজ পড়ে নিলাম। নামাজের রুম আর মেডিটেশন রুম একটাই। দুই একজনকে দেখলাম মেডিটেশন করতে। তিন নং টার্মিনাল থেকে গেলাম এক নং টার্মিনালে। টার্মিনাল গুলো একটু দূরে দূরে। মাঝখান দিয়ে আবার শহরের রাস্তাও রয়েছে। আর একটা টার্মিনাল থেকে আরেকটাতে যাওয়ার জন্য স্কাই ট্রেন রয়েছে। অটোমেটেড। প্রতি তিন মিনিট পর পর একটা থেকে আরেকটাতে যাওয়া আসা করে।

আমাদের ট্রানজিট টাইম হচ্ছে ৪ ঘন্টা। ঘুরাঘুরি  করতে করতে সময় গুলো পার হয়ে গেলো। ফিরে আসলাম টার্মিনাল দুই এ।

সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে সব দেশেরই মানুষের সাথে দেখা মিলবে। বৈচিত্রতা। মনে হবে পৃথিবীটা আসলেই অনেক বৈচিত্রময়। ট্রানজিটে অনেকেই এখানে অবস্থান করে। কেউ ঘুমায়, কেউ কাজ করে, কেউ আড্ডা দেয়, যে যা চায় তাই করার সুযোগ রয়েছে এখানে। সব জাতির কথা চিন্তা করেই ডিজাইন করা এয়ারপোর্টটি।

বালিতে প্রথম দিন

বালিতে ল্যান্ড করেছি লোকাল টাইম সাড়ে নয়টার দিকে। ইমিগ্রেশন এত সহজ মনে হয় না আর কোন দেশে হয়। আমরা গেলাম, ইমিগ্রেশন অফিসারকে পাসপোর্ট দিলাম, কয়দিন থাকব বললাম, ফ্লাইট নাম্বার বললাম। পাসপোর্টে ভিসা সীল মেরে দিয়ে দিল।  শেষ!

এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েছি আশে পাশে দেখব বলে। এছাড়া আমি হোটেলে বলে রেখেছিলাম ১২টায় চেকইন করব। ভাবলাম চারপাশ দেখে যাই। বের হওয়ার পর এখানের স্কুটি চালকেরা  বা ট্যাক্সি চালকেরা জিজ্ঞেস করে ট্যাক্সি বা স্কুটি লাগবে কিনা। আমরা যখন বলি চারপাশ ঘুরে দেখব, তখন  নিজেরাই পথ দেখিয়ে দেয়। পরে ভাবলাম স্কুটি যেহেতু এত কম টাকায় পৌছে দিতে চাচ্ছে, আবদুল্ললাহ ভাইকে বললাম চলেন যাই।  দুইজন দুইটা স্কুটির পেছনে উঠে পড়লাম। ওরা গুগল ম্যাপ দেখে দেখে হোটেলের সামনে এনে রাখল। হোটেল প্রায় সাড়ে চার কিলো দূরে। দুইটা স্কুটির জন্য নিয়েছে 34k। যা প্রায় আড়াই ডলারের মত। একা একা আসলে মনে হয় না ট্যাক্সির দরকার আছে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হলেই স্কুটি পাওয়া যাবে। অনলাইনে অনেকেই বলল দেখলাম ট্যাক্সি ওয়ালারা বেশি চার্জ করে। যদিও ফিক্সড প্রাইসের ট্যাক্সিও আছে এখানে, যেগুলো মিটারে চলে।

হোটেলে পৌছে দেওয়ার পর স্কুটি চালক বলল তাদের স্কুটি ভাড়া পাওয়া যায়। আমার যেহেতু আগেই প্ল্যান ছিল স্কুটি ভাড়া নেওয়ার, তাই রাজি হলাম স্কুটি দেখার। স্কুটি যেখানে ভাড়া দেয়, সেখানে নিয়ে গেলো। আমরা পছন্দ করে তিনদিনের জন্য একটা ঠিক করে নিলাম। 60k/Day। তিনদিনের জন্য 180k, যা মাত্র ১৩ ডলারের মত। স্কুটি সব জায়গাতেই ভাড়া পাওয়া যাবে। আরো কম টাকাতেও ভাড়া পাওয়া যাবে। একটু পুরাতন হলে 40k/Date  তেও পাওয়া যাওয়া কথা। বাইক অথবা গাড়িও এভাবে ভাড়া করা যায়।

স্কুটি এর আগে আমি কখনো চালাই নি। বাইক যেহেতু চালাতে পারি, এটাও সহজে চালাতে পারব ভেবেছি। চাবি ঢুকিয়ে স্টার্ট দিতে গিয়ে দেখি স্টার্ট নিচ্ছে না। কারণ? স্ট্যান্ড উঠানো হয়নি। স্কুটি চালানো আসলেই অনেক সহজ। স্টার্ট দেওয়ার পর এক্সিলারেট করলেই চলতে শুরু করবে।

আমি এবং আমার স্কুটি

স্কুটি ভাড়া করার পরের কাজ হচ্ছে সিম কেনা। সিম কিনে নিলাম 150k  দিয়ে। সিমের দাম সে গুলনায় একটু বেশিই মনে হলো। এরপর একটা লোকাল রেস্টুরেন্টে ঢুকে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম। ভাত, চিকেন বার-বি-কিউ, ডিম, সবজি, ফ্রেশ জুস ইত্যাদি। অনেক গুলো আইটেম থেকে যেটা যেটা খাবো, তা দেখিয়ে দেওয়ার পর ওরা সার্ভ করে দিল। খেতে মোটামুটি লেগেছে। প্রাইসের কথা চিন্তা করলে ভালো খাবারই বলা যায়। 76k বিল এসেছিল দুইজনের যা প্রায় সাড়ে ৫ ডলারের মত।

খাওয়া দাওয়া করে হোটেলে ফিরে রুমে ঢুকলাম। ব্যাক প্যাক রুমে রেখে এরপর স্কুটি নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। প্রথম গন্তব্য বীচ। কুটা বীচ। হোটেলের একেবারে কাছে। ঐখানে গিয়ে এত জগন্য বীচ দেখে চিন্তা করলাম এটি দেখতে মানুষ বালি আসে? এত পলেথিন, প্লাস্টিকের বোতোল, এত ময়লা। যদিও সেগুলো ক্লিন করা হচ্ছে। তারপরও এমন কিছু দেখে খুবি হতাশ হলাম। বেশিক্ষণ না থেকে কফিশফ খুঁজলাম। আগের রাতে ঘুমানো হয়নি একটুও। বিমানে ঘুমানোর চেষ্টা করেছি অনেক, লাভ হয় নি। কফি খেয়ে ঘুম তাড়িয়ে রাখতে হবে। কাছা কাছি ছিল Crum & Coaster। ঐখানে গিয়ে কফি খেয়ে নিলাম।

কফি খেয়ে প্ল্যান করলাম নুসা দুয়া যাবো। নুসা দুয়া যাওয়ার পথে একটা ব্রিজ পড়ে। সমুদ্রের উপর দিয়ে। বিমান থেকেই ঐ ব্রিজটা দেখা যায়। অনেক বিশাল ব্রিজ। ব্রিজে মিনিমাম স্পিড ৬০ রাখতে হয়। সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে, এর মানেই হচ্ছে দারুণ বাতাস। অনেক ভালো লাগার মত। সমুদ্রের উপর দিয়ে স্কুটি চালাতে কি যে ভাল লাগছিল।  ১০০+ স্পিড তোলা এখানে খুবি সহজ। যদিও স্পিড লিমিট ৮০।

ব্রিজের উপর দিয়ে কিছুদূর পর গিয়ে দেখি সব গুলো স্কুটিওয়ালা দাড়িয়ে রেইন কোট বের করছে। আরো কিছুদূর যাওয়ার পর দেখি বৃষ্টি। একপাশে অনেক বেশি রোদ। একপাশে বৃষ্টি। সুন্দর না?  স্কুটির সিটের নিচে ব্যাগ রেখে ভিজতে ভিজতেই চালাতে লাগলাম। অন্যরকম ভালো লাগা। যাওয়ার পথে কিছুদূর রোদ, একটু পরেই আবার বৃষ্টি। আবার কিছুদূর পরেই আবার রোদ। অদ্ভুত একটা আবহাওয়া। এক এক টা জায়গায় এক এক রকম আবহাওয়া।  কিছুক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজি, কিছুক্ষণ পর রোদে সব শুকিয়ে যায় এভাবেই চলছিল।

নুসা দুয়া গিয়ে দেখলাম সত্যিকারের বীচ কেমন সুন্দর হতে পারে। বালি গুলো সাদা। পানি গুলো অনেক নীল। আবদুলল্লাহ ভাই গোসল করতে নেমে গেলো। আমি ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। মুভি গুলোতে যেমন বীচ দেখায়, ঠিক তেমন। ঐরকম মানুষও আছে আরকি। এই পথম বালি ভালো লেগে উঠল।

নুসা দুয়ার সমুদ্র সৈকত

এখানে কিছুক্ষণ থেকে অন্য দিকে যাওয়ার প্ল্যান করলাম। রাস্তা ভুল করে একটা পথে ঢুকে গেলাম। অনেক সুন্দর সে রাস্তা। ভুল যেহেতু করেছি, আরো করি। চলে গেলাম তার শেষ মাথায়। বীচে গিয়ে শেষ হয়েছে। ঐখান থেকে সুন্দর ভিউ দেখা যায়। পাহাড়ের উপর থেকে। নামা যায় না। সুন্দর সে ভিউ। এরপর আমরা রওনা দিলাম উলুয়াটু টেম্পেলের দিকে।

উলুয়াটু টেম্পেলের এখানে ত্রিশ হাজার রুপি দিয়ে টিকেট কাটতে হয়। আবার একটা কাপড়ও পড়তে হয়। টেম্পেল এলাকায় ঢুকলাম। এখানে প্রচুর বানর। এগুলো পর্যটকদের জুতা, চশমা বা যেটা সুযোগ পায়, ঐটায় নিয়ে যায়। ঐখানে গিয়েই দেখলাম একটা বানর একজনের জুতা খাওয়া শুরু করেছে। একটু পরেই দেখলাম একজন মহিলার চশমা নিয়ে গিয়েছে। এরপর ঐখানে একজন একটা বাদামের প্যাকেট ঐ বানরের দিকে ছুড়ে দেওয়ার পর চশমা রেখে ঐ বাদামের প্যাকেটটা নিয়েছে। মহিলার চশমটা ঐভাবেই ফেরত পেয়েছে। একটা ছোট্ট মেয়ের জুতা নিয়ে যাওয়ার পর কি যে কান্না তার। জুতা ফেরত পাওয়ার পরও কান্না থামে না।

উলুয়াটু টেম্পেল এলাকায় পর্যটকের ভিড়

এই টেম্পেলটি পাহাড়ের উপর। পাহাড়ের পরেই সমুদ্র। পাহাড়ের গায়ে সাগরের ঢেউ এসে পড়ছে। নীল পানির ঢেউ, সুন্দর সে দৃশ্য। এখানে চারদিকে ছোট্ট করে দেয়াল দেওয়া। দেয়াল টপকে একটা জায়গায় যাওয়া যায়। আমরাও গেলাম। গিয়ে কি যে ভালো লাগল। এখানে অল্প দুই একজন আসে পর্যটক। নিরিবিলি। সাগরের ঢেউ পাহাড়ে আছড়ে পড়ার শব্দ। আর বাতাস। মন জুড়ানো বাতাস। ঐখানে গিয়ে বসার পর আর উঠতে ইচ্ছে করছিল না। অনেক্ষণ বসে ছিলাম ঐভাবে। সন্ধ্যার একটু আগে আবার টেম্পেলের দিকে গেলাম। অন্য পাশেও অনেক দূর যাওয়া যায়। বসার জন্য সুন্দর যায়গা। সূর্যাস্ত দেখা যায় সুন্দর ভাবে। আকাশ মেঘলা থাকায় সূর্য ডুবাটা দেখা যাচ্ছিল না। আমরা এরপর আস্তে আস্তে বের হয়ে এসেছি টেম্পেল থেকে।

উলুয়াটু টেম্পেলের পাশের সিক্রেট এরিয়া
উলুয়াটু টেম্পেলের অন্য পাশ

 

টেম্পেলের এখানে একটি বানরের দিকে ক্যামেরা ফোকাস করার পরই সে দাঁত বের করে হাসি দিল 😀

টেম্পেল থেকে বের হয়ে জিম্বারান এর দিকে গেলাম। এখানে নাকি সী ফুড পাওয়া যায়। গুগল ম্যাপে জিম্বারান লিখে সার্চ করার পর আমাদের একটা এরিয়াতে নিয়ে গেলো। গিয়ে দেখি ঐখানে সী ফুডের কিছুই নেই। মানুষের ঘর বাড়ি। ফিরে সী ফুড যেখানে খাওয়া যায়, তা খুঁজে বের করলাম। ভাবলাম হয়তো কোন রেস্টুরেন্টে মাছ থাকবে। অর্ডার দিলে আমাদের তৈরি করে দিবে। তেমনই ছিল। অনেক গুলো সামুদ্রিক মাছের রেস্টুরেন্ট। সামনের দিকে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ। আমরা কোনটা খাবো, তা পছন্দ করে দেওয়ার পর ওরা রেডি করে দিবে। আমাদের বসতে বলল। ভেতরের দিক দিয়ে পেছনে গিয়ে তো অবাক হওয়ার জোগাড়। রেস্টুরেন্ট গুলোর পেছনে হচ্ছে বীচ। আর বীচে টেবিল পাতা। প্রতিটা টেবিলে ক্যান্ডেল। বীচে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ। কি সুন্দর সে পরিবেশ, বোঝানো যাবে না।

ফিস বার-বি-কিউ এর সাথে সালাদ, ড্রিঙ্কক্স ও অন্যান্য কিছু অর্ডার দিলাম। অনেক সুন্দর করে সেগুলো পরিবেশন করে দিয়ে গেলো। সাথে রাইস ও অনেক ধরণের সস। আমরা খেয়ে নিলাম। দারুণ লাগল খেতে। খাবার, পরিবেশ, সার্ভ করা এসবের তুলনায় প্রাইস বলা যায় অনেক কমই। প্রায় 300k বা ২২ ডলারের মত লেগেছিল দুইজনের টোটাল। খাওয়া দাওয়া করে কুটার দিকে ফিরলাম। আমাদের হোটেলে। প্রথম দিন ঘুরেই মনে হলো আমার বালি আসা স্বার্থক।  আমি মোটামুটি টায়ার্ড। ফ্রেশ হয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।

বালিতে দ্বিতীয় দিন

বালিতে এত বেশি গরম। আমি শীতের জামা কাপড় নিয়ে এসেছি। ঢাকায়ও আবহাওয়া ২৪-২৮ ডিগ্রি। সকাল বিকেল একটু একটু ঠান্ডা লাগে। গুগলে সার্চ করে দেখলাম এখানেও প্রায় একই রকম তাপমাত্রা। তাই ভেবেছি হয়তো একটু একটু শীত থাকবে। কিন্তু কিসের কি আমাদের দেশের গ্রীষ্ম কালের মত গরম।

সকালে খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আরো ঘুমাতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু আবার ঘুমালে কখন জেগে উঠি, তার কোন ঠিক নেই। তাই সকালেই উঠে গেলাম। উঠে ফ্রেস হলাম। আবদুল্লাহ ভাইকে তুললাম। সূর্যদয়ের একটু পরই বের হয়ে পড়লাম। গন্তব্য সানুর। ঐখানে সীওয়াক করার জন্য।

ভোর হওয়াতে সব কিছুই বন্ধ। আমাদের নাস্তা করতে হবে। ইচ্ছে ছিল লোকাল কোন খাবার খাবো। কিন্তু  KFC খোলা দেখে ঐখানে গিয়ে ফ্রাইড চিকেন, রাইস আর সালাদ দিয়ে নাস্তা সেরে নিলাম। এরপর রওনা দিলাম সানুরের দিকে। সানুর বীচে খোঁজা খুঁজি করে সীওয়াক করার প্যাকেজ কেনার কোন বুথ খুঁজে পেলাম না। লোকাল মানুষকে জিজ্ঞেস করার পর তারা একটা হোটেল দেখিয়ে দিল। ঐখানে গেলে নাকি করা যাবে। হোটেলের দিকে রওনা দিলাম। Puri Santrian হোটেল। সম্ভবত ঐটা একটা ৫ স্টার হোটেল। সব কিছু কত সুন্দর করেই না সাজানো। হোটেলে পেছনেই বীচ। বীচের পাড়ে চলে গেলাম।

পানিতে বিভিন্ন রাইড দেওয়ার যে বুথ আছে, সেখানে গিয়ে স্নোরকেলিং করার প্যাকেজ নিলাম একটা। ৩৫ ডলার করে প্রতিজন। ডিস্ককাউন্ট দেওয়ার কথা বলার পর ডিসকাউন্ট দিল কিছু। আমরা রওনা দিলাম সমুদ্রের দিকে। একটা বোটে করে।

স্নোরকেলিং করতে যাওয়ার পথে

স্নোরকেলিং হচ্ছে পানির একটু নিচে মাথা নিচের দিকে ডুবিয়ে সমুদ্রের নিচের দিকে দেখা। মাথা যেহেতু নিচের দিকে থাকবে, তাই শ্বাস নেওয়া যাবে না। তার জন্য রয়েছে একটা গিয়ার, উপরের দিকে একটা পাইপ। যা পরলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া যায়। এখানের পানি এত বেশি পরিষ্কার যে সমুদ্রের নিচ অংশ পর্যন্ত দেখা যায়। দেখা যায় প্রবাল গুলো।

সমুদ্রে এমনিতেই অনেক মাছ। এরপর যদি খাবার দেওয়া হয়, মাছের ঝাঁক এসে ভরে যায়। আমরা গিয়ার গুলো পরে নেমে পড়লাম সমুদ্রে। প্রথম কয়েক মিনিট একটু কষ্ট হয়েছে। কিভাবে স্বাস নিতে হয়, তা বুঝতে। বুঝে উঠার পর সমুদ্রের নিচে দেখতে কি যে ভালো লাগছিল। একবারে নিচ পর্যন্ত দেখা যায় সুন্দর করে। প্রচুর প্রবাল। প্রবালের চারপাশে অনেক অনেক মাছ। বিভিন্ন প্রজাতির। ছোট বড় সব ধরনের মাছই দেখা যায়। বোট থেকে বোতলে করে আমাদের মাছের খাবার দিল। ঐগুলো বের করার পর চারপাশে মাছ এসে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। হাত থেকে খাবার খেয়ে নেয়। কি সুন্দর সে অনুভূতি। কিছু কিছু জিনিস লিখে, ছবি তোলে বা ভিডিও করে বুঝানো যাবে না। তেমনি একটা অনুভূতি। অনেক্ষণ ছিলাম পানিতে। প্রায় এক ঘন্টার মত। পানির মধ্যে মাথা ডুবিয়ে শৈবাল, মাছ ইত্যাদি দেখতে কি যে ভালো লেগেছিল।

বোটে করে আমরা বীচে ফিরলাম। জামা কাপড় পরিবর্তন করে সানুর থেকে রওনা দিলাম কুটাতে। হোটেলের দিকে। তখনো সকাল ১১টা। ক্ষিদা লেগেছে। খেতে হবে। আশে পাশে দেখলাম পপাইস নামক রেস্টুরেন্টের রেটিং খুব ভালো। চলে গেলাম ঐখানে। রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই মন ভালো হয়ে যাবে। পুরাটাই ন্যাচারাল।

পপাইজ রেস্টুরেন্টের ভেতরের ইন্টেরিওর

এখানের খাবার গুলোও খুবি দারুণ। সাইদুর ভাই আমাকে বলছিল Nasi Goreng, Nasi Lemak, Laksa soup এসব ট্রাই করতে। আমি Nasi Goreng অর্ডার দিলাম। সার্ভ করা দেখতেই কি যে ভালো লাগছিল। খাবার? খুবি মজার। খাওয়া দাওয়া করে গেলাম স্টারবাকসে। কফি খেতে। এখানে সব সেরা চেইন গুলো রয়েছে। যে সব গুলো বাংলাদেশে নেই, তার মধ্যে স্টারবাকস একটা। গরমের কারণে কেমন একটা টায়ার্ডনেস কাজ করতেছি। কফি খেয়ে রুমে ফিরলাম। এরপর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিলাম।

৩টার দিকে উঠে আমরা রওনা দিলাম টানহা লট টেম্পেলের দিকে। আমি হেলমেট পরলেও আবদুল্লাহ ভাই হেলমেট পরতে ভুলে গিয়েছে। ততক্ষণে আমরা অনেকদূর চলে গিয়েছি। এখানে গাড়ি থেকেও স্কুটি বেশি। ছোট বড়, ছেলে মেয়ে সবাই স্কুটি চালায়। গাড়ি থেকেও দ্রুত চালানো যায় স্কুটি গুলো। রাস্তা গুলোও সুন্দর। কোন রাস্তা আমি খারাপ দেখি নাই। দুই একটা জায়গায় রাস্তা এক্সটেন্ডের কাজ করা ছাড়া বলা যায় সব গুলো রাস্তাই অনেক সুন্দর। অনেক গুলো রাস্তা এক মুখি। একেবারে আবাসিক এলাকা বা ভেতরের রাস্তা গুলোও এক মুখি হওয়ার কারণে একটা সুবিধে হচ্ছে জ্যাম নেই। মেইন রোডে দুই এক জায়গায় সিগনালে পড়তে হয়, এছাড়া আর কোন জ্যাম চোখে পড়েনি। যদিও যারা একবেরা পিক টাইমে যেমন বিভিন্ন পূজা, খ্রিষ্টমাস বা ঈদের সময় আসবেন, তারা হয়তো জ্যামে পড়তে পারেন।

একটা পুলিশ চেকপোস্টে আমাদের ডাকল। আমরা গেলাম। হেলমেটের কারণে ধরেছে। পরে বলল টিকেট করে দিবে। এক মিলিওন… ব্লা ব্লা। যদি ৪০০k রুপিয়া দেওয়া হয়, তাহলে আর টিকেট দিবে না। আর বলল কাল থেকে যেন হেলমেট পরে বাইকে উঠি। আবদুল্লাহ ভাই বলল ২০০k রুপিয়া দিলে হবে না? বলল দিতে। পরে দেখা গেলো আমাদের কাছে 200k রুপিয়া ছিল না। 150k রুপিয়া দেওয়া হলো ওদেরকে। আমাদের এরপর যেতে দিল। বাংলাদেশী টাকায় ৯০০ টাকার মত। বুঝা গেলো এদের পুলিশ ও ঘুষ খায়। 150k দিয়ে একটা হেলমেটই কেনা যেতো।

আমরা আবার টানহা লট টেমপ্লের দিকে রওনা দিলাম। পথে দুই পাশেই প্রচুর ধানক্ষেত চোখে পড়ল। চোখে পড়ল লুয়াক কফির ফার্মও। টানহা লট টেম্পেলে গিয়ে দেখা গেলো আমাদের কাছে টিকেট কেনার মত রুপিয়া নেই। পাশেই মানি এক্সচেঞ্জ রয়েছে। ঐখান থেকে ডলার ভেঙ্গে নেওয়া যাবে। গিয়ে দেখলাম অনেক কম এক্সচেঞ্জ রেট দিচ্ছে। আশে পাশে আর কোন এক্সচেঞ্জ করার বুথ না থাকায় আমরা ফিরে কোথাও থেকে এক্সচেঞ্জ করে নিব ভেবেছি। যখন পেয়েছি, তখন অনেক দূর ফিরে এসেছি আমরা। আমাদের পরবর্তি প্ল্যান ছিল সামায়া ব্রিজ রেস্টুরেন্টে (Breeze at The Samaya Seminyak) গিয়ে খাওয়া দাওয়া করা। এখান থেকে বসেই সূর্যাস্ত দেখা যায় সুন্দর করে। এছাড়া বীচে পাড়ে বসে সমুদ্রের গর্জন, ঠান্ডা বাতাস ইত্যাদির মধ্যে বসে খেতে কার না ভালো লাগবে?

Breeze at The Samaya Seminyak

রেস্টুরেন্টটি অনেক বেশি সুন্দর। অনেক বিশাল এরিয়া নিয়ে। এত সুন্দর করে সব কিছু সাজানো। আমরা চলে গেলাম বীচের পাড়ের দিকে। সুন্দর করে টেবিল গুলো সাজানো। Mie Goring নামক একটা আইটেম অর্ডার দিলাম। Mi মানে নুডুলস, Goring মানে মুরগি। সাথে বীফ স্টেক, ডিম, চিংড়ির ক্রেকার্স ইত্যাদি ছিল।

অর্ডার দেওয়ার পর কমপ্লিমেন্টারি কয়েকটা খাবার দিয়ে গেলো আমাদের। দিয়ে গুলো ফ্রুট মকটেল। ঐগুলো খেতে লাগলাম। এরপর আমাদের মূল খাবার দিয়ে গেলো। আস্তে আস্তে খেতে লাগলাম। ঐখানে বসেই সূর্যাস্ত দেখা যাচ্ছিল। আকাশে মেঘ থাকায় সুন্দর মত দেখা যায়নি সূর্যাস্ত। এরপরও ঐ জায়টা ভালো লাগছিল। আমাদের উঠতে ইচ্ছে করছিল না।

খাবার খাওয়ার পর আবার ফ্রুট মকটেল দিতে বললাম। দিয়ে গেলো। আস্তে আস্তে খেলাম। এত রিলাক্সিং যে, ঘুম আসতেছিল। ঘুম তাড়ানোর জন্য কফি দিতে বললাম। কফি খেয়ে সোফাতে বসে বাকি সময় গুলো কাটাতে লাগলাম। রাত নয়টার দিকে আমরা রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে হোটেলের দিকে রওনা দিলাম। বিল বাংলাদেশী টাকায় দুইজনের প্রায় ৫০০০ এর মত এসেছে। প্রাইসের কথা যদি বলি, স্বাদ এবং পরিবেশের তুলনায় কিছু না।

ঐখান থেকে হোটেলে ফেরার পথে আবার পুলিশ ধরল। বলে টলে ছাড় পেলাম। হোটেলে ফিরে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবার বের হলাম। সারা রাত ধরে এখানে অনেক গুলো রেস্টুরেন্ট বা বারে লাইভ মিউজিক হয়। ভাবলাম এওটু দেখে আসি।  বলা যায় আমাদের হোটেলের কাছেই। বার গুলোর মিউজিক হোটেলের বারান্দা থেকেই শুনা যাচ্ছিল।

দিনে এই রাস্তা একরকম। রাতে অন্যরকম। সব গুলো বার থেকেই উচ্চ স্বরে গান ভেজে চলছে। বেশির ভাগই লাইভ মিউজিক। বার গুলো মুভিতে যেমন দেখেন, ঠিক তেমন। আমরা একটাতে বসলাম। একটু ভেতরের দিকে হওয়াতে কোলাহল একটু কম। মিউজিক গুলো এমন যে আপনার মুড পরিবর্তন হয়ে যাবে ঐখানে ঢুকলে। বারে এমন না যে শুধু এলকোহলই পাওয়া যায়, ফ্রুট জুসও পাওয়া যায়। ফ্রুট জুস অর্ডার দিয়ে খেলাম আস্তে ধীরে। লাইভ মিউজিক উপভোগ করলাম। আমার ঘুম পাচ্ছিল খুব। বের হয়ে হোটেলের দিকে রওনা দিলাম। ঘুমাতে হবে।

বালিতে তৃতীয় দিন

ঘুম থেকে সূর্য উঠার আগেই উঠেছি। এরপর ফ্রেশ হয়ে ল্যাপটপে এটা সেটা করলাম। ৭টার দিকে আবদুল্লাহ ভাইকে উঠালাম। এরপর বের হয়ে পড়লাম নাস্তা করার জন্য। একটা জাপানিজ রেস্টুরেন্টে ঢুকার পর তারা বলল ৮টা থেকে সার্ভ করা শুরু করবে। তখনো ৩০ মিনিট বাকি। আমরা অন্য রেস্টুরেন্টের খোঁজ করলাম। একটু সামনেই একটা পেয়ে গেলাম। Grand Istana Rama Kuta হোটেলের এর রেস্টুরেন্ট। এখানে বুফ্যে ব্রেকফাস্ট করা যাবে, 85k দিয়ে। বাংলাদেশী টাকায় মাত্র ৫০০ টাকার মত। অনেক গুলো আইটেম ছিল। খাবার গুলো খেতেও ভালো লেগেছিল। সে তুলনায় প্রাইস কমই বলা যায়।

খাওয়া দাওয়া করে আমরা রওনা দিলাম উবুদের দিকে। উবুদে দেখার মত অনেক কিছুই রয়েছে। আমাদের হোটেল থেকে প্রায় ৬০ কিলো মিটার দূর। যেতে যেতে প্রায় দেড় ঘন্টার মত লাগল। পাহাড়ি রাস্তা। উঁচু নিচু। স্কুটি চালাতে দারুণ লেগেছিল।  আমরা প্রথমে গিয়েছি Sacred Monkey Forest Sanctuary Ubud এ। এখানে ঢুকার জন্য 50k দিয়ে টিকেট কিনতে হয়। এত বেশি বানর চার দিকে। বনের ভেতরে হাটার জন্য অনেক গুলো রাস্তা। রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে বানরের জন্য খাবার, রয়েছে পানির ড্রেন, যেখান থেকে বানর পানি খেতে পারে। বানর তো বানরই, ট্যুরিস্টদের বিভিন্ন ভাবে উত্ত্যেক্ত করে। হাতে যদি এমন কিছু থাকে, যা মনে হয় খাবার আইটেম, তাই টেনে টুনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঐখানে অনেক সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে যদিও। বানর যেন কোন ট্যুরিস্টের ক্ষতি না করতে পারে, তা সর্বদা পাহারা দেয়।

মাঙ্কি ফরেস্টের পুরোটাই বানর দিয়ে পূর্ণ। ওরা যা করে, তা ছিল দেখার মত।

বানর দেখে আমরা মানুষেরা বলি, কি কিউট বানর ছানা। ওরা কি চিন্তা করে? কি কিউট মানুষের ছানা? 😛  বানর দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। বিভিন্ন দেশের। তাও দেখার মত।

বানরকে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছো? সে বলল মুড নাই। 🙁

মাঙ্কি ফরেস্ট থেকে আমরা গেলাম Campuhan Ridge Walk এ। পাহাড়ের উপর দিয়ে ট্রেকিং করার রাস্তা। মাউন্টেন বাইক নিয়ে গেলে বাইকিং ও করা যাবে। ট্রেকিং করার রাস্তাটা খুবি সুন্দর। পুরাটা এলাকাই সবুজ।  দুই পাশে পাহাড়ের উপর ঘর বাড়ি চোখে পড়বে। এগুলো আসলে সঠিক ভাবে ক্যামেরায় ধারণ করা যায় না। তাই লিখে বা ছবি দিয়ে বোঝানো যাবে না।

Campuhan Ridge Walk

অনেক গরম। রোদে হাঁটতে একটু কষ্টই হচ্ছিল। ঐ দিকে ডাব, ড্রিঙ্কক্স বা অন্যান্য লাইট কিছু খাওয়ার জন্য ছোট ছোট দোকান রয়েছে। আমরা একটাতে ঢুকে ডাব খেলাম। ফ্রেস আম দেখে আমও খেলাম। মিষ্টি পাকা আম। এখানে আমাদের গ্রীষ্মকালীন যত গুলো ফল পাওয়া যায়, তার সব গুলোই এখানে পাওয়া যায়। মজার না বিষয় গুলো? আমাদের দেশে এখন শীত কাল। অথচ ঐখানে গ্রীষ্মকালের মত।

টেবিলের পাশে ছকির মত বিছানা রয়েছে। কিছুক্ষন শরীর এলিয়ে শুয়ে থাকলাম দারুণ লাগছিল। ঐখানে বসে থাকতে থাকতেই আকাশ মেঘলা হয়ে উঠল। আমরা আরেকটু সামনে যাওয়ার চিন্তা করলাম। একটু যেতেই বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। আরেকটি দোকানে বসলাম। দোকান বললে ভুল হবে। খোলা মেলা সুন্দর জায়গা। বসে বসে বৃষ্টি উপভোগ করতে লাগলাম। সাথে কফি। বৃষ্টি যেমন হুট করে আসে, আবার কিছুক্ষণ পর বন্ধ হয়ে যায়। ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই আবার বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলো। আমরা পথ ধরে সামনের দিকে গেলাম। এরপর আবার ট্রেকিং পথ ধরে ফিরে আসলাম স্কুটি যেখানে রেখে গিয়েছিলাম, সেখানে।

ততক্ষণে ঘড়িতে ৩টা। আমাদের খেতে হবে। উবুদে একটা রেস্টুরেন্টে বসে খাবার অর্ডার দিলাম। স্টার্টার হিসেবে স্যুফ, সালাদ, ফ্রুট মকটেল ইত্যাদি। এরপর হাঁসের বার-বি-কিউ সহ একটা আইটেম। যেখানে বার-বি-কিউ করা অর্ধেক হাঁস থাকে, রাইস থাকে, একটা স্যুফ থাকে, বিভিন্ন সস ও ক্র্যাকার্স থাকে। খাবারের টেস্ট এর তুলনায় প্রাইস একটু বেশিই বলা যায়। সব মিলিয়ে 500k+ এর মত বিল এসেছিল দুইজনের।

খাওয়া দাওয়া করে রওনা দিলাম হোটেলের দিকে। পথে সানুর বীচে গেলাম। বিকেল বেলায় বীচে এত বেশি মানুষ এসেছে যে বলার বাহিরে। অনেক বেশি লোকাল ও আছে। অন্যান্য ট্যুরিস্ট স্পট গুলোতে এত বেশি লোকাল মানুষ চোখে পড়েনি। বীচে কিছুক্ষণ থেকে রওনা দিলাম হোটেলের দিকে।

স্কুটি চালানো সহজ হলেও ট্রেকিং করা ও হাঁটা হাঁটিতে ক্লান্ত লাগছিল। হোটেলে এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম। রাতের খাবার না খেয়েই। যদিও রাতে কয়েকবারই জেগেছি। ক্ষুদাও লেগেছে। ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। বালিতে এখন আমাদের গ্রীষ্মকালের মতই গরম। আর তাই ঐ বৃষ্টি আর্শিবাদের মত। বারান্দায় বসে কিছুক্ষণ কাটিয়েছি। এরপর আবার রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম।

বালিতে শেষ দিন

সকালে ভোরেই উঠেছি, ৬টার দিকে। ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ ল্যাপটপকে এটা সেটা করলাম। ৮টার দিকে নাস্তা করতে বের হলাম। আজ আর কোথাও ঘুরার প্ল্যান নেই। ফিরতে হবে। ফ্লাইট ১.৩০ এ। নাস্তা করতে গেলাম Grand Istana Rama Kuta হোটেলের রেস্টুরেন্টে। গতকাল যেখানে নাস্তা করেছি। মোটামুটি রিজনেবল প্রাইসে বুফ্যে। অনেক গুলো আইটেম। বিভিন্ন ফল, সালাদ, কেক, ব্রেড, স্যুফ, রাইস, চিকেন, জুচ, বিভিন্ন রকম চা, কফি সব  মিলিয়ে  ৫০+ আইটেম। তাড়া না থাকায় ধীরে ধীরে খেলাম।

খাওয়া দাওয়া করে হোটেলে ফিরলাম। ব্যাকপ্যাক রুম চেকআউট করে বের হয়ে পড়লাম। স্কুটিটা ফেরত দিতে হবে। স্কুটি নেওয়ার সময় সিকিউরিটি হিসেবে আমার ন্যাশনাল আইডি কার্ডটা রেখে দিয়েছিল। ফেরত দিয়ে ঐটা নিলাম। এরপরের গন্তব্য হচ্ছে এয়ারপোর্ট। অন্য স্কুটিতে করে চলে গেলাম এয়ারপোর্ট। কাছেই ছিল। বলা যায় হেটে হেটেই যাওয়া যেত।

প্রতিটা এয়ারপোর্টেই প্রায় একই নিয়ম। ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ বের করতে হয়, প্যান্টের বেল্ট খুলতে হয়, জ্যাকেট থাকলে জ্যাকেট খুলতে হয়, মোবাইল, মানিব্যাগ, গ্লাস এসব কিছু খুলে তারপর সিকিউরিটি চেক পার হতে হয়। সিকিউরিটি চেক পার হয়ে বোর্ডিং পাস নিয়ে ওয়েটিং রুমের দিকে গেলাম।

বালি ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশ। অনেক ছোট্ট একটা প্রদেশ। এদের সব কিছুই কত উন্নত। এয়ারপোর্টটাও কত বিশাল, সুন্দর। বাংলাদেশের সাথে তুলনা করলে বার বার মনে হতো, আমাদের সব কিছুই কত ইম্প্রুভ করতে পারতাম। আমাদের সব কিছু আরো সুন্দর হতে পারত। কক্সবাজারের মত এত সুন্দর একটা পর্যটন স্পট থেকেও আমরা বিদেশী ট্যুরিস্টদের আকর্ষন করতে পারছি না। আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থা এত জগন্য। খারাপ লাগা কাজ করে কেমন।

বালিতে এত বেশি পর্যটক। বিভিন্ন দেশের। বেশির ভাগই অস্ট্রেলিয়ান সম্ভবত। অস্ট্রেলিয়ান কিছু কিছু মানুষ এত বড়, তাদের বাচ্ছাগুলো এত ছোট, এত কিউট। তখন আমি চিন্তা করি এত ছোট্ট বাচ্ছাটা কিভাবে অত বড় হয়ে উঠে? 😐

এয়ারপোর্টের ভেতর অনেক গুলো ডিউটি ফ্রি স্টল রয়েছে। ঘুরে ঘুরে দেখলাম। কিছুই কিনিনাই, কয়েকটা চকলেট ছাড়া। ব্যাকপ্যাক এমনিতেই ভারি, আর ভারি করতে ইচ্ছে করেনি। সময় হলে বিমানে উঠে পড়ি। অনেক বিশাল বিমান। কিন্তু বাজেট এয়ারলাইন্স হওয়াতে সিট গুলো ছোট ছোট। আমাদের বলাকা বাসের মত। বালি থেকে ঢাকা আসার কোন ডাইরেক্ট এয়ার নেই। ট্রানজিট নিয়ে আসতে হয়। যাওয়ার সময় ট্রানজিট ছিল সিঙ্গাপুরে। এবার মালয়শিয়াতে। তিন ঘন্টার মত ফ্লাইট টাইম। ল্যান্ড করে নামলাম কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট টার্মিনাল ২ এ। এটিও অনেক বিশাল একটা এরারপোর্ট। প্রথম কিছুক্ষণ সময় কেটেছে কোন দিকে যাবো, কি করব এসব ভাবতেই।

সিকিউরিটি চেক পার হতে হতে দেখলাম আসরের নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে। নামাজের রুম খুঁজে বের করে নামাজ পড়ে নিলাম। ক্ষুদাও লেগেছে। খেতে হবে কিছু। খাওয়ার জন্য দারুণ অনেক গুলো স্টল থাকলেও ম্যাগডোনাল্ডে গিয়ে বার্গার খেয়ে নিলাম। বার্গার থেকে আপন খাবার আর কি হতে পারে? 😛

এখানে রেস্ট নেওয়ার অনেক গুলো সুন্দর জায়গা রয়েছে। মুভি দেখার থিয়েটারও রয়েছে। আর এছাড়া শপিং করার জন্য অনেক গুলো ডিউটি ফ্রি স্টল রয়েছে। ট্রানজিট টাইম ৫ ঘন্টার মত। এই পাঁচ ঘন্টা সহজে পার করার জন্য অনেক কিছুই রয়েছে। আর ব্যায়াম করতে চাইলে টার্মিনালের এই মাথা থেকে ঐ মাথা একবার হেঁটে আসলেই হবে। এছাড়া এয়ারপোর্টে  দেখা যাবে  কেউ চিৎ হয়ে, কেউ উপুড় হয়ে, কেউ চেয়ারে, কেউ ফ্লোরে এখানে সেখানে অনেকেই ঘুমিয়ে থাকে। বালি, সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া, সব এয়ারপোর্টেই। আবার কেউ কেউ নিজ ল্যাপটপটা বের করে কাজ করতে থাকে। সব গুলো এয়ারপোর্টেই ফ্রি ওয়াইফাই রয়েছে। তাই কাজ করতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা না।

পরবর্তী ফ্লাইটের সময় হওয়ার আগে আবার বার্গার এবং কিছু ফ্রাই খেয়ে নিলাম। আবারও তিন ঘন্টার মত ফ্লাইট। এবার একটু ছোট্ট বিমান। ফ্লাইট নাম্বার ছিল  71। আজ বিজয় দিবস ছিল। হয়তো  ঐ কারণে এই ফ্লাইট নাম্বার। কি জানি। ঢাকায় এসে নেমেছি ১২টার দিকে। ইমিগ্রেশন অফিসার জিজ্ঞেস করল কোথায় থেকে এসেছেন? বললাম ইন্দোনেশিয়া। কেন? ঘুরতে। সিল মারতে মারতে বলল এত দেশ থাকতে ইন্দোনেশিয়ার মত দেশে কেন? থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর যাবেন। বললাম ইনশাহ আল্লাহ, যাবো একদি। কেন গিয়েছি, তা বুঝাতে হলে উনাকেও বালি থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। সুন্দর সব কিছু মুখে প্রকাশ করা যায় না। দেখতে হয়। সব সুন্দর কিছুরই শেষ হয়। আরেকটি সুন্দর ট্যুরের শেষ হলো।  ইমিগ্রেশন শেষে বের হয়ে একটা CNG নিয়ে সাড়ে বারোটার মধ্যেই বাসায়। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া সব কিছুর জন্য।

সংক্ষেপে খরচের কথা বললে আমাদের জন প্রতি প্রায় ৪৫ হাজারের মত খরচ হয়েছে। আমরা সব কিছুই বলা যায় উল্টা পাল্টা কোন হিসেব ছাড়াই করেছি। হয়তো হিসেব করে করলে ৪০ হাজারের মধ্যেই সব হয়ে যেতো। এছাড়া এয়ারটিকেট একটু কমে পেয়েছিলাম। স্কুটি চালিয়ে আমরা সব জায়গায় গিয়েছি। তাই বলা যায় খুব কম খরচ হয়েছে। যদি স্কুটি চালাতে না পারেন, তাহলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যাওয়ার ভাড়া দিতে দিতে ফতুর হয়ে যেতে পারেন। কারণ এখানকার ট্যাক্সি বা স্কুটি ড্রাইভারদের কোথাও যাওয়ার জন্য বললে উল্টা পাল্টা দাম চেয়ে বসবে। বার্গেনিং এরর ক্ষেত্রে এরা আমাদের থেকেও থেকেও খারাপ। সো একা একা বা বন্ধুবান্ধব মিলে যাওয়ার প্ল্যান করলে স্কুটি চালানো শিখে নেন। ৫ মিনিটও লাগবে না শিখতে। যদিও প্র্যাকটিসের দরকার আছে।  আপনি মেয়ে হলেও ট্রাই করতে পারেন। একটা সিক্রেট বলি, যখন কোন মেয়ে পাশ দিয়ে স্পিডে চলে যেতো, তখন একটু একটু গায়ে লাগত। 😛 ছেলে মেয়ে বিভেদ নাই, চলেন সবাই স্কুটি চালাইতে বিশ্বাসী ঐখানের সবাই। অনেক ট্রাভেলারকে দেখলাম ওয়াইফ স্কুটি চালাচ্ছে, পেছনে হাজবেন্ড।   নিজে নিজে টিকেটিং করলে একটু দেখে শুনে কাটা যাবে। তখন খরচ কমে আসবে। আর ভিসা বা ভ্রমণের জন্য কাগজ পত্র কিছুই লাগে না। কিচ্ছু না। শুধু পাসপোর্টটা সাথে থাকলেই হয়। আর এয়ার টিকেট। ইচ্ছে এবং সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন বালি থেকে। ভালো লাগবে। 🙂

30 thoughts on “অপরূপ সুন্দর বালি দ্বীপ  ভ্রমণ

  1. অনেক ভাল লাগল জাকির ভাই। গার্ল ফ্রেন্ডকে আপনার এই পোস্টের লিংক দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম যাবে কিনা। সে রাজি হলেই ইনশাআল্লাহ্‌…! 🙂

  2. অনেক সুন্দর লাগল আপনার লিখা। ভিসা ছাড়া কি যাওয়া যায় ট্যুরে???

  3. লেখাটা পড়ে আরাম; সকালে অফিসে ডুকে এক নি:শ্বাসে পড়লাম।
    ভবিষ্যতে বালি গেলে, আপনাকে জানিয়ে যাব

  4. পুরটায় অনেক সময় নিয়ে পড়লাম। অনেক ভাল লাগল আপনার র্বণনা।ছবি গুলা অনেক ভাল হয়েছে।

  5. দারুণ লিখা! জায়গাটা যেমন সুন্দর লিখাটাও সেই রকম হইছে।
    ইনশাআল্লাহ যাচ্ছি বালিতে!

  6. জাকির ভাই আপনি অসম্ভব সুন্দর ভাবে বালির ভ্রমন কাহিনী বর্ণনা করেছেন, হয়ত দার্জিলিং টুর এর পর আপনার এই সুন্দর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অবলোকন করার জন্যই বালিতে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে জাগতে পারে। সময় সুযোগ পেলে হয়ত কোন এক দিন বালির টানেই যেতে পারি বালির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।
    ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

  7. চমৎকার লিখেছেন, একটানেই পড়ে সেষ করলাম। আমারও সখ আছে ইন্দোনেশিয়া যাবার। ইন্দোনেশিয়া ভ্রমনের ইচ্ছা অনেক বছর আগে থেকেই। কোনভাবে ৫০০-৬০০ ডলার জমাতে পারলেই হলো। 🙂

    1. $600 দিয়ে খুব সুন্দর ভাবে ঘুরে আসা যাবে 🙂

  8. বাহ, দারুণ জায়গা ভাই! আপনার লেখা পড়েই অর্ধেক ঘোরা হয়ে গেল! 😛 বাকি অর্ধেক ঘুরতে কোন এক বছর যাবো! 🙂

    1. ঐ দিন গুলো অনেক সুন্দর ছিল 🙂 প্রথম বিদেশের মাটিতে যাওয়া বলে কথা।

  9. অস্ট্রেলিয়ান কিছু কিছু মানুষ এত বড়, তাদের বাচ্ছাগুলো এত ছোট, এত কিউট। তখন আমি চিন্তা করি এত ছোট্ট বাচ্ছাটা কিভাবে অত বড় হয়ে উঠে? ভাই মজা পাইসি পড়ে। কবে যাবো আল্লাহতালা জানে।

  10. মনে হোলো আপনার সাথে ঘুরে আসলাম।দারুন লিখেছেন।👏👏👌👌✌✌

    1. নাহ। লাইসেন্স দেখাতে হয়নি কোথাও।

  11. ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

Leave a Reply