জিন্দাপার্কে একদিন

ফেসবুকে আমাদের একটা গ্রুপ রয়েছে অনলাইন ভাই-ব্রাদার-আপু-সিস্টার নামে। সিরিয়াস কোন গ্রুপ না। মজা করার জন্য। অনলাইনে পরিচিত যাদের সাথে রিয়েল লাইফেও যোগাযোগ হয়, তাদের নিয়ে। এই মানুষ গুলো আমার কাছে অনেকটা ফ্যামিলির মত মনে হয়। আমরা সবাই মিলে ভাবলাম কোথায়ও থেকে ঘুরে আসা যায় কিনা। ঠিক হল জিন্দাপার্ক। এরপর মাশিউর ভাই আর অলি ভাই সব কিছু ম্যানেজ করল। জিন্দাপার্ক গিয়ে পার্ক বুকিং দেওয়া, সকালে নাস্তার বুকিং দেওয়া, গিফট কেনা, কেক অর্ডার দেওয়া সহ সব কিছু।

আমরা জিন্দাপার্ক যাবো ঠিক করেছি ২২ তারিখ, রবিবার। সকাল ৮টার দিকে সবাই তিনশ ফিট ICCB এর সামনে এসে মিলিত হয়েছি। জিন্দাপার্ক অনেক কাছে। তিনশ ফিট থেকে ১৮ কিলোমিটারের মত। তিনশ  ফিট সবাই পৌঁছানোর পর আমরা রওনা দিয়েছি রূপগঞ্জ বাজার, সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য।

রওনা দেওয়ার আগে

রূপগঞ্জ বাজার এসে আমরা হাঁসের মাংস দিয়ে পরোটা খেয়ে নিলাম। এরপর চা খেয়ে রওনা দিলাম জিন্দাপার্কের উদ্দেশ্যে। অনেক কাছে থাকায় আমরা খুব কম সময়ের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম। কম দূরত্ব হলেও অত দূর পর্যন্ত এর আগে আমি ড্রাইভ করি নি। এবারই প্রথম। ভালোই লেগেছে আমার কাছে।

জিন্দাপার্ক সুন্দর জায়গা। মোটামুটি বড় সড় একটা ইকোপার্ক। ফ্যামিলি নিয়ে সহজেই ঘুরে আসা যায়। আমরা হাঁটাহাঁটি করলাম। ঘুরলাম। বসে বসে আড্ডা দিলাম। এভাবে করতে করতে দুপুর হল। দুপুরে আমরা খাবার খেয়ে নিলাম। মুরগি, মাছ, গরু, পোলাউ ইত্যাদি দিয়ে।

ঘুরাঘুরি এবং আড্ডা

🙂

দুপুরে খাওয়ার পর বলা যায় আমরা বসে বসে আড্ডা দিয়েছি।  চা খেয়েছি।  বিকেলের দিকে হয়েছে গিফট বিতরণ অনুষ্ঠান। সবার জন্যই গিফট ছিল। সবাইকে একটা করে কুপন দেওয়া হয়েছে। ঐখানে একটা নাম্বার ছিল। যার নাম্বার আগে, সে আগে গিফট নিবে। গিফট নেয়ার আগে যে কোন কিছু পারফর্ম করতে হবে। যেমন গান গাওয়া, নাচা, কৌতুক বলা ইত্যাদি। এই অংশ দারুণ ছিল।

জিন্দাপার্কের ভেতর একটা স্কুল রয়েছে। সামনে ওদের বার্ষিক ক্রিয়া অনুষ্ঠান। দেখলাম তারা কুচকাওয়াজ করে। বিভিন্ন খেলার ট্রায়াল দিচ্ছে। মেয়েরা দিচ্ছিল প্যাশন শো এর ট্রায়াল।

কুচকাওয়াজ

গিফট বিতরণ শেষে ছিল কেক কাটা পর্ব। ঢাকা থেকে বিশাল একটা কেক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঐটা  কাটার মধ্য দিয়ে আমাদের জিন্দাপার্কের প্রোগ্রাম শেষ হলো। আমরা আবার ঢাকায় রওনা দিলাম।

আমরা 🙂

রাতে আবার সাঈদ ভাই বার-বি-কিউ পার্টির এর আয়োজন করেছেন। আমরা উনার বাসায় বসে গল্প করছি। খাওয়া দাওয়া করেছি। এরপর যে যার বাসায় ফিরে গিয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ একটা দিন ছিল।

 

ট্যুরের অন্যান্য ছবি গুলো। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *