জবের ক্ষেত্রে পদ বিড়ম্বনা

প্রতিটা সেক্টরের ইমপ্লোয়িদের একটা হায়ারাকি থাকে। আমি সফটওয়্যার ইন্ড্রাস্ট্রি দিয়ে উদাহরণ দিচ্ছি। যেমন প্রথমে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এর আগে জুনিয়র এবং পরে সিনিয়র পজিশন। এরপর হয়তো টেকনিক্যাল লিড, এরপর টেকনোলজি স্পেশালিষ্ট। তারপর হয়তো আর্কিটেক্ট, এবং এর জুনিয়র বা সিনয়র পজিশন। এরপর হয়তো ডিরেক্টর। এরপর হয়তো ভাইস প্রেসিডেন্ট, এরপর প্রেসিন্ডেন্ট, এরপর হয়তো CTO, এরপর CEO ইত্যাদি।

আমাদের কেউ শুরুতেই যদি বাবা/চাচা/খালু/দল/লীগের লিংকে সিনিয়র কোন পজিশন ক্যারিয়ার শুরু করি অথবা নিজেরা কোন স্টার্টআপ দিয়ে সেখানেই উচ্চ পদে আসীন হই, তাহলে যদি কোন কারণে এক সময় তা কাজ না করে, তাহলে পরবর্তীতে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য তা অনেক ভয়াবহ হয়ে উঠে। যেমন বাবা/চাচা/খালু/দল/লীগের লিংকে ভাল পজিশনে জয়েন করার পর এক সময় হয়তো কোন আনফরচুনেট কারণে জব হারাতে হতে পারে। আবার সব স্টার্টআপই ফেসবুক বা গুগল হয়ে উঠে না। কোন কোন সময় ইয়াহু বা নকিয়ার মত হারিয়ে যায়। আর তখনই দেখা দেয় পজিশনের বিড়ম্বনা।

আগে ভালো পজিশনে জব করার কারণে নতুন কোথাও আগের থেকে নিচের কোন পজিশনে জব করা কঠিন হয়ে উঠে। নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ করতে হয়। অনেকে আবার হতাশ হয়ে যায়। ভালো একটা ক্যারিয়ারের পরিবর্তে ডিপ্রেসড হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। ইন্ডিয়ান একটা মুভি আছে এমন, Upstarts নামে। মুভিটি যদিও স্টার্টআপ টপিক্সকে প্রাধান্য দিয়েছে। তবে এই টপিক্সকেও সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলছে।

প্রিভিলিজড হয়ে কোন পজিশনে যাওয়া সহজ। কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন। জবের ক্ষেত্রে যেমন, জীবনেরর অন্যান্য ক্ষেত্রেও তেমন। আমাদের অনেকেই ছোট বেলা থেকেই প্রিভিলিজড। কিভাবে? ধনী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করে। তাদের অনেক কম পরিশ্রম করতে হয় ছোট বেলা থেকে। এরপর? বড় হয়ে তারা ধনী থাকতে হলে কি তাদের কাজ করতে হয় না? অবশ্যই তাদের ও পরিশ্রম করতে হয়। পার্থক্য হচ্ছে একজন নন প্রিভিলিজড কেউ তার পজিশনে যেতে একটু বেশি পরিশ্রম করতে হয়। আর তারা পরিশ্রম না করেও সেই পজিশন থেকে জীবন শুরু করতে পারে। এই যা।

জব পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রিভিলিজড, তারা নিজের পজিশন ধরে রাখতে হলে চেষ্টা করতে হবে। জানতে হবে ঐ পজিশনে যারা কাজ করে, তাদের কি কি যোগ্যতা থাকতে হয়। কি কি বিষয় জানতে হয়। না জানলে শিখে নিতে হবে। আর না হলে? এক সময় না এক সময় পতন হবেই।

বিল্ডিং তৈরি করতে যদি আগে ভিত্তি মজবুত না হয়, তাহলে তার উপর বড় কিছু তৈরির করা সম্ভব হয় না। লাইফের ক্ষেত্রেও ভিত্তি শক্ত করতে হয়। তবে বিল্ডিং করার শুরুতেই যদি ভিত্তি ঠিক না থাকে, তাহলে তার উপর নতুন ফ্লোর তৈরি করা যায় না। জীবনের ক্ষেত্রে এমন না। আপনি যে কোন সময় নিজের ভিত্তি ঠিক করে নিতে পারেন। এর জন্য দরকার একটু পেছনে তাকানো। কি কি স্কিল না নিয়েই এতটুকু চলে এসেছেন, তা শিখে ফেলা। এই তো!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *