এক ডজন

আরিহাকে আজ একটু বেশিই রাগি মনে হচ্ছে। রাগের কারণ? আয়ান। ইউনভার্সিটির সময় গুলো ভালোই কাটছিল। কোন চিন্তা ছিল না। সম্পর্কটাও দারুণ ছিল। ইউনিভার্সিটির সবাই একটু আধটু জেলাসও ফীল করত। 


এখন? আয়ান বেকার। প্রতিদিনই আরিহার বিয়ের প্রস্তাব আসে। বেকার ছেলেকে বাবা মায়ের সামনে উপস্থাপন করার সাহস আরিহার নেই। কারণ আরিহা জানে তারা কখনোই মেনে নিবে না। আয়ানকে নিয়ে কিছুটা বিরক্তও। এত দিন হয়ে গিয়েছে গ্র্যাজুয়েশনের। এরপরও একটা চাকরি জোটাতে পারল না। এমন না যে তার সিজিপিএ খারাপ। এ জন্য বিরক্ত একটু বেশিই লাগে। 
আয়ান? চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরপর ও কেন জানি হচ্ছে না। জবে এপ্লাই করে না পেলে মন কার না খারাপ হয়। এর উপর কাছের মানুষটাই যদি একটু সহমর্মিতা না দেখায়, তাহলে দুনিয়াটাকে খুবি খারাপ একটা জায়গা মনে হয়। 


শেষে আরিহার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের এক মাস পরই অ্যামেরিকায় পাড়ি জমায়। অ্যামেরিকা প্রবাসী পাত্র হাত ছাড়া করতে পারেনি আরিহার ফ্যামিলি। 


​তীব্র হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল আয়ান। কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। বুড়িগঙ্গার উপর বিশাল এই ব্রিজটার উপর মাঝে মাঝেই এসে বসে থাকে। রাতের দিকে। কারণ রাতটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। ঘুম আসতে চায় না। কতবার যে ইচ্ছে করত টুপ করে লাফিয়ে পড়ে। পারে না। সব ধর্মেই এটি নিষিদ্ধ। নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। বসে বসে ভাবতে ভাবতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরটাও আর যখন সায় দেয় না, তখন আস্তে আস্তে বাসায় ফিরে। 


একদিন এমন ব্রিজের উপর বসে ছিল। পাশ থেকে কেউ যেন বলে উঠল, ভাইজান দেখছেন লঞ্চ গুলো কত বড় বড়। এরপর ও পানির উপর ক্যামনে ভাঁইসা থায়ে। 


আয়ান কিচ্ছু বলে না। একটু তাকায়। ৪-৫ বছরের একটা ছেলে হবে। লঞ্চ কিভাবে ভেসে থাকে, ঐটা বুঝার মত বয়স এখনো হয়নি।  ছেলেটা নিজ থেকেই বলল। আমার একদিন এমন লঞ্চ চালাইবার ইচ্ছে করে। 


চুপ করেই থাকত অন্য সময়। এই দুপুর রাতে এ বয়সী কেউ এখানে থাকার কথা না। তারও মনে আয়ানের মতই কোন দুঃখ আছে হয়তো। লঞ্চের ক্যাপ্টেন হওয়ার স্বপ্ন দেখে দুঃখ গুলো ভোলার চেষ্টা করছে হয়তো। আয়ান বলল, পারবা, বড় হলে অবশ্যই পারবা। 


সত্যিই পারব? কিভাবে লঞ্চ চালায়? আপনি জানেন?


কত গুলো প্রশ্ন। কত কিউরিসিটি। আয়ান একটা একটা করে সব গুলোর উত্তর দেয়। সে যতটুকু জানে, সব বলে। অসম বয়সী দুইজন মানুষ গল্প করে। 


ছেলেটার মা বাবা কোথায় আছে, নিজেও জানে না। পথে পথে হাঁটে। যখন ইচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে, সেখানেই থাকে। কিছু পেলে খায়, না পেলে এমনিতেই পড়ে থাকে। আয়ানের একটু হিংসেই হয়। তারও ইচ্ছে করে এমন কিছু করতে। যদিও এখন যে ভাবে রয়েছে, এর থেকে ভালোও না। মাথায় অনেক কিছু উকি দেয়। কত স্বপ্ন সাজিয়েছিল আরিহার সাথে। আরিহা বলত কক্ষনো ছেড়ে যাবে না। আর এখন? কত দূরে। একটু দেখারও সুযোগ দিয়ে যায় নি। মাঝে মাঝেই খারাপ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। পারে না। কোন একদিন আরিহাকে কথা দিয়েছিল কখনো খারাপ পথে পা বাড়াবে না। বন্ধুদের সাথে মজা করে সিগারেট ধরছিল একদিন। ঐদিনই এসব কথা হয়েছিল। আয়ান কথা দিয়েছিল, কখনো খারাপ কিছু ছুঁয়ে দেখবে না। 


ছেলেটির সাথে কথা বলে কেমন মায়া জন্মে যায়। বাসার দিকে যেতে থাকলে ছেলেটিও হাঁটা ধরে। সে বাঁধা দেয় না। কিচ্ছু বলে না। এক সময় একটা চায়ের দোকানে বসে। একটা অলটাইম হাতে নেয়। ছিলে খাওয়া শুরু করবে, তখন ছেলেটির দিকে তাকায়। দেখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অলটাইমটি ছেলেটির দিকে বাড়িয়ে দেয়।  


আরিহার সাথে কত প্ল্যানই না করত আয়ান। তারা মাঝে মধ্যে বাচ্চা কাচ্চা নিয়েও কথা বলত। কেমন হবে, কি নাম রাখবে ইত্যাদি। তখন আয়ান মাঝে মাঝে বলত তাদের এক ডজন বাচ্চা কাচ্চা হবে।  সবাই হাসবে, খেলবে, গাইবে, কান্না করবে, এর মধ্যেই তারা ভালোবাসা, ভালোলাগা খুঁজে নিবে। আর এখন? সে অন্য কারো সাথে প্ল্যান করে। 


আয়ান ভাবল, এক ডজন বাচ্চা কাচ্চার জন্য তো আরিহার দরকার নেই। পথে ঘাটে কত বাচ্চা কাচ্চা পড়ে আছে। তার সামনেই একটা বসে আছে। তাকে নিয়েই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার একটা কারণ সে খুঁজে পেলো। 


ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল কি নাম তোর? ছেলেটি বলল  বাবু। সবাই দেখি বাবু বলে ডাকে। বাবু নামটা সুন্দর আছে। একটা ভাল নামেরও দরকার আছে। আরিহাকে বললে এতক্ষণে কত গুলো সুন্দর নাম বলে দিত। কিন্তু… 


তার হাতে টাকা পয়সা খুব একটা নেই। ভাবল বাবুকে লঞ্চের ক্যাপ্টেন বানানো যায় কিনা। তাকে পড়ালেখা শেখাতে হবে। আয়ান আবার জব ইন্টার্ভিউ দেখা শুরু করল। পেয়েও গেলো একটা। স্যালারির আশা না করেই সে বাবুকে স্কুলে ভর্তি করে দিলো। ভাবতে লাগল কিভাবে বাবুকে লঞ্চের ক্যাপ্টেন বানানো যায়। 


মাঝে মধ্যেই বাবু আর আয়ান মধ্য রাতে হাঁটে। কথা বলে। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে আরেকটা ছেলের সাথে দেখা হয়ে যায় তাদের। বাবুর মতই আরেকটা ছেলে। ওকেও বাসায় নিয়ে আসে। এভাবে করতে করতে সত্যি সত্যিই আয়ানের ১২টা ছেলে মেয়ে হয়ে যায়। তার নিজের নয়, তবে নিজের থেকেও আপন ভাবতে থাকে। তাদের স্বপ্নের কথা শুনে সে। নিজের স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলেই ওদের স্বপ্ন নিয়ে বেশি ভাবে। তাদের স্বপ্ন গুলো পূরণ করার চেষ্টা করে যায়। 


আরিহার কথা মাঝে মাঝেই মনে পড়ে তার। সে কেমন আছে, কি করছে এসব জানতে খুব ইচ্ছে করে। জানা সম্ভব হয় না। আচ্ছা, সেও কি ভাবে? অথচ বলত কখনোই আয়ানকে ভুলবে না। এখন কি সেই সবার আগে ভুলে বসে আছে? আরিহার কথা মনে হওয়ার সাথে সাথে অরুণাভ সরকারের একটা কবিতা মনে পড়ে। 


যাওয়া বলে কিচ্ছু নেই, সবই ঘুরে-ফিরে আসাশূন্যতায় মাথা কুটে ফিরে আসে সমস্ত সংলাপসব শীৎকার চীৎকারবিশাল রণ পায়ে চেপেপ্রাচীন গোধূলি ফিরে আসে,নীলিমা-ভ্রমণ শেষে ফেরে পাখি,নদী, তারও গতি নয় শুধুই সাগরেসেও মেঘে মেঘে ঝরনার নিকটে ফিরে যায়।শুধু… শুধু…একবার চলে গেলেনারীরা ফেরে না।


আরিহা কখনোই ফিরবে না জানে। কখনো কি দেখা হবে? জানে না আয়ান। যদি কখনো দেখা হয়ে যায়, তখন কি তার এক ডজন বাবু থাকবে? তার থাকুক না থাকুক, আয়ান তার এক ডজন বাবুকে দেখিয়ে বলবে, দেখো! তোমাকে বলছি না আমাদের এক ডজন বাবু হবে? দেখো এক ডজন বাবু। একটু থেমে জিজ্ঞেস করবে একটা স্বপ্ন ভেঙ্গে কয়টা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার? এরপর আয়ান তার এক ডজন স্বপ্নকে দেখিয়ে বলবে, দেখো আমার এক ডজন স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। এক ডজন! 


এখন? আয়ান বেকার। প্রতিদিনই আরিহার বিয়ের প্রস্তাব আসে। বেকার ছেলেকে বাবা মায়ের সামনে উপস্থাপন করার সাহস আরিহার নেই। কারণ আরিহা জানে তারা কখনোই মেনে নিবে না। আয়ানকে নিয়ে কিছুটা বিরক্তও। এত দিন হয়ে গিয়েছে গ্র্যাজুয়েশনের। এরপরও একটা চাকরি জোটাতে পারল না। এমন না যে তার সিজিপিএ খারাপ। এ জন্য বিরক্ত একটু বেশিই লাগে। 
আয়ান? চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরপর ও কেন জানি হচ্ছে না। জবে এপ্লাই করে না পেলে মন কার না খারাপ হয়। এর উপর কাছের মানুষটাই যদি একটু সহমর্মিতা না দেখায়, তাহলে দুনিয়াটাকে খুবি খারাপ একটা জায়গা মনে হয়। 


শেষে আরিহার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের এক মাস পরই অ্যামেরিকায় পাড়ি জমায়। অ্যামেরিকা প্রবাসী পাত্র হাত ছাড়া করতে পারেনি আরিহার ফ্যামিলি। 


​তীব্র হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল আয়ান। কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। বুড়িগঙ্গার উপর বিশাল এই ব্রিজটার উপর মাঝে মাঝেই এসে বসে থাকে। রাতের দিকে। কারণ রাতটাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়। ঘুম আসতে চায় না। কতবার যে ইচ্ছে করত টুপ করে লাফিয়ে পড়ে। পারে না। সব ধর্মেই এটি নিষিদ্ধ। নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। বসে বসে ভাবতে ভাবতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরটাও আর যখন সায় দেয় না, তখন আস্তে আস্তে বাসায় ফিরে। 


একদিন এমন ব্রিজের উপর বসে ছিল। পাশ থেকে কেউ যেন বলে উঠল, ভাইজান দেখছেন লঞ্চ গুলো কত বড় বড়। এরপর ও পানির উপর ক্যামনে ভাঁইসা থায়ে। 


আয়ান কিচ্ছু বলে না। একটু তাকায়। ৪-৫ বছরের একটা ছেলে হবে। লঞ্চ কিভাবে ভেসে থাকে, ঐটা বুঝার মত বয়স এখনো হয়নি।  ছেলেটা নিজ থেকেই বলল। আমার একদিন এমন লঞ্চ চালাইবার ইচ্ছে করে। 


চুপ করেই থাকত অন্য সময়। এই দুপুর রাতে এ বয়সী কেউ এখানে থাকার কথা না। তারও মনে আয়ানের মতই কোন দুঃখ আছে হয়তো। লঞ্চের ক্যাপ্টেন হওয়ার স্বপ্ন দেখে দুঃখ গুলো ভোলার চেষ্টা করছে হয়তো। আয়ান বলল, পারবা, বড় হলে অবশ্যই পারবা। 


সত্যিই পারব? কিভাবে লঞ্চ চালায়? আপনি জানেন?


কত গুলো প্রশ্ন। কত কিউরিসিটি। আয়ান একটা একটা করে সব গুলোর উত্তর দেয়। সে যতটুকু জানে, সব বলে। অসম বয়সী দুইজন মানুষ গল্প করে। 


ছেলেটার মা বাবা কোথায় আছে, নিজেও জানে না। পথে পথে হাঁটে। যখন ইচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে, সেখানেই থাকে। কিছু পেলে খায়, না পেলে এমনিতেই পড়ে থাকে। আয়ানের একটু হিংসেই হয়। তারও ইচ্ছে করে এমন কিছু করতে। যদিও এখন যে ভাবে রয়েছে, এর থেকে ভালোও না। মাথায় অনেক কিছু উকি দেয়। কত স্বপ্ন সাজিয়েছিল আরিহার সাথে। আরিহা বলত কক্ষনো ছেড়ে যাবে না। আর এখন? কত দূরে। একটু দেখারও সুযোগ দিয়ে যায় নি। মাঝে মাঝেই খারাপ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। পারে না। কোন একদিন আরিহাকে কথা দিয়েছিল কখনো খারাপ পথে পা বাড়াবে না। বন্ধুদের সাথে মজা করে সিগারেট ধরছিল একদিন। ঐদিনই এসব কথা হয়েছিল। আয়ান কথা দিয়েছিল, কখনো খারাপ কিছু ছুঁয়ে দেখবে না। 


ছেলেটির সাথে কথা বলে কেমন মায়া জন্মে যায়। বাসার দিকে যেতে থাকলে ছেলেটিও হাঁটা ধরে। সে বাঁধা দেয় না। কিচ্ছু বলে না। এক সময় একটা চায়ের দোকানে বসে। একটা অলটাইম হাতে নেয়। ছিলে খাওয়া শুরু করবে, তখন ছেলেটির দিকে তাকায়। দেখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। অলটাইমটি ছেলেটির দিকে বাড়িয়ে দেয়।  


আরিহার সাথে কত প্ল্যানই না করত আয়ান। তারা মাঝে মধ্যে বাচ্চা কাচ্চা নিয়েও কথা বলত। কেমন হবে, কি নাম রাখবে ইত্যাদি। তখন আয়ান মাঝে মাঝে বলত তাদের এক ডজন বাচ্চা কাচ্চা হবে।  সবাই হাসবে, খেলবে, গাইবে, কান্না করবে, এর মধ্যেই তারা ভালোবাসা, ভালোলাগা খুঁজে নিবে। আর এখন? সে অন্য কারো সাথে প্ল্যান করে। 


আয়ান ভাবল, এক ডজন বাচ্চা কাচ্চার জন্য তো আরিহার দরকার নেই। পথে ঘাটে কত বাচ্চা কাচ্চা পড়ে আছে। তার সামনেই একটা বসে আছে। তাকে নিয়েই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার একটা কারণ সে খুঁজে পেলো। 


ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল কি নাম তোর? ছেলেটি বলল  বাবু। সবাই দেখি বাবু বলে ডাকে। বাবু নামটা সুন্দর আছে। একটা ভাল নামেরও দরকার আছে। আরিহাকে বললে এতক্ষণে কত গুলো সুন্দর নাম বলে দিত। কিন্তু… 


তার হাতে টাকা পয়সা খুব একটা নেই। ভাবল বাবুকে লঞ্চের ক্যাপ্টেন বানানো যায় কিনা। তাকে পড়ালেখা শেখাতে হবে। আয়ান আবার জব ইন্টার্ভিউ দেখা শুরু করল। পেয়েও গেলো একটা। স্যালারির আশা না করেই সে বাবুকে স্কুলে ভর্তি করে দিলো। ভাবতে লাগল কিভাবে বাবুকে লঞ্চের ক্যাপ্টেন বানানো যায়। 


মাঝে মধ্যেই বাবু আর আয়ান মধ্য রাতে হাঁটে। কথা বলে। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে আরেকটা ছেলের সাথে দেখা হয়ে যায় তাদের। বাবুর মতই আরেকটা ছেলে। ওকেও বাসায় নিয়ে আসে। এভাবে করতে করতে সত্যি সত্যিই আয়ানের ১২টা ছেলে মেয়ে হয়ে যায়। তার নিজের নয়, তবে নিজের থেকেও আপন ভাবতে থাকে। তাদের স্বপ্নের কথা শুনে সে। নিজের স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলেই ওদের স্বপ্ন নিয়ে বেশি ভাবে। তাদের স্বপ্ন গুলো পূরণ করার চেষ্টা করে যায়। 


আরিহার কথা মাঝে মাঝেই মনে পড়ে তার। সে কেমন আছে, কি করছে এসব জানতে খুব ইচ্ছে করে। জানা সম্ভব হয় না। আচ্ছা, সেও কি ভাবে? অথচ বলত কখনোই আয়ানকে ভুলবে না। এখন কি সেই সবার আগে ভুলে বসে আছে? আরিহার কথা মনে হওয়ার সাথে সাথে অরুণাভ সরকারের একটা কবিতা মনে পড়ে। 


যাওয়া বলে কিচ্ছু নেই, সবই ঘুরে-ফিরে আসাশূন্যতায় মাথা কুটে ফিরে আসে সমস্ত সংলাপসব শীৎকার চীৎকারবিশাল রণ পায়ে চেপেপ্রাচীন গোধূলি ফিরে আসে,নীলিমা-ভ্রমণ শেষে ফেরে পাখি,নদী, তারও গতি নয় শুধুই সাগরেসেও মেঘে মেঘে ঝরনার নিকটে ফিরে যায়।শুধু… শুধু…একবার চলে গেলেনারীরা ফেরে না।


আরিহা কখনোই ফিরবে না জানে। কখনো কি দেখা হবে? জানে না আয়ান। যদি কখনো দেখা হয়ে যায়, তখন কি তার এক ডজন বাবু থাকবে? তার থাকুক না থাকুক, আয়ান তার এক ডজন বাবুকে দেখিয়ে বলবে, দেখো! তোমাকে বলছি না আমাদের এক ডজন বাবু হবে? দেখো এক ডজন বাবু। একটু থেমে জিজ্ঞেস করবে একটা স্বপ্ন ভেঙ্গে কয়টা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার? এরপর আয়ান তার এক ডজন স্বপ্নকে দেখিয়ে বলবে, দেখো আমার এক ডজন স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। এক ডজন! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *