অজানায়

হৃদিকে দেখলে আমি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। এক সাথে ক্লাস পড়লে হৃদি সামনে বসলে আমি পেছনে বসি, হৃদি পেছনে বসলে আমি সামনে। ক্যান্টিন বা অন্য কোথাও দেখলে আগে থেকেই সরে যাওয়ার চেষ্টা করি। যাদের ভালো লাগে, তাদের এড়িয়ে চলা কষ্টের। এরপর ও তা করতে হচ্ছে।

কিছুদিন আগেও আমাদের মধ্যে সুন্দর একটা সম্পর্ক ছিল। এক সাথে ক্লাস করা, অ্যাসাইনমেন্ট করা, খাওয়া দাওয়া, ঘুরাঘুরি সবই হতো। এরপর আস্তে আস্তে হৃদি দূরে সরে যেতে লাগল। ফোন দিলে ঠিক মত কথা বলত না। দেখা হলেও কেমন জানি আচরন করত, মনে হতো আমি অচেনা কেউ। কোন কারণ ছাড়া এমন দূরে সরে যাওয়াটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল খুব। এরপর? এরপর আমি নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাকে কে তার মত থাকতে দিয়েছি।

আজ ক্লাস করে ফিরে আসার সময় হঠাৎ সামনা সামনি দেখা হয়ে গেলো। এরপরই আমি উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করলাম। অন্য দিকে ঘুরে বেইজমেন্টের দিকে গেলাম। হৃদিও আমার পেছনে পেছনে আসতে লাগল। বেইজমেন্টে সাইকেল রাখা। সাইকেলের লক খোলার আগে পেছনে ফিরে দেখি হৃদি সিড়ির সামনে। আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েদের উপেক্ষা করার শক্তি মনেহয় ছেলেদের হয় না। কিন্তু মেয়েরা কি সুন্দর ভাবেই যে কোন ছেলেদের উপেক্ষা করতে পারে। যার সাথে সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটানো, ঐ ছেলেটাকেও মনে হয় সহজে ভুলে যেতে পারে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর আমি হৃদির দিকে এগিয়ে গেলাম। কিছু বলতে যাবো তার আগেই হৃদি আমাকে জড়িয়ে ধরল। বলল i missed you…

আমি নিজেও হৃদিকে অনেক মিস করেছি। কিন্তু আস্তে আস্তে দূরে সরে যাওয়াটা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি হৃদিকে হারাতে চাই নি। আমরা একসাথে ক্যান্টিনের দিকে গেলাম। এটা সেটা নিয়ে কথা বলার সময় বললাম, চলো দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসি। হৃদি বলল এখন? আমি বললাম হ্যাঁ, এখন। বলল বাসায় গিয়ে ড্রেস আনতে হবে না? বললাম যা লাগে, আমরা পথে কিনে নিব।

হৃদি রাজি হয়ে গেলো। আমরা বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা দিলাম। গন্ত্যব্য? অজানা। বাসস্ট্যান্ড গিয়ে ঠিক করব। এক সময় হৃদির সাথে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে চাইতাম। কোন পাহাড়ি চূড়ায়, অথবা কোন সমুদ্রের পাড়ে। এখনই সুযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *