অ্যান ফ্র্যাঙ্ক ছিল জার্মানে জন্ম নেওয়া এক ইহুদী। ১৯৩৩ সালে হিটলারের নাৎসি বাহিনী যখন জার্মানিতে ক্ষমতা দখল করে তখন অ্যান এবং তার পরিবার ‘অ্যামসটারডাম’ চলে আসে। ১৯৪০ সালে তাদের পরিবার শত্রুদের হাতে আঁটকে পরে। যেহেতু নাৎসিরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে ছিলো তাই তারা সমস্ত ইহুদি বংশধরদের শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলো। অ্যানের পরিবার কোনমতে সেখান থেকে পালিয়ে অ্যানের বাবার পুরনো এক অফিসের কামরায় আশ্রয় নেয়।
১৩ বছর বয়স থেকে অ্যান ডায়রি লেখা শুরু করে। গোপন আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় অ্যান তার প্রতিদিনের ঘটনার পাশা পাশি জার্মানদের দখলদারিত্ব ও তাদের ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তার ডায়েরিতে লিখে রাখে। ডায়েরি লেখা কন্টিউনিউ করতে পারে নি অ্যান। কারণ এক সময় তারা ধরা পড়ে যায়। এরপর তাদের পাঠিয়ে দেয় বন্দীনিবাসে। বন্দী হওয়ার সাত মাসের মাথায় অ্যানের মৃত্যু হয়। অ্যান পৃথিবী থেকে চলে গেলেও রেখে যায় তার ডায়রি। যে ডায়েরি তাকে পৃথিবীর বুকে অমর করে রাখে।
বন্দীশিবির থেকে এক মাত্র তার বাবা ফিরে বেঁচে ফিরে আসতে পারে। ১৯৪৭ সালে তিনি ডায়েরীটা বই আকারে প্রকাশ করেন। অরিজিনাল ‘ডাচ’ ভাষা থেকে বইটি প্রথম ইংলিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে ‘The Diary of a Young Girl’- নামে। এরপর প্রায় সব ভাষাতেই বইটি অনুদৃত হয়। বাংলা অনুবাদ ও রয়েছে।
অ্যান দুই বছর দুই মাসের মত লিখতে পেরেছিল। এই সময়ের মধ্যে নিজের বিশ্বাস, ভালোলাগা,যুদ্ধ, নিজের ফ্যামিলি ইত্যাদি সম্পর্কে লিখেছিল। ১৩-১৪ বছরের একটি মেয়ে কিভাবে এত সুন্দর, এত গভীর সব কথা লিখেছে, তা অবাক করার মত। পড়তে গেলে বইটি প্রথম অর্ধেক একটু স্লো মনে হবে। কিন্তু স্লো হলেও পড়তে বলব। শেষ অর্ধেকের লেখা গুলো খুবি গোছালো এবং অনেক তথ্যে পরিপূর্ণ 🙂
বইটি কোথায় কিনতে পাওয়া যাবে?
রকমারিতে পাওয়ার কথা (https://www.rokomari.com/book/103189/) 🙂 অথবা যে কোন বড় বই এর দোকানে খোজ করেন।
Thanks
ভাই, আমার অনেক পছন্দরে একটা বই।
(লাখো মানুষের যন্ত্রণা আমি বুঝতে পারি। তবু যখন আকাশের দিকে তাকাই, কেন যেন মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে। মনে হয়, এই নির্মম নিষ্ঠুরতাও অবসান হবে। আবারও ফিরে আসবে শান্তি…)
আনা ফ্রাঙ্ক
১৫ জুলাই, ১৯৪৪
খুব প্রিয় একটি বই।