সম্পদ ও সুখ

যখন প্রতিষ্ঠিত কোন কোম্পানির CEOকে দেখি বা দেখি প্রতিষ্ঠিত কাউকে, তখন নিজের কাছে মনে হয় কি করলাম জীবনে? কবে তাদের মত হতে পারব? কবে আমার নিজেরও অনেক বড় সড় কোন প্রতিষ্ঠান থাকবে? কবে আমারও একটা সুন্দর একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি থাকবে? অডির নতুন গাড়িটা তো খুবি জোস, আহ! কবে আমি পৃথিবীর সব গুলো দেশ ভ্রমণ করতে পারব? এমন আরো কত লিস্ট।

সমস্যা হচ্ছে এসব কিছু পেয়ে গেলেও লিস্ট শেষ হবে না। নতুন লিস্ট আসবে। জীবনটা অসম্পুর্ণ মনে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে মনে হবে, আহ আমার যদি ঐ জিনিসটা থাকত! আমার CGPA যদি আরেকটি ভালো হতো, আমি যদি আরেকটু ফিট হতাম, আমার স্যালারি যদি আরেকটু বেশি হতো… ইত্যাদি আরো কত কিছু।

যা কিছু নিজের নেই, তার দিকে ফোকাস করলে মন খারাপই হবে। আমাদের যা কিছু আছে, তার দিকে তাকালে মনে হবে কত শত অমূল্য সম্পদই না রয়েছে আমাদের। যে সম্পদ গুলো কিনতে পাওয়া যায় না।

রাস্তার পাশে হাত না থাকা কাউকে দেখলে নিজের হাতের দিকে তাকাই, আমার দুইটা হাত অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। আর বেচারার তো হাতই নেই। আঙ্গুলে ছোট্ট একটা ক্ষত হলে কত কষ্ট হয়, মনে হয় ক্ষতটা না ভালো হয়ওয়া পর্যন্ত চলাই অসম্ভব, অথচ তারা মানিয়ে নিয়েছে। পা না থাকা কারো দিকে তাকালে একটুও খারাপ লাগে না? নিজের পা দুইটার জন্য শুকরিয়া জানাতে ইচ্ছে করে না? আমার করে। আর যাদের চোখ নেই, তারা কি সুন্দর দুনিয়াটা দেখতেই পায় না… আহারে। সুস্থ শরীর থাকা মানেই অনেক কিছু। যখন কেউ অসুস্থ হয়, তখন তার সকল সম্পদ থেকেও তার শরীরের চিন্তা বেশি হয়।

একটা দিন সুস্থ ভাবে পার করা কত বিশাল একটা পাওয়া তা হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকা কেউ একজন বলতে পারবে। নিজের যা আছে, তার দিকে যদি ফোকাস করে দিনটা পার করার চেষ্টা করি, দেখা যাবে কোন মন খারাপ ছাড়াই কি সুন্দর একটা দিন পার করা যায়। জ্ঞানী গুণীরা বলে “Happiness is matter of choice” যেমন কেউ বৃষ্টিতে ভিজে আর কেউ বৃষ্টি উপভোগ করে। কেউ একা কোন নির্জন স্থানে কিভাবে থাকবে তা নিয়ে চিন্তা করে, কেউ নির্জনতাকে উপভোগ করে। কেউ রাতের অন্ধকারে বিরক্ত হয় আর কেউ হারিয়ে যায় কোটি তারার মাঝে।

বায়োগ্রাফি পড়তে আমার ভালো লাগে। কোন বায়োগ্রাফিতে কেউ তার সম্পদের হিসেব দেয় না। সে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো শেয়ার করে। শেয়ার করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে কাটানো সময় গুলোর কথা, ভালোবাসার কথা, ভালো লাগার কথা, স্ট্রাগল করার কথা ইত্যাদি ইত্যাদি।

আনন্দিত হতে বেশি কিছুর দরকার হয় না। সব কিছু নিয়ে চিন্তা কমিয়ে দেওয়া, নিজের যা কিছু আছে, তাকে যথেষ্ঠ মনে করে, কম থাকলে তার জন্য চেষ্টা করা কিন্তু কমপ্লেইন না করা, এই তো। ছোট্ট একটা জীবন, কমপ্লেইন করতে করতে পার করব নাকি যা আছে, তা যথেষ্ট মনে করে জীবনটা উপভোগ করব, তা নিজের ইচ্ছে।

Leave a Reply