ভালো ক্যারিয়ারের জন্য দরকার ভালো পড়ালেখা

কম্পিউটার সাইন্সের অনেকেই প্রোগ্রামিংকে কঠিন মনে করে অন্য ট্র্যাকে ক্যারিয়ার গড়ে। আবার অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের অনেকেই প্রোগ্রামিং করে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে।

কোন কোন শিক্ষক অনেক বেশি থিওরি পড়ানোর কারণে সবাই ধরে নেয় প্রোগ্রামিংটা বুঝি এমন কাঠখোট্টা। আবার অনেকেই প্রথম দিকে মনযোগ না দেওয়ার কারণে অ্যালগরিদম, ডেটা স্ট্র্যাকচার বা সফটওয়ার আর্কিটেকচারের মত বিষয় গুলোর সাথে তাল মেলাতে পারে না। ফলাফল হিসেবে অনেকেই মনে করে নেয় প্রোগ্রামিং বুঝি এত কঠিন।

কিন্তু দেখা যায় অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট এমন কি ভালো এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াও অনেকেই প্রোগ্রামিং শিখে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছে। এর একটা কারণ হচ্ছে তারা যা শিখেছে, সব প্র্যাক্টিক্যাল ভাবে শিখেছে। এই কোড লিখে এটা হচ্ছে? আরেকটু ভিন্ন ভাবে লিখলে কি হয় দেখি, তারপর দেখে নতুন আরেকটা আউটপুট। এভাবেই শিখতে থাকে। নিজে নিজে নতুন কিছু করার মধ্যে মজা পায়। এরপর আরো কিছু করতে ইচ্ছে করে। এভাবেই শিখতে থাকে। এর বিপরীতে ইউনিভার্সিটিতে এক্সাম, এসাইনমেন্ট এর প্যাঁড়ায় পড়ে অনেকেই ভাবতে থাকে ‘ছেড়ে দে বাবা, যথেষ্ঠ হয়েছে’!

প্রোগ্রামিং আসলে অনেক সহজ। নিজের চিন্তা ভাবনা একটু পরিবর্তন করে নিলে যে কোন বিষয়ের কোড লেখা সহজ হয়ে যায়। কোন একটা কোড কিভাবে লিখলে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে ভাবতে থাকলে নিজে নিজেই একটা সমাধান দাড় করিয়ে ফেলা যায়। এরপর কোড লিখতে বসলে দুই একবারের চেষ্টাতেই প্রোগ্রাম লিখে ফেলা যায়।

আমাদের এখনো অনেক অনেক প্রোগ্রামার দরকার। দিন দিন প্রোগ্রামারদের চাহিদা বেড়েই চলছে। পত্রিকায় পড়েছি সম্ভবত ২৬ লাখ বেকার রয়েছে। এদের মধ্যে আমরা ধারণা একজনও প্রোগ্রামার নেই। প্রোগ্রামারদের কাজের অভাব হয় না।

আমাদের এমন সব বিষয় শিখতে হবে, যেগুলোর ডিমান্ড দিন দিন বাড়বে। যেমন এনার্জি নিয়ে যারা পড়ালেখা করেছে, তাদের চাহিদা কখনো কমবে না। সামনের দিকে বরং আরো বাড়বে। এরকম আরো কয়েকটি সাবজেক্ট হচ্ছে কৃষি, বায়োসাইন্স, বায়োমেডিকেল, এরোস্পেস, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। সমস্যা হচ্ছে এসব বিষয় নিয়ে পড়ালেখার সুযোগ আমাদের দেশে অনেক কম। আমরা এমন সব বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করছি, যা আসলে নামে মাত্র পড়ালেখা, কাজে আসে না। এ জন্যই আমাদের এত বেকার। পৃথিবী কোন দিকে যাচ্ছে, পৃথিবীর কি দরকার, এসব খবর রাখি না।

আমরা যে যা পড়েছি, পড়েছি। কিন্তু এখন চাইলে আমরা নতুন যে কোন বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করতে পারি। Massive Open Online Courses বা MOOC এর সাহায্য নিয়ে আমরা যে কোন বিষয়ে সম্পর্কে জানতে পারি। আমাদের এখন যে ক্যারিয়ার রয়েছে, তার পাশা পাশি ফিউচারে ডিমান্ড বাড়বে, এমন একটা বিষয় নিয়ে আস্তে আস্তে শিখতে পারি। যারা ম্যাট্রিক্স মুভি দেখেছেন, তারা হয়তো একটা সিন দেখে থাকবেন, যেখানে নিও ট্রিনিটিকে বলে, তুমি কি এই হেলিকপ্টারটা চালাতে পারো? তখন ট্রিনিটি বলে, এখনো না। এরপর অপারেটরকে বলে তার মধ্যে পাইলট প্রোগ্রাম ইন্সটল করতে। এরপর সাথে সাথেই সে ঐ হেলিকপ্টারটা চালাতে পারে। মুভিতে যদিও দেখায় খুব দ্রুত একটা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান ইন্সটল করা যায়। বাস্তবে অত দ্রুত না হলেও আমরা অনলাইন MOOC এর সাহায্য নিয়ে যে কোন বিষয় শিখে নিতে পারি। নিজে নিজেই পারি। দরকার ইচ্ছে শক্তির।

আমাদের বয়স আস্তে আস্তে বাড়ছে। আমাদের পরে আমাদের দেশে হাল ধরবে আমাদের ছোটরা, আমাদের সন্তানেরা। আমাদের যাদের ছোট ভাই বোন রয়েছে, সন্তান রয়েছে, তারা যেন সঠিক বিষয় শিখতে পারে, তারা যেন ফিউচারের জন্য দরকার, এমন বিষয় গুলো শিখতে পারে, তা আমাদেরই দেখতে হবে। তাদের জন্য সেরা শিক্ষাটার ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে না হলে বিদেশে। তারা যেন সাধারণ একটা বিষয় পড়ালেখা করে বেকার বসে না থাকতে হয়, তার জন্য স্কুল কলেজ থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু একটু জানতে হবে পৃথিবী কোন দিকে যাচ্ছে, কি কি বিষয় গুলোর চাহিদা বাড়ছে। সবার উজ্জ্বল একটা ভবিষ্যৎ এর অপেক্ষায় 🙂

4 thoughts on “ভালো ক্যারিয়ারের জন্য দরকার ভালো পড়ালেখা

Leave a Reply