Big Bang বা শেষ দিনটি

আজ আমরা যদি কাউকে জিজ্ঞেস করি পৃথিবী বা এ মহা বিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে কিভাবে, সবাই উত্তর দিবে Big Bang এর মাধ্যমে। কিসের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে? শূন্য থেকে।

শূন্য থেকে বলা ঠিক হবে না। বলতে হবে শক্তি থেকে।

হ্যাঁ। অনেক শক্তি।

 

যেমন আমরা জানি প্রত্যেক পদার্থের মধ্যে রয়েছে পরমাণু। পরমাণুর মধ্যে রয়েছে  প্রোটন আর নিউট্রন । এই প্রোটন এবং নিউট্রনের ভেতর রয়েছে কোয়ার্ক। বিভিন্ন প্রকারের কোয়ার্ক। আর কোয়ার্কের ভেতর কি রয়েছে?
কিছুই নেই। শুধু মাত্র এনার্জি। শক্তি। অর্থাৎ কি দাঁড়ালো? এ মহাবিশ্বের সব কিছুই শক্তির উপর তৈরি।।

বিজ্ঞানীরা জানে কিভাবে Big Bang সংগঠিত হয়েছে। কিভাবে কি হয়েছে সব কিছুই তারা থিউরিটিক্যাল ভাবে প্রমাণ করে ফেলছে।

এখন দরকার বাস্তব প্রমাণ। তার জন্য দরকার একটা Big Bang ঘটানো।

 

আর সে জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যায় বহুল ল্যাবরেটরি। সবচেয়ে সিকিউর ল্যাব।

 

আমাদের পদার্থ বিজ্ঞান আমাদের পৃথিবীর উপযোগী করে বিবর্তিত হয়েছে। তাই আমরা যা কিছু চিন্তা করি, আমাদের পৃথিবীর সাপেক্ষে চিন্তা করি।

 

Big Bang ঘটানোর জন্য সব কিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। সফল ভাবে Big Bang ঘটালে যেন তা নিয়ন্ত্রন করা যায় তার জন্য নেওয়া হয়েছে সবগুলো পদক্ষেপ।

 

অবশেষে আসল সেই শুভক্ষণ। সারা পৃথিবী তাকিয়ে আছে টিভি, ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন লাইভ টেলিকাস্ট মিডিয়াতে।

 

কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। অনেক আগেই। এখন তা মিনিটের ঘরে।

এ মুহূর্তে Big Bang প্রজেক্টের একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী বলে উঠল বন্ধ করে দাও। সব কিছু বন্ধ করে দাও। স্টপ… চিৎকার করতে করতে  দৌড়িয়ে আসল। হাতে ক্রিস্টালটি। যার মধ্যে বিভিন্ন ডেটা ভেসে রয়েছে। এলান, এলান ফর্ড নাম তার। পাগলাটে বিজ্ঞানী। এ প্রজেক্টের অনেক কিছুই তার হাতের উপর তৈরি। সে বলল আমাদের হিসেবে একটু ভুল আছে। একটানা অনেক কথাই বলল… কন্ট্রোল রুমের ভেতরে বলে পৃথিবীবাসী এসব কিছুই দেখল না।

সে বলল এখনি বন্ধ করতে হবে আমাদের এ প্রজেক্ট, তা না হলে এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। শুধু পৃথিবী না, এ পুরা মহা বিশ্বের সব কিছুই এলোমেলো হয়ে যাবে।

ঐখানে থাকা অন্যান্য বিজ্ঞানী বলল,  দেখো এ প্রজেক্টের সব হিসেব সবচেয়ে নির্ভুল ভাবে করা হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়েছে। এক বার নয়। বার বার কম্পিউটার সিম্যুলেশন করা হয়েছে। দেখা হয়েছে পরবর্তী ইফেক্ট কি হবে এবং সে ভাবেই সব কিছু সাজানো হয়েছে। নেওয়া হয়েছে সকল পদক্ষেপ। আর তাছাড়া এখন বললেই আমরা এটা বন্ধ করতে পারব না। পারব না নয়, বলতে হবে সম্ভব নয়। সারা পৃথিবীর মানুষ তাকিয়ে আছে এখন আমাদের দিকে। হাতে সময় ও নেই। সব মেশিন চালু হয়ে গিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমরা সফল ভাবে একটি Big Bang ঘটাতে যাচ্ছি।

আমরা শুরু করব বিজ্ঞানের এক নতুন অধ্যায়।

 

এলান বলে উঠল, দেখো। আমরা আমাদের হিসেবে বিশাল এক ভুল করে আসছি। একবারে শুরুতেই ভুল। তাই আমাদের চোখে পড়ে নি। দেখ, বলে এলান অনেক গুলো ডেটা দেখাতে লাগল। বলল আমরা হিসেব করছি আমাদের পৃথিবীর পদার্থ বিজ্ঞানের সাপেক্ষে। কিন্তু Big Bang ঘটার পর আর আমাদের পৃথিবীর পদার্থ বিজ্ঞান কাজ করবে না। এক সেকেন্ডের ও কম সময়ের মধ্যে এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ধংশ হয়ে যাবে এ সৌর জগৎ। ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের এ প্রিয় গালাক্সি মিল্কি ওয়ে। আমি জানি না এ পুরো মহাবিশ্ব ধ্বংস হবে কিনা। এখনো ক্যালকুলেশন সম্পুর্ন হয়নি। তবে এ মহা বিশ্বের বিশাল একটা অংশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তৈরি করবে নতুন আরেকটি মহাবিশ্ব।

দ্রুত চিন্তা খেলে গেলো ঐখানে থাকা বিজ্ঞানীদের। এলান এর হিসেব ঠিক থাকলে আসলেই বিশাল এক ভুল করতে যাচ্ছে তারা। কাউণ্ট ডাউনের দিকে তাকালো সবাই। সবাইকে নিরাপদ দূরত্ত্বে যাওয়ার সাইরেন অনেক আগে থেকেই বেজে চলছে।

কাউন্ট ডাউনটি বিপ বিপ শব্দে টিক টিক করছে। ন্যানো সেকেডের সংখ্যা গুলো দ্রুত কমছে। মানুষের জন্য সহজ দৃশ্যমান সেকেন্ডের সংখ্যা গুলোতে উঠতে থাকল ০৩ … ০২ … ০১ … ০০ …

নিরাপদ দূরত্বে যেতে বললেও ঐ খানের বিজ্ঞানীরা যায় নি। সারা পৃথিবীর মানুষ যেখানে আনন্দ উল্লাস শুরু করল সেখানে এরা বিশাল চিন্তায় পড়ল। সত্যি কারেই কি পৃথিবী ধ্বংস হতে চলছে? তাহলে তো তারা কিছু চিন্তা করার ও সময় পাবে না…

 

নাহ! সুন্দর ভাবেই Big Bang সংঘঠিত হয়েছে। সব কিছুই ঠিক মত হচ্ছিল। বিজ্ঞানের সত্যিই এক নতুন অধ্যায় এর সূচনা হলো…

 

কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার সাইরেন বেজে উঠল। স্কিনে ওয়ার্নিং লেখা সম্বলিত অনেক গুলো লেখা উঠল। সত্যি, সেকেন্ডও সময় ফেলো না নিরাপদ বলয় গলে গেলো। পৃথিবীর সব চেয়ে শক্তিশালী বলয় এক সেকেন্ডের ও কম সময়ে ধ্বংস হয়ে গেলো।

এলানের হিসেব সঠিক প্রমাণ করে পৃথিবী একোটা জলন্ত লাভায় পরিণত হলো। সৃষ্টি হলো নতুন আরেকটি মহাবিশ্বের। যেখানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছর পর আবার তৈরি হবে পৃথিবী নামক কোন গ্রহ। বিবর্তিত হতে হতে মানুষ বা এমন কোন প্রাণী সৃষ্টি হবে। আবার তৈরি হবে একটি সভ্যতা। তারা আবার নিজেদের তৈরি Big Bang ধ্বংস হয়ে যাবে না তো?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *