হলিউড

আমার মত বাউন্ডুলের হলিউডে জব হবে, আমি নিজেই ভাবতে পারি নি। নেট সার্ফিং করতে করতে একটা ওয়েব সাইটে দেখলাম প্যারামাউন্ট পিক্সার নতুন এনিমেটর খুঁজছে। সিভির পাশা পাশি নিজের করা দুটি এনিমেশন এর লিঙ্ক দিয়ে দিয়ে সিভি পাঠিয়েছি। কয়েক দিন পর প্যারামাউন্ট থেকে মেইল। এভাবে হঠাৎ করেই প্যারামাউন্ট পিক্সারে জবটা হয়ে যায়।
কয়েক দিন পর ফ্লাইট। প্রেমার সাথে আমার একটু আধটু জানা শুনা ছিল। জব পাওয়ার পর মা বাবা উঠে পড়ে লেগেছে বিয়ের জন্য। উনাদের বিশ্বাস আমি যদি অ্যামেরিকা চলে চাই, আর ফিরব না। তাই উনারা চায় আমি বিয়ে করে তারপর জবে জয়েন করি। উনাদের কথায় অর্ধেক রাজি হয়েছি। অর্ধেক কারণ হচ্ছে আমি শুধু এঙ্গেজম্যান্ট করে রাখব বলেছি। এরপর কয়েক দিন জব করে এসে বিয়ে।
মেয়েদের রিং গুলো এত সুন্দর। সুন্দর গুলো থেকে বাঁচাই করে একটি রিং পছন্দ করেছি প্রেমার জন্য। এরপর ছোট খাটো একটা অনুষ্ঠান করে আমার আর প্রেমার এঙ্গেজমেন্ট সম্পুর্ণ করেছি।
ফ্লাইটের দিন সবার সাথে বিদায় নিচ্ছিলাম। আমার হবু বউ, প্রেমাও ছিল। আসার সময় তাকে বলছি, চিন্তা যেন না করে। দূরে যাচ্ছি না। পর্দার আরেক পাশে যাচ্ছি। স্কাইপি রয়েছে,যে কোন সময়ই দেখা যাবে। পর্দার আরেক পাশেই তো। শুধু ধরা যাবে না এই আরকি।
দূর্ভাগ্য ক্রমে আমাদের বিমানটি এক্সিডেন্ট করে। আহ! এত গুলো ফ্লাইট হয় প্রতিদিন। আমাদেরটাই কেন এক্সিডেন্ট করতে গেলো? সবাই চিন্তিত। ঠিক আছি তো? হ্যাঁ, আমি ঠিকই ছিলাম। কয়েক দিন পরই যেখানে আমাকে বিদায় জানিয়েছিল, সেই একই জাগায় আবার আমাকে রিসিভ করতে এসেছে। এবার শুধু মা বাবা। তাদের চোখে পানি। ঐ দিন বিদায় দিতে গিয়েও কান্না করেছিল। আজ ও কান্না করছে। ঐ দিন আমি চোখের পানি মুছে দিয়েছি। আজ আমি মুছে দিতে পারছি না। কারণ আজ আমি হুইল চেয়ারে। দাঁড়াতে পারছি না। ছেলেদের কান্না করতে নেই, তাই আমি কান্না করছি না। চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছে।
এখন বায়োনিক যুগ। বায়োনিক পা লাগানো যাবে। আর্টিফিশিয়াল প্রোসথেটিক লেগ বা বায়োনিক পা। আবার অ্যামেরিকায় যেতে হবে, টেক্সাসে। যে পা ব্যবহার করে পাহাড়েও উঠা যাবে। পা হারানো নিয়ে আমি চিন্তা করছি না, এক্সিডেন্ট হতেই পারে। এটাই জীবন। সব মেনে নিয়েছি।
বাড়ি ফেরার দুই দিন পর প্রেমা এসেছিল। আমার হাতে ছোট্ট একটা প্যাকেট দিয়েছিল। ভেতরে কি ছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রেমা আমার হবু বউ থেকে আবার একটি মেয়ে হয়ে গিয়েছে। কত সহজেই। আমার কষ্ট পাওয়ার কথা, কিন্তু কষ্ট লাগে নি। সে রিংটি ফেরত না দিলেও পারত। রিংটি তো সে ধার করে নি যে ফেরত দিবে। নিজ থেকে দিয়েছিলাম, ফেরত দেওয়ার জন্য নয়। আজীবনের জন্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *