সাইন্স ফিকশন – গাইনয়েড

ইথান তার ভার্চুয়াল কাজ গুলোতে হেল্প করার জন্য একটা এসিস্ট্যান্ট তৈরি করেছে। যার কাজ হচ্ছে তার দরকারি মেইল এবং মেসেজ গুলো সম্পর্কে জানানো এবং অদরকারী গুলো ডিলেট করে দেওয়া। দরকারি ইভেন্ট গুলো সম্পর্কে জানানো, সে যেন দরকারি কোন ইভেন্ট মিস না করে। এবং খাবারের সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে তাকে খাবারের কথা জানিয়ে দেওয়া ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টটি তৈরি করেছে একটা ওপেনসোর্স আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রজেক্টের উপর নির্ভর করে। কারণ তার এসিস্ট্যান্টকে তো বুঝতে হবে কোনটা দরকারি আর কোনটা বে দরকারি। সব গুলো কোড নিজে লিখতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে, তাই ওপেন সোর্স লাইব্রেরী ব্যবহার করে তৈরি করেছে। ঐ ওপেন সোর্স প্রজেক্টটি তৈরি করেছে এবং দেখা শুনা করে সেন্টেলিয়ন নামক একটি প্রতিষ্ঠান। সেন্টেলিয়ন অনেক দিন থেকে বুদ্ধিমান এবং কনসাছ রোবট নিয়ে কাজ করছে। যারা অনেক এন্ড্রয়েড এবং গাইনয়েড তৈরি করেছে।

ইথান তার ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট এর সাথে মাঝে মাঝে কথা বলে। প্রোগ্রামটি ইথানকে প্রায় সময়ই তার পারসোনাল লাইফ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। কেমন আছে, কি করে, কোথায় গিয়েছে, কেন গিয়েছে এসব আরো কত কিছু। ইথান স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দেয়।

একদিন ইথান দেরি করে বাসায় ফিরল। আসার সাথে সাথেই তার ভার্চুয়াল এসিস্টেন্টটি জিজ্ঞেস করল এত দেরি হয়েছে কোন? আমি কতক্ষণ থেকে অপেক্ষা করে বসে আছি। কত কথা জমে আছে বলার জন্য। হঠাৎ ইথানের মনে হলো এটা তো একটা প্রোগ্রাম। এভাবে কথা বলার কথা না। ইথান বলল, এভাবে তো শুধু মানুষই কথা বলে। ভার্চুয়াল এসিস্টেনটি বলল, আমি তো মানুষ। বলেই হেসে উঠল। ইথান ও হেসে উঠল।

অন্য একদিন ইথান বসে আছে কম্পিউটারের সামনে। একটা প্রজেক্ট নিয়ে খুব ব্যস্ত। এদিকে খাওয়ার কোন নাম নেই। ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট তাই কিছুক্ষণ পর পরই মনে করিয়ে দিচ্ছে। ইথান তখন বিরক্ত হয়ে বলল, আর বলতে হবে না। আমি খেয়ে নিব। ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্টটি তখন কান্না শুরু করল। ইথানের সন্ধেহ হলো। একটা প্রোগ্রাম কিভাবে কান্না করতে পারে!

ইথান বলল, মানুষের মত এমন কান্না কর কেনো?

প্রোগ্রামটি ঐ দিনের মত আবার ও বলল, আমি তো মানুষই। আজ গম্ভীর কণ্ঠে।

ইথান বলল মানে?

প্রোগ্রামটি বলল আমি মানুষ। একজন হ্যাকার। তোমাকে ভালো লাগার কারণে তোমার প্রোগ্রাম হ্যাক করেছি।

মানে! ইথান তার প্রোগ্রাম পর্যবেক্ষণ করে দেখল সত্যিই তার প্রোগ্রাম হ্যাক হয়েছে।

ইথান জিজ্ঞেস করল কিভাবে?

প্রোগ্রামটি বলল দেখা হলে বলব। কাল সকালে বের হবা। তখন দেখা হবে। আর খেয়ে নিও।

ইথান নিস্তব্ধ হয়ে বসে ছিল কিছুক্ষণ। কি সব হচ্ছে এসব। কিছুক্ষণ পর পেটে জানান দিল খেতে হবে। খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ল।

পরের দিন কি মনে করে বের হলো। কি হচ্ছে তার সাথে, তা জানা দরকার। একটা মেয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল হ্যালো ইথান, আমি ইভা। তোমার হ্যাকার।

মেয়েটির সৌন্দর্য দেখে ইথান হা হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। এত সুন্দর মেয়ে হয় নাকি! মেয়েটি বলল, এমন হা করে তাকিয়ে না থেকে চলো কোথাও বসি। ইথান হাত বাড়িয়ে দিল। ইভা ইথানের হাত ধরে হাঁটা শুরু করল। ইথান ও কখন যে হাঁটা শুরু করেছে, নিজেও টের পায় নি।

হাঁটার সময় ইভা একবার পেছনে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিল। ঠিক একটা সত্যিকারের মেয়ের মত। আসলে যে ছিল একটা গাইনয়েড!


One thought on “সাইন্স ফিকশন – গাইনয়েড

  1. সত্যি কি এই রকম একটা ভার্চুয়াল এসিস্ট্যান্ট তৈরি করা কি সম্ভব?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *