সমস্যার উপর ই ঘুমিয়ে পড়ুন।

কোন দিন যদি মাথায় প্রশ্ন আসে যে, জীবন কি? তার উত্তর হচ্ছে সমস্যা। আর যদি প্রশ্ন চিন্তা আসে জীবনের মানে কি, তার উত্তর হচ্ছে সমস্যার সমাধানই হচ্ছে জীবনের মানে।

আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন যে অনেক গুলো বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে স্বপ্নে। আমাকে পাগল ভাবলেও সমস্যা  নেই, এটাই সত্যি। যে সকল সমস্যার সমাধান স্বপ্নে হয়েছে তার একটা লিস্ট দিতে পারলে আমার ভালো লাগতো। স্বপ্নে কি মানুষ মস্তিষ্ক কাজ করে? এর উত্তর আপনি নিজে বের করে নিন।

যখন কোন সমস্যায় পড়বেন তখন মাথায় তাই রাখুন সম সময়। খেতে ঘুমুতে, হাটতে সব সময়। এ ক্ষেত্রে হাটার সময় আবার চিন্তা করলে একটা সমস্যা হতে পারে, গাড়ির নিচের পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বা আপনি পথ ভুল করে অন্য দিকে ও চলে যেতে পারেন।

পারলে বাথরুমে গিয়েও চিন্তা করুন। চিন্তার সবচেয়ে ভালো জায়গা হচ্ছে বাথরুম। এটা আরেকটা বাস্তবতা। আমি জানি না কেন। তবে বাথরুমে অনেক গুলো সমস্যাই সমাধান হয়েছে।

আর্কেডিমিসের গল্প তো আপনারা জানেন তাই না? প্লবতার সূত্র বাথরুমে সলভ করার পর ইউরেকা ইউরেকা বলে চিল্লাতে চিল্লাতে উলঙ্গ অবস্থায়ই বের হয়ে পড়েছে।

সমস্যার উপরই ঘুমিয়ে পড়া মানে হচ্ছে আপনি সব সময়ই আপনার সমস্যার কথা ভাবুন। কিভাবে কি করা যায় তাই ভাবুন। দেখবেন ফলাফল পেয়ে যাবেন। আমাদের এক স্যার, সাহরিয়ার মঞ্জুর। ACM এর বিচারক এবং সমস্যা সেটকারী। স্যারদের নিয়ে যখন কোন অনুষ্টান হয় তখন তিনি বসে বসে ভাবেন। যখন স্যারকে কিছু জিজ্ঞেস করা হয় তখন উনি মাথা চুলকায়, মানে হলো ঐ সময় যা হয়েছিল তা তিনি শুনেন নি। এভাবে শোরগোলের মধ্যে চিন্তা করতেও ক্ষমতা লাগে। আসলে ক্ষমতা না, মহা একটা ক্ষমতা। কারন আমরা তো আর পারবো না এরকম চিল্লাচিল্লির সময় নিজের মস্তিষ্ককে কাজে লাগাতে।

এখন আপনি হয়তো চিন্তা করতে পারেন আমি কি নিয়ে ভাবব? কি ধরকার আমার সমস্যা নিয়ে ভাবার। সমস্যা গুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনেরই হতে পারে। যেকোন সমস্যা যেমন বাজার করা, খাওয়া, ঘুমানো বা পড়ালেখা করা, বাড়ির কাজ করা, এসব যেকোন সমস্যার যদি কোন ফলাফল না পেয়ে থাকেন তাহলে তা নিয়েই চিন্তা করুন। আর যে সমস্যা টা সমাধান হয়ে গেছে তা নিয়েও চিন্তা করতে পারেন, কিভাবে জানেন? যারা চাকরি করেন তাদের এসাইনমেন্ট গুলো কিভাবে সহজে করা যায় তা নিয়ে ভাবতে পারেন।   যে সমস্যাটা সমাধান হয়ে আছে তা আগের থেকে কিভাবে ভালো করা যায় তা নিয়ে ভাবুন। হয়তো আরো ভালো কোন সমাধান পেয়ে যাবেন। আর যারা পড়ালেখা করে তাদের বড় সমস্যাই হচ্ছে পড়ালেখা। আপনি যদি পড়ালেখা না করে কিভাবে ভালো করা যায় তা বের করতে পারেন তাও মন্দকি, তবে অবশ্যই অসৎ উপায় বর্জন করে চিন্তা গুলো করলে ভালো হবে। আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, কোন ধর্মেই বলেনি যে আনইথিক্যালি কোন কিছু করতে।

আপনি যদি প্রোগ্রামার, ওয়েব ডেভলফার হয়ে থাকেন তাহলে আরো বেশি সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কোন কিছু না পারলে তা চিন্তা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়ুন। হয়তো ভালো ফলাফল পেয়ে যাবেন।

ঘুমানোর সাথে কাগজ কলম নিয়ে গুমানোর অভ্যেস করা ভালো। এখন তো অনেকেরই ফোন/ট্যাবলয়েড রয়েছে। কোন চিন্তা যদি মাথায় আসে অলসতা না করে লিখে ফেলুন। হয়তো ঐটাই হবে আপনার সবচেয়ে ভালো আবিষ্কার। হয়তো ঐটাই হবে যুগান্তকারী কিছু। নিজেকে ছোট কখনো ভাববেন না। কখনো না। আপনি জানেন না আপনার শক্তি সম্পর্কে। আপনার ক্ষমতা সম্পর্কে।


9 thoughts on “সমস্যার উপর ই ঘুমিয়ে পড়ুন।

  1. Topic টা ভাল। এই Topic টা নিয়ে আরএকটু গবেষনা করে লিখলে আরেকটু ভালো হতো।

  2. আপনি কি কোন সমাধান পেয়েছেন? যাই হোক মজার বিষয়

  3. দারুণ সুন্দর এবং গুছিয়ে চমৎকার একটি লেখা উপহার দিয়েছেন। কতোটা যে inspired হয়েছি বলে বুঝাতে পারবো না, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে 🙂

  4. কিছু দিন আগের কথা আমি একটি অ্যাপ তৈরি করতে চাচ্ছি ইংরেজি থেকে কীভাবে বাংলা তারিখ বের করা যায় সেই অ্যাপটির এলগরিদম তৈরি করতে গিয়ে দেখি কত বিষয় আমার অজানা ছিল সেই বিষয় গুলা নিয়ে অনেক চিন্তা করতাম খাওয়ার সময়, গুসলের সময় , নামাজ পরতে গিয়েও সেই এলগরিদম নিয়ে ভাবতাম কীভাবে কি করা যায় । প্রায় সময় আমার কম্পিউটারের সামনে ঘুমিয়ে পড়তাম আর ঘুম থেকে যখন উঠতাম দেখতাম অনেক গুলো বিষয় আমার সহজ মনে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *