রুমা

রুমা। মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। কেউ দেখলেই বলবে সে দশম শ্রেণীতে পড়ে। দেখতে অনেক বড় হয়ে গেছে। অনেক লম্বা, অনেক সুন্দর। আর যেমন সুন্দর তেমনি তার জ্ঞান। সবাই তাকে আদর করে। আদরটা তার প্রাপ্য করবেনা কেন? সবার কথা শুনে। এ বয়সেই দায়িত্ব নেয়া বুঝে গেছে। ক্লাসে কোন মেয়ের পড়া লেখার সমস্যা হলে সে দেখিয়ে দেয়। কোন অংক না বুঝলে তার কাছে ছুটে আসে। আর সে ও একদম শিক্ষকের মত অংকটি করে বুঝিয়ে দেয়। এ হচ্ছে আমাদের ছোট রুমা। সে সুন্দর ভাবেই দিন পার করতে ছিল।
কিন্তু কোন সুখ ই বেশি দিন সয় না, তার বেলাতেও তাই হল। তাদের এলাকার চেয়ারম্যান এর ছেলে কলেজে পড়ে। কিন্তু কলেজের ধারে কাছে ও নাগিয়ে পাড়ার মেয়েদের পেছনে লাগে। স্কুলে যাওয়ার সময় তাদের নানা ভাবে বিরক্ত করে। চেয়ারম্যানের ছেলে বলে কেউ কিছু বলতে পারে না। দুর্ভাগ্য ক্রমে তারা এবার রুমার পেছনে লাগলো। তার স্কুলে যাওয়ার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আর সে আসলেই অনেক বাঝে বাঝে কথা বলে। কোন কোন দিন তার একদম সামনে এসে এমন সব অঙ্গ ভঙ্গি করে আর বাঝে মন্তব্য করে যে তার মরে যেতে ইচ্ছে করে। প্রথমে সে এ সম্পর্কে তার বাবাকে কিছুই জানায় নি।
কিন্তু দিন দিন তাদের অত্যাচার বেড়ে যাওয়ায় সে তার আব্বুকে জানায়। তার আব্বু ঘটনা শুনে তাদের ডাক দিতে যায়। তার আব্বু জানে ছেলে যেমন বদের হাড্ডি তার বাবা ও একই রকম । এদের ডাক দিয়ে কিছুই লাভ হবে না। তার পর ও তিনি ওদের এ সব করতে মানা করল। তারা ডাক শুনে এমন সব কথা আরম্ভ করল যে তিনি মেয়ের সামনে লজ্জায় পড়ল। আর রুমার ও একই অবস্থা হল। সে মনে মনে ভাবল কেন যে সে তার আব্বুকে জানালো। সে তার আব্বুকে নিয়ে চলে আসলো। তা দেখে বজ্জাতের হাড্ডি গুলো হাসাহাসি করতে লাগলো। এত দিন শুধু সে নিজে অপদস্থ হত, আর আজ তার বাবাও হল।
ঐদিন সে আর স্কুলে যায় নি। তার বাবার সাথে ফিরে চলে আসলো। সে মনে মনে ভাবলো সে আর স্কুলে যাবে না। প্রতি দিন এভাবে অপমানিত হওয়ার থেকে বাসায় বসে থাকে ভালো। পরের দিন সে স্কুলে যেতে না দেখে তার আব্বু জিজ্ঞেস করলে সে বলল তার শরীর খারপ। তার আব্বুও জানে মেয়ে তার কি জন্য স্কুলে যায় না তাই আর বেশি কথা বলল না।
কিন্তু দুই তিন দিন তাকে স্কুলে যেতে না দেখে চেয়ারম্যানের ছেলে ও তার বন্ধুরা তাদের বাড়িতে চলে আসল। তাদের বাড়িতে ঢিল চুড়তে শুরু করল। তার আব্বু বাসায় ছিলো না। তার আম্মু বাহিরে কি হচ্ছে দেখার জন্য তাকে বাহিরে দেখতে বলল। সে জানে কে এমন করে তার পর ও সে গেল। সে গিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করল এমন করেন কেন। ওরা বলে উঠল ওই তো পরী বের হয়ে এলো। চেয়ারম্যানের ছেলে টা বলল তোরা একে ধরে নিয়ে আয় বলেই সে নিজেই রুমার একটি হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল। রুমা কিছু না বুঝে চিৎকার দিতে লাগল। তার মা মেয়ের চিৎকার শুনে বের হয়ে  দেখল রুমাকে নিয়ে ওরা মোটর চাইকেলে করে চলে যাচ্ছে। সেও চিৎকার আরম্ভ করল। তাদের সাহায্য করার জন্য আশে পাশে কেউই ছিলো না।
এ দিকে রুমা এতদিন কেন স্কুলে যায় না, তার খবর নিতে তার এক বান্ধবী আসল। তারা এসে সব কিছু শুনে স্কুলে গিয়ে  তার অন্যান্য বান্ধবীকে জানায়। সবাই রুমাকে খুঁজতে বের হল। কিন্তু রুমা ওদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ছাড়া পেয়ে দৌড়াতে লাগলো। কিন্তু তাদের সাথে দৌড়ে না পেরে সে দিশেহারা হয়ে পড়ল। সে দেখল তাদের এলাকার বড় পুকুরটি সে শেখানেই সে লাফ দিলো। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও রুমাকে না উঠতে দেখে বখাটের দল কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে গেল। আর তারা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আমদের ছোট রুমার মৃত দেহ ভেসে উঠল।

One thought on “রুমা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *