রংপেন্সিল

ফাহাদের অনেক সুন্দর একটা রঙ পেন্সিল বক্স আছে। ফাহাদ ঠিক মত আঁকতে পারে না। আকার সময় হৃদয় বলে দেয়, এভাবে নয়, ঐভাবে। এ রঙ নয়, ঐ রঙ। ফাহাদ কোন কিছুই কানে নেয় না। নিজ মত করে রঙ নষ্ট করে। হৃদয়ের কাছে কষ্ট লাগে। ছোট বাচ্ছাদের কষ্ট অনেক বেশি। হৃদয় ভাবে, তার যদি এমন সুন্দর একটা রঙ পেন্সিল বক্স থাকত, কত সুন্দর কিছুই না আঁকতে পারত।

স্কুলে যাওয়ার পথে যে লাইব্রেরীটা আছে, ঐখানে ঐ দিন কলম নিতে গিয়ে দেখল ফাহাদের মত রঙ পেন্সিলের বক্স পাওয়া যায়। ঐদিনই তার বাবাকে এসে বলল। বাবা দিন বলল কিনে দিবে। এর পর প্রতিদিনই হৃদয় তার বাবাকে রঙ পেন্সিল কিনে দেওয়ার কথা স্মরন করিয়ে দেয়। প্রতিদিনই বলে, অন্য আরেকদিন কিনে দিবে।

সালামের রিক্সায় আজ অস্থির দুইটা ছেলে উঠেছে। কিছুক্ষণ পর পরই বলে আরেকটু জোরে চালাও মামা। আরে, এদিকে কেন ঐদিক দিয়ে চালাও। সালাম সব শুনে যায়। যাত্রীর কথা শুনার চেষ্টা করে।
রিক্সায় চালায় আর ভাবে, আজ হৃদয়ের জন্য রঙ পেন্সিলের বক্সটা কিনে নিবে। রঙ পেন্সিল পেলে হৃদয়ের হাসি মাখা মুখ কেমন লাগবে তা ভাবতে লাগলো। রিক্সাতে নিজ অজান্তেই দ্রুত প্যাডেল দিতে লাগল। সামনেই জ্যাম। আবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ব্রেক কষতে হলো। পেছনের ছেলে দুইটা আবার ডিরেকশন দিতে লাগল। বলল মামা, ঐ পাশ দিয়ে যাও। ঐ দিকে জ্যাম নেই।

ছেলে দুইটি রাস্তার অফজিট দিয়ে যেতে বলল। যাত্রীদের কথা শুনতে হয়, আবার নিয়ম ও মেনে চলতে হয়। টাকা কথা চিন্তা করে নিয়ম ভঙ্গ করে অপর পাশ দিয়ে রিক্সা চালিয়ে নিচ্ছিল। সামনেই একটা ট্রাফিক পুলিশ। রিক্সা থামালো। ছেলে দুইটার অনেক তাড়া, রিক্সা থামানোর সাথে সাথেই নেমে চলে গেলো। কোন টাকা দেওয়া ছাড়াই। নিয়ম ভঙ্গ করার কারণে ট্রাফিক পুলিশ রিক্সার সিট রেখে দিল। অনেক অনুনয় করার পরেও সিট ফিরে ফেলো না।

সালাম সিট বিহীন রিক্সা নিয়ে রাস্তার এক পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। করুণ চোখে ট্রাফিক পুলিশের দিকে তাকিয়ে থাকল। ট্রাফিকের চোখে কোন মায়া সে দেখল না। রিক্সা রেখে ফিরে এলো, ট্রাফিক পুলিশের কাছে। একটা অ-লিখিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশের হাতে দিনের আয় করা সিংহ ভাগ দিয়ে সিটটা ফিরে পেলো।

ভঙ্গ মন নিয়ে সে হাতির ঝিলের দিকে আসল। রিক্সাকে এক জাগায় রেখে ঘাশের উপর বসে পড়ল। আজ আর রিক্সা চালাতে ইচ্ছে করে না। কত ইচ্ছে ছিল আজ হৃদয়কে রঙ পেন্সিল কিনে দিবে। ব্যর্থ বাবা। প্রতিদিন মিথ্যে আশ্বাস দিতে একটুও ভালো লাগে না তার। চোখ দিয়ে একটু পানি বের হতে চাচ্ছিল, সেগুলো হাতের অপর পাশ দিয়ে মুছে ফেলল।

হাতিরঝিলের অপর পাশে হয়তো একটু আগে বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। সুন্দর একটা রংধনু দেখা যাচ্ছে। সে বিশ্বাস করে কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কোন কিছুই না। আবার বিশ্বাস করে সব কিছু একদিন সুন্দর হয়ে উঠবে, ঐ রংধনুর মত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *