বৃত্ত

বৃত্তের বাহিরে কয়জনে বের হতে পারে? পারে না। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই পারে না।

মাহি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে যখন টিকতে পারে নি, তখন বাবার বাঁকা চোখ দেখতে হয়েছে। হচ্ছে। বাবাকেও কি বলবে। পর্যাপ্ত টাকা থাকলে হয়তো বলতে পারতো, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দিন। বলতে পারে নি। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করাও মনে হয় এক ধরনের অপরাধ। যে অপরাধে অপরাধী মাহি।

মাহি নিজেকে ব্যর্থদের সারিতে দাড় করিয়ে দিয়েছে। অথচ পাবলিকে টিকে গেলে কত ভালোই না হতো। গল্পটা কত সুন্দর হতো।

অনেক কিছুই ভাবে। আচ্ছা, কেন পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে সিট এত কম? কেন হাতে গোনা অল্প কয়েকটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি? যেখানে এত বেশি ছাত্র ছাত্রী। এত বেশি ছেলে মেয়ে পাশ করে।

মাহি সুপারম্যান না। সাধারন ছাত্র। সুপারম্যান হলে হয়তো সব কিছু মুখস্ত করে ফেলতো। সব কিছু বুঝে ফেলত। সব কিছু মুখস্ত করে আর বুঝে পরীক্ষা দিলে নিশ্চই পাশ করে যেতো। টিকে যেতো কোন একটা ইউনিভার্সিটিতে। টিকে নি, কারণ সে অতি সাধারণ একটা ছাত্র।

তার বন্ধুদের কেউ কেউ ইউনিভার্সিটিতে টিকে গিয়েও আপসুস করে, পছন্দের বিষয়টি পায় নি বলে। মাহির যে কোন একটা বিষয় পেলেই হতো। এত আপসুস করত না।

কত গল্পই না সে পড়ল, কত অনুপ্রেরণীয় গল্প। তাদের মত কিছু করতে কার না ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে মাহির ও। ইচ্ছে করলেই তো হয় না। সব কিছু চিন্তা করতে হয়। মাহি চিন্তা করে।

চিন্তা করে আরো এক বছর অপেক্ষা করবে কিনা। এক বছর অপেক্ষা করে আবার পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা দিবে নাকি বৃত্তের বাহিরে বের হওয়ার চেষ্টা করবে। দোটানায় রয়েছে। দোটানায় থেকেও ভাবে, একদিন ঠিকই সব কিছু ঠিক হবে। তার বাবা তাকে নিয়ে গর্ব করবে। মায়ের মুখে সুন্দর হাসি দেখবে। অন্যসব সফলদের মত তারও একটা গল্প হবে। হতেই হবে…


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *