প্রোগ্রামিং করি, স্বপ্ন দেখি

একটা প্রোডাক্ট যত বেশি মানুষ ব্যবহার করবে, তত বেশি আয় হবে ঐ প্রোডাক্ট থেকে। যেমন ইউনিলিভারের প্রোডাক্ট গুলো। মানুষ প্রতিদিনই ব্যবহার করে। এখন তাদের প্রোডাক্ট গুলো যত বেশি দেশে তারা সরবরাহ করতে পারবে, তত বেশি আয় হবে তাদের। এ জন্য পৃথিবীর অনেক দেশেই তাদের প্রোডাক্ট ছেড়েছে। বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। ইউনিলিভারের প্রায় ৪০০ ব্র্যান্ড রয়েছে। ১০০ বছরেরও বড় একটা কোম্পানি হচ্ছে ইউনলিভার।

ইউনিলিভার একশ বছরে এবং ৪০০টি ব্র্যান্ড নিয়ে যে অবস্থানে এসেছে, একজন প্রোগ্রামার মাত্র একটা প্রোগ্রাম নিয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যে একই পজিশনে আসতে পারে এবং পেরেছে। এটা প্রোগ্রামিং এর ম্যাজিক।

মোবাইল নেই, এমন লোক খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। কারো কারো দুই তিনটাও থাকে। বলতে গেলে দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমানোর সময় ছাড়া বাকি সময় মোবাইলের সাথেই কাটে। ঘুম ভাঙ্গেও মোবাইলের এলার্মে। তো কেউ যদি একটা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে ইউনিলিভারের মত একটা বিশাল মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি থেকে বেশি প্রফিট করে, তাহলে তা কোন রূপকথার গপ্প নয়। সত্যি। কারণ ইউনিলিভার যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, একটা অ্যাপ তার থেকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। COC [Clash of Clans] এমন একটি উদাহরণ। ইউনিলিভার প্রোডাক্টের বিকল্প রয়েছে। COC এর কোন বিকল্প নেই 😛

প্রোগ্রামিং জানা থাকলে যে কেউ সুন্দর একটা আইডিয়া নিয়ে যদি কোন প্রোগ্রাম তৈরি করে, তা যদি সত্যিই মানুষের কাজে আসে, তাহলে মানুষ এমনিতেই তা ব্যবহার করবে। এডভার্টাইজ করতে হবে না, বড় কোম্পানি গুলোর মত। শূন্য থেকে বিলিয়নিয়ার হওয়ার সবচেয়ে সহজ রাস্তা। এমনকি যদি বিলিয়নিয়ারদের লিস্ট দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে যারা উত্তরাধিকার সূত্রে বিলিয়নিয়ার নয়, তাদের বেশির ভাগই প্রোগ্রামার।

আমি বলছি না যে আপনি আজ একটি অ্যাপ তৈরি করলেন, কালই আপনি বিলিয়নিয়ার হয়ে যাবেন। আমি বলছি না আপনি একটি অ্যাপ তৈরি করেই বিলিয়নিয়ার হয়ে যাবেন। ভালো আইডিয়া হলে ১০টা অ্যাপ বা প্রোগ্রাম তৈরি করলে এর একটা না একটা হিট করবে। ৫০টা প্রোগ্রাম তৈরি করাতেও তো কোন সমস্যা নেই। চেষ্টা করে গেলেই হবে। আবার বলছি না এক বছরেই সফল হয়ে উঠতে পারবেন। ১০ বছর ও লাগতে পারে। ইউনিলিভার ১০০ বছরে লক্ষ জনবল নিয়ে আজ যে পজিশনে এসেছে, আপনি ১০ বছর চেষ্টা করে একই পজিশনে আসলে ক্ষতি তো নেই। তাই না?

১০টা অ্যাপ তৈরি করেছেন, ঐগুলো তেমন হিট হয় নি। অল্প কিছু মানুষ ব্যবহার করে, তাতেও সমস্যা নেই। কারণ ঐ ১০ টা অ্যাপ থেকে যে প্রফিট হবে, তা দিয়ে একটা মানুষ হেসে খেলেই জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে। এখানে ইনভেস্ট কিছুই করতে হচ্ছে না। শুধু নিজের সময় গুলোকে কাজে লাগাতে হচ্ছে। আর কিছু না।

এ ছাড়া সামনে আমাদের জন্য কনজিউমার রোবট আসছে। আমাদের সবার যেমন এখন স্মার্ট ফোন রয়েছে, তেমনি হয়তো প্রতিটি বাসায় একটা করে রোবট থাকবে। সে রোবটের জন্যও তো প্রোগ্রাম লিখতে হবে। তো প্রোগ্রামিং শিখে রাখলে কোন না কোন ভাবে কাজে লাগানো যাবে। হ্যাপি প্রোগ্রামিং 🙂


2 thoughts on “প্রোগ্রামিং করি, স্বপ্ন দেখি

  1. এক সময় আমিও COC addicted ছিলাম। প্রোগ্রামিং এর জগত এ ঢুকার চিন্তা আসার পরদিন COC ডিলিট করে দিয়েছি। আপনার প্রতিটি পোস্ট পড়ে অনেক অনুপ্রেরনা পাই,শিখতে পারি অনেক কিছু।আপনি লিখেছেন “”পৃথিবীতে একটু বেশি সময় থাকার জন্যই কিছু লেখার চেষ্টা। কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা।””আপনি কারোর মনে বেচে আছেন বা থাকবেন কিনা জানিনা।কিন্তু আমি যতদিন বেঁচে আছি,ততদিন আমার মনে আপনি বেঁচে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *