নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া এবং মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ

নিঝুম দ্বীপ এসে পৌঁছিয়েছি। অনেক গুলো পথ পাড়িয়ে দিয়ে এখানে এসেছি। হরিণ ছানা দেখার জন্য। বেশি দূরের পথ নয়। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ভয়াবহ খারাপ। চট্রগ্রাম থেকে সকাল ৭টায় বের হয়েছি, এখানে রাত ৯টায়  এসে পৌঁছেছি। আমার সাথে ছিল তানভীর ভাই। উনি আগের দিন সকালে এসএমএস দিয়ে জিজ্ঞেস করল নিঝুম দ্বীপ যাবো কিনা। আমি বললাম যাবো। এরপর কথা বলে ঠিক করলাম পরের দিন সকালে বের হবো। এভাবেই আমাদের যাত্রা শুরু।

 

চট্রগ্রাম থেকে বাসে করে এসেছি সোনাপুর। সেখানে এসে সকাল এবং দুপুরের খাবার এক সাথে খেয়েছি। অনেক টাকা সেভ করে ফেলছি, হা হা।

সোনাপুর থেকে CNG করে এসেছি চেয়ারম্যান ঘাট। আসার সময় CNG ওয়ালাকে জিজ্ঞেস করললাম কিভাবে যাওয়া যায় নিঝুম দ্বীপ। বলল চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলারে করে যেতে হবে কমরুদ্দি ঘাট, হাতিয়া। কমরউদ্দি ঘাট থেকে প্রায় ৬০ কিলো দূরে হচ্ছে মোক্তার  ঘাট। এখান  থেকে আবার ট্রলারে করে নিঝুম দ্বীপ। বলল আজ নাকি যাওয়া যাবে না। অনেক দেরি হবে। আমাদের হাতিয়া থেকে যেতে পরামর্শ দিল।
চেয়ারম্যান ঘাট নামের সাথে ঐখানের মাঝি গুলোর বৈশিষ্ট্য মিলে যায়। ভয়াবহ নওয়াব। ট্রলার ছাড়ার কোন নাম নেই। সব কিছু নিজেদের খামখেলাই মত। আমি প্রথম বুঝলাম আমাদেরই সমস্যা হয়েছিল। পরে জানতে পারলাম এদের স্বভাবই এমন। ২টায় এসেছি এখানে। ট্রলার ছেড়েছে ৫টায়।  চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলারে করে এসেছি হাতিয়াতে।

চেয়ারম্যান ঘাট
এটা সেই চেয়ারম্যান ঘাট, যেখান থেকে ট্রলারে করে হাতিয়া যেতে হয়।
ট্রলারের উপর
ট্রলারের উপর, সবাই যে যার মত করে বসে আছে। গন্তব্যের উদ্দ্যেশ্যে

হাতিয়ার উত্তর মাথায় নামলাম আমরা। সন্ধ্যা হয়ে গেছে।   ঐখানে নেমে জিজ্ঞেস করলাম আজ রাতে কি আমরা নিঝুম দ্বীপ পৌঁছাতে পারব? কেউ বলে পারব, কেউ বলে পারব না। জিজ্ঞেস করলাম  কত কিলো? শেষ ট্রলার কখন ছাড়ে, ইত্যাদি। যদিও অনেকেই বলল রাতে হাতিয়া থেকে যেতে। তারপর ও আমরা একাবার ট্রাই করার চেষ্টা করলাম। মোটর সাইকেল ঠিক করলাম। তারপর তানভীর ভাই নিজেই চালানো শুরু করল। আমি মাঝখানে, পেছনে মোটর সাইকেলের ড্রাইভার।   দক্ষিণ মাথা, প্রায় ৬০ কি মি এর মত মোটর চাইকেল দিয়ে আসছি। মোক্তার ঘাটে।  যেখান থেকে নিঝুম দ্বীপ আসা হয়। ঐখানে এসে আরেকটি ট্রলারে উঠতে হয়। মাত্র ৫ মিনিটের পথ। এ পাড় থেকে ঐ পাড়ে যাওয়ার জন্য ট্রলার। হাতিয়া আর নিঝুম দ্বীপের মধ্যে অল্প কিছু দূরত্ব। আমাদের আসতে আসতে রাত ৮টা বেজে গেছে। ৮টায় শেষ ট্রলার।  ভাগ্য ভালো যে আমরা ট্রলার পেয়ে গেছি। তা না হলে আবার হাতিয়া শহরে ফিরে যেতে হতো। নিঝুম দ্বীপের কাছে এসে ফিরে যেতে অনেক কষ্টই লাগত।

কাঁদা মাড়িয়ে ট্রলারে উঠতে হয়। কি আর করা, জুতা খুলে হাতে নিলাম। এরপর ট্রলারে উঠতেই ভারসাম্য না রাখতে পেরে পড়ে গিয়েছি। পড়ে নখে ব্যাথা পেলাম। পায়ের বৃদ্ধ আঙ্গুলটিতে। আবার রক্ত 🙁 ভয়াবহ ব্যথা। এখন রুমে এসে ফ্রেস হয়ে লিখছি, এখনো ব্যাথা।

দ্বীপের প্রধান দুই অংশ। বন্দরটিলা এবং নামার বাজার। বন্দরটীলা হচ্ছে দ্বীপের উত্তর পাশে। যেখানে এসে প্রথমে ট্রলার থেকে নেমেছি আমরা। আর নামার বাজার হচ্ছে দক্ষিণ পাশে। বন্দরটিলা থেকে প্রায় ১০ কিমি দূর। থাকার ব্যবস্থা রয়েছে নামার বাজারে।
বন্দরটিলা নামার পর আমাদের আরেকটা মোটর সাইকেল ওয়ালা নিয়ে আসল  নামার বাজার।  নামার বাজার অবকাশ নামে একটা রিসোর্ট রয়েছে। সেখানে। কেউ এটাকে বলে নিঝুম রিসোর্ট।

দ্বীপে থাকার জন্য হয় অবকাশে থাকতে হয়, না হলে এখানের মসজিদের বোডিং রয়েছে, সেখানে থাকতে হয়। যদিও এখন নতুন আর একটা রিসোর্টের কাজ চলছে। এখানের মানুষ বলল শীতকালে অনেক ট্যুরিস্ট আসে। তখন আবার রিসোর্ট বা বোডিং এ যায়গা হয় না। অনেকে আবার টেন্ট এনে বনের ভেতরই থাকে। এখন বর্ষাকাল, দ্বীপে তেমন ট্যুরিস্ট আসে না। তবে অনেকেই বলে বর্ষাকালে বেশি সুন্দর।
রুমে এসে ফ্রেস হলাম। হট শাওয়ার নিলাম আরকি! এখানের ব্যবস্থা এতই ভালো যে হট শাওয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। -_- একে তো গরম, তার উপর পানিও ও গরম। ট্যাঙ্কে পানি গুলো গরম হয়ে ছিল দিনের সূর্যের তাপে। তাই এই হট শাওয়ার।  কিছুক্ষণ পর খেতে গেলাম। রাতের খাবার। বিশাল এক গামলাতে করে ভাত দিল আমাদের। মোটা চালের ভাত। চাল গুলোর নাম পারি চাল। সাথে রুপালী মাছ ভাজি। এর পর দিলো চিংড়ি মাছ ভাজি। তারপর টেংরা মাছ। টেংরা মাছ ঝোল করে রান্না করা। আর ডাল। পরিবেশনা দেখে মনে হবে কেমন জানি। কিন্তু খাবার গুলো সেইরকম মজার ছিল। মজা করে খেয়েছি।
এর পর চা খেয়ে রাস্তার উপর বসে হাওয়া খেলাম কিছুক্ষণ। পরের দিন কি করবো এসব নিয়ে কথা বললাম। এর পর রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুমাতেও টাকা দিতে হচ্ছিল। কারণ দ্বীপে অনেক গরম। এরপর কারেন্ট নেই। জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তা মাত্র কিছুক্ষণের জন্য, প্রায় ১১টা পর্যন্ত। কিন্তু এর পর যদি জেনারেটর চালু রাখতে হয়, এক্সট্রা টাকা দিতে হবে। তাই ঠিক করলাম।
সকালে ভোরে একবার জেগে নামাজ পড়লাম। এর পর আরেকটু ঘুমিয়ে সকাল ৭টায় ফ্রেস হয়ে বের হলাম। গিয়ে নাস্তা করলাম। চালের গুঁড়ার রুটি, ডিম ভাজি, সবজি, আর চা। বের হলাম হরিণ দেখতে।
ভোর থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি গুলো এমন যে শরীরে পরলে কিছুই হয় না। জামা কাপড় গুলো ভিজে না। কিন্তু সুন্দর একটা অনুভূতির সৃষ্টি করে। এ বৃষ্টির কারণে আকাশ ছিল মেঘলা। গরম ও লাগে না, ঠাণ্ডা না।
গত রাতে যে আমাদের মোটর সাইকেল দিয়ে অবকাশ রিসোর্টে দিয়ে গেলো, সেই গাইড হিসবে ছিল আমাদের সাথে। যথেষ্ট আন্তরিকতার সহিত আমাদের বিভিন্ন জিনিস দেখাতে লাগল।  মোটর সাইকেল দিয়ে নিয়ে গেলো বনের কাছে।  নাম ছোঁয়া খালি। এখানে অনেক হরিণ থাকে।  আমরা হেঁটে হেঁটে হরিণ খুঁজতে লাগলাম। কিছুদূর হেঁটেই দেখতে পেলাম অনেক দূরে একটি হরিণ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আরেকটি শুয়ে আছে। হরিণ গুলো ছিল ছোট একটা নলার এক পাশে। আমরা ছিলাম অন্য পাশে। তাই নৌকা দিয়ে নলাটি পার হলাম।

IMG_20140615_075833
দ্বীপের ভেতরে জোয়ারের পানি নেমে যাওয়ার নলা
IMG_20140615_080036
সাহায্য
নৌকা দিয়ে নলা পার
নৌকা দিয়ে নলা পার

হরিণ গুলোর কাছে আস্তে আস্তে যেতে লাগলাম। আমাদের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকল হরিণ গুলো। এরপর আস্তে আস্তে ওরা বনের ভেতরের দিকে চলে গেলো। আর খুঁজে পেলাম না। অনেকক্ষণ আবার হাঁটতে লাগলাম। হরিণের খোঁজে। পেলাম না। ফিরে আসার সময় এক ঝাঁক হরিণ দেখলাম। এত্ত গুলো। একটার বিশাল সিং। আমি ঐগুলোর পেছনে দৌড়াতে লাগলাম। প্রথমে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। তাপর ঐগুলো বনের ভেতর দিয়ে এত জোরে দৌড়ালো যে, আর খুঁজে পেলাম না

IMG_20140615_082615
শ্বাস মূল
IMG_20140615_082727
হরিণের পায়ের চাপ

হরিণ দেখার পর এসে চা, আর কলা খেলাম। কলা গুলতে কোন ভেজাল না থাকায় ভালো লাগল। দেশি কলা বলে এগুলোকে। চা দিয়ে কলা ভিজিয়ে খেতে নাকি দারুণ, টেস্ট করা হয় নি।
নিঝুম দ্বীপে বিচ রয়েছে, সী বিচ। ঐখানে গেলাম। মোটর সাইকেলের ঐ ছেলেটি আমাদের এসব দেখাচ্ছিল।  যাওয়ার পথে কিছু লোককে বললাম আমাদের জন্য ডাব ফেড়ে রাখতে। বিচে গিয়ে হাঁটা হাঁটি করে ফিরলাম। আসার পর ডাব খেলাম। ডাব গুলো দেখতে অনেক ছোট, কিন্তু খেতে দারুণ লাগছিল। এরপর গেলাম দ্বীপের পশ্চিম পাশে। ঐদিকেও বিচের মত যায়গা। সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ বসলাম। তারপর আস্তে আস্তে রুমের দিকে ফিরে এলাম। তখন বাজে সকাল ১১টা।

IMG_20140615_100026
সী বিচের মাটি
মাছ ধরার ট্রলার

 

জাকির হোসাইন
-_-
পশ্চিম পাশের সী বিচ
পশ্চিম পাশের সী বিচ
পশ্চিম পাশের সী বিচ
পশ্চিম পাশের সী বিচ

এরপর রুমে এসে কিছুক্ষণ রেস্ট নিলাম। ২টার দিকে রুম থেকে আবার বের হলাম। দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য। আমাদের জন্য ইলিশ ভাজা রাখছিল। ইলিশ ভাজা আর ডাল দিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। সাথে ছিল টেংরা মাছের ঝোল। আর ছিল চেওঊয়া মাছ ভাজি। এর পর আবার রুমে আসলাম।
৪টার দিকে বের হলাম আবার, হরিণ দেখার জন্য। এবার নৌকা দিয়ে। নৌকা দিয়ে বনের ভেতর ঘুরতে লাগলাম। নৌকা থেকে চারপাশ দেখতে অসাধারণ লাগছিল। সবুজ বনের মাঝখান দিয়ে স্রোতনদী। স্রোতের টানে আমরা এক দিক থেকে আরেক দিকে যাচ্ছি। মাঝি শুধু মাত্র দিকটা ঠিক করে।  আমরা দ্বীপের অন্যপাশে গিয়ে উঠলাম। বনের ভেতর গিয়ে হরিণের খোজ করলাম। তখন হরিণ গুলো বের হয় নি। দেখিও নি। বনের ভেতর ভয়াবহ মশা। আধা ঘণ্টা আপনি বনের ভেতর থাকলে মনে হয় আপনি আর রক্ত নিয়ে ফিরতে পারবেন না। বনের ভেতর অনেকক্ষণ হাঁটার পর আমি নৌকাতে ফিরে আসলাম। ঐখানের লোকেরা বলে হরিণ মশার থেকে রেহাই পেতে সন্ধ্যার দিকে বন ছেড়ে কেনারের দিকে চলে আসে।

হরিন ছানা
হরিন ছানা
দ্বীপের ট্রলার গুলো
দ্বীপের ট্রলার গুলো
ট্রলার থেকে দ্বীপ
ট্রলার থেকে দ্বীপ
মাছ ধরার ফাঁদ
মাছ ধরার ফাঁদ
আমাদের গাইড
আমাদের গাইড
-_-
-_-

আমরা নৌকা রেখে গিয়েছিলাম পানিতে। এসে দেখি নোকা অনেক উপরে, মাটির উপর। আর পানি অনেক নিছে। অনেক ধাক্কা দিয়ে নৌকা নামানো হল। আমরা গিয়েছি ভাটার টানে, বনের ভেতরে। এখন আবার নৌকা দিয়ে ফিরতে হলে রাত ১০টা পর্যন্ত জোয়ারের অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষা করার প্ল্যান ছিল। কিন্তু ২ মিনিট বসার পর মশা এসে আক্রমণ শুরু করল। ঐখানে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।  কি আর করা, নৌকা রেখে হেঁটে হেঁটে রুমে ফিরলাম।

নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
-_-
-_-
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
নিঝুম দ্বীপের সূর্যাস্ত
গুন টানা
গুন টানা
মাছ নিয়ে ফেরা নৌকা
মাছ নিয়ে ফেরা নৌকা

বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে রাতের খাবার খেতে গেলাম। দুপুরের খাবারের পর যেখানে খাবার খাই, উনাকে বলে রাখলাম রাতেই আমাদের শেষ খাবার। তাই যেন ভালো কিছু হয়। আলতাফ নাম উনার। আলতাফ মিয়াঁর হোটেল। উনি স্পেশাল ভাবে চিংড়ি মাছ ভাজি করেছে আমাদের জন্য। এক জন্য এক বাটি করে চিংড়ি মাছ ভাজি। সাথে ডাল এবং রূপসী মাছ। সেই রকম ভালো লেগেছিল খাবার। খাবার শেষে চা খেয়ে রুমে ফিরলাম। পরের দিন সকালে দ্বীপ ছাড়ব।
সকালে নাস্তা খেয়ে দ্বীপের উত্তর পাশে আসলাম। যেখান থেকে ট্রলারে করে আমরা হাতিয়া যাবো। যেখানে নামব তার নাম মোক্তার ঘাট। হয়তো মনপুরা দ্বীপে যেতে পারি। এখনো সিউর না।
মোক্তার ঘাট এসে দেখি সকল মোটর সাইকেল ধর্মঘট ঢাকছে। সবাই এক সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে। একটাও কোথাও যাবে না। কোন এক সমস্যা হয়েছে হয়তো। পরে যারা ধর্ম ঘট ডেকেছে, তাড়াই আমাদের একটি মোটর সাইকেল ঠিক করে দিল। মেহেমান বলে। ভালো লাগলো আমাদের সন্মান করার কারণে। লোকাল মানুষেরা হেঁটে হেঁটে বা রিক্সায় করে যেতে হচ্ছে। আমরা মোক্তার ঘাট থেকে যাবো তমরউদ্দি ঘাট। সেখান থেকে হয় মনপুরা দ্বীপ যাবো, না হয় ঢাকা যাবো, বা চট্রগ্রাম ও যেতে পারি। তমর উদ্দি ঘাট যাওয়ার পর মন যেখানে যেতে চায়, সেখানেই চলে যাবো।
মোক্তার ঘাট এসে  মনপুরা যাবো বলে ঠিক করলাম। এখানে লঞ্চে উঠলাম। আমরা তমরুদ্দি ঘাট এসে পৌঁছিয়েছি ১১টায়। সবাই বলে লঞ্চ  ১২.৩০ এ ছাড়বে। এখন প্রায় সময় হয়ে আসছে। কিন্তু মনে হয় না সময় মত ছাড়বে।
নিঝুম দ্বীপে বাংলালিঙ্কের নেট ওয়ার্ক ঠিক মত পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই ফোনের ব্যাটারি সেভ করার জন্য নেটওয়ার্ক অফ করে দিলাম। দুই দিন বাড়িতে ফোন করি নি। আমি বলি নি কোথায় যাচ্ছি। কেন যাচ্ছি। কারণ নিজেও জানি না ঠিক মত। আর কোথায় যাচ্ছি এসব শুনে চিন্তা করবে। লঞ্চে উঠে ফোন অনলাইন করলাম। কিছুক্ষণ পরই বাড়ি থেকে ফোন। আব্বা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, তোর বাবা মা আছে? -_- সবাই চিন্তা করা শুরু করল। আমার খবর না পেয়ে।
শেষ পর্যন্ত ১টার দিকে লঞ্চটি ছেড়েছে। আমরা মনপুরা দ্বীপে এসে পৌঁছিয়েছি ২টার দিকে। এখান থেকে এক মোটর সাইকেল ওয়ালা আমাদের পিক করল। করে প্রথমে একটা হোটেলে নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা করল। তারপর এসে আমাদের ডাকবাংলোতে দিয়ে গেলো। যথেষ্ঠ আন্তরিকতা প্রকাশ করল। ড্রাইভারের নাম ছিল আলাউদ্দিন। যাওয়ার সময় আমাদেরকে তার মোটর সাইকেলের চাবি দিয়ে গেলো। ঘুরার জন্য।

লঞ্চে আমি
লঞ্চে আমি
মনপুরার ভেতরের রাস্তা
মনপুরার ভেতরের রাস্তা

মনপুরাতে শুধু মাত্র রাতে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। যদিও সোলার রয়েছে। কিন্তু রাতেই পানি উঠিয়ে রাখতে হয় ট্যাঙ্কে। আমরা এসে দেখি বাথরুমে পানি নেই। কি আর করা, পাশে একটা নলকূপে চলে গেলাম। ঐখানে গিয়ে গোসল করলাম। তানভীর ভাই চলে গেলো একটা পুকুরে।
ফ্রেস হয়ে আমরা মোটর সাইকেল নিয়ে বের হলাম। অনেক দূরে চলে গেলাম। যাওয়ার পথ গুলো ছিল অসাধারণ। দু পাশের দৃশ্য গুলো ছিল দেখার মত। মনপুরা সদর রোডের শেষ মাথায় গেলাম। বাংলা বাজার এর ও পর। চর এর আগে। যাওয়ার পথে কয়েক জায়গায় জিজ্ঞেস করলাম কোথায় ডাব খাওয়া যায়। সবাই বলে সামনে।। সামনে যেতে যেতেই ঐখানে গেলাম। এরপর একজনকে জিজ্ঞেস করার পর বলল, হ্যাঁ খাওয়া যাবো তে। পাশেই বাড়ি। নিয়ে গেলো আমাদের। মেহেমানের মত চেয়ার বের করে বসতে দিল। তারপর ডাব পেড়ে ডাব খাওয়াল। যথেষ্ঠ আন্তরিকতার সহিত। ভালো লাগলো আমাদের। ডাব খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম কোথায় হরিণ দেখা যায়। বলল আলম বাজার।। আলম বাজার আমরা পেছনে রেখে আসছি অনেক আগেই। তাই আবার আলম বাজারের দিকে ব্যাক করলাম।

মনপুরার মধ্যে লেক।
মনপুরার মধ্যে লেক।
নদী ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট লেক
নদী ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট লেক
মহিশের পাল
মহিষের পাল
-_-
-_-
দূরের ঐ নৌকা গুলো
দূরের ঐ নৌকা গুলো
মনপুরা দ্বীপের সৌন্দর্য দর্শন
মনপুরা দ্বীপের সৌন্দর্য দর্শন
দিগন্ত
দিগন্ত

আলম বাজার একটা কলোনি রয়েছে। সরকারী কলোনি। যেখানে হয়তো বন্যা বা নদী ভাঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। অনেক গুলো মানুষ এক সাথে ছোট ছোট রুমে থাকে, এক সাথে। ঐটার পাশেই হরিণ এর চারণ ভূমি। আমরা গেলাম। ভাগ্য ভালো ছিল। সাথে সাথেই হরিণ দেখতে পেলাম। অনেক গুলো ছবি তুললাম। অনেক দূর থেকে। কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই হরিণ গুলো দূরে চলে যায়। আবার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করি। আবার দূরে চলে যায়। এভাবেই কিছুক্ষণ ছবি তুললাম। কিছুক্ষণ ভিডিও করলাম। তারপর ফিরে আসলাম।
কলোনির ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় আমাদের এক লোকে বলল এখানে মহিলারা থাকে। এটা তো বাড়ি। আপনারা এদিকে ঢুকছেন কেনো? আমরা তো আর মহিলা দেখতে যাই নি। হরিণ দেখতে গিয়েছি। অথচ ঐখানের আরেক জনই আমাদের সুন্দর করে দেখিয়ে দিল এসব।  বললাম, আপনাদের মহিলার দিকে আমরা তাকাই নি। এরপর ঐখান থেকে চলে আসলাম। অনেক কাছ থেকেই হরিণ দেখতে পেলাম ঐদিক থেকে।

এখানেই অনেক গুলো হরিণ ছিল। কিন্তু দূর থেকে দেখতে হয়। কাছে গেলেই হরিণ গুলো চলে যায়। তাই আর ছবি তুলতে পারি নি।
এখানেই অনেক গুলো হরিণ ছিল। কিন্তু দূর থেকে দেখতে হয়। কাছে গেলেই হরিণ গুলো চলে যায়। তাই আর ছবি তুলতে পারি নি।

যাওয়া এবং আসার সময়ের যায়াগা গুলো সত্যিই দেখার মত ছিল। আরেকটা কথা। নিঝুম দ্বীপ থেকে মনপুরা দেখতে আরো বেশি সুন্দর। জানি না, কত দিন এ সৌন্দর্য থাকে। কারণ মনপুরা অনেক দ্রুত ভেঙ্গে যাচ্ছে।
দ্বীপের ভেতরের রাস্তা গুলো ভালো। মনপুরা এবং নিঝুম দ্বীপ, দুই দ্বীপের ভেতরের রাস্তা গুলো। পাকা রাস্তা। মোটর সাইকেল নিয়ে ইচ্ছে মত ঘুরা যায়। যে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে দৃশ্য দেখা যায়। দোকানে বসে চা খেয়ে আবার অন্য জায়গায় যাওয়া যায়। আসতে একটু কষ্ট হবে হয়তো। কিন্তু দেখার পর সকল কষ্ট ভুলে যাওয়া যাবে।

মনপুরার ভেতরের রাস্তা
মনপুরার ভেতরের রাস্তা
মনপুরার ভেতরে একটি শুকনো পুকুর
মনপুরার ভেতরে একটি শুকনো পুকুর

সারা দিন ঘুরাঘুরি করার কারণে শরীর টায়ার্ড থাকে। রাতে ভালো একটা ঘুম হয়। আজ মঙ্গল বার। চট্রগ্রাম থেকে বের হয়েছি শনিবারে। আর ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম আসছি বুধবার রাতে। অনেক দিন বাহিরে বাহিরে। মনপুরা থেকে কিছুক্ষণ পর চেয়ারম্যান ঘাট যাবো। সেখান থেকে আমি লক্ষ্মীপুর যাবো। কাকীর বাসা আছে, ঐখানে। তারপর ঐখান থেকে রায়পুর। মামার বাসায়। মামার বাসা থেকে আজ বা আগামী কাল নিজ বাড়িতে যাবো। রামগঞ্জে। তারপর হয়তো বৃহস্পতিবারে ঢাকা ফিরব। ঘুরাঘুরির পর নিজ রুমে ফেরার আন্দটাও অন্যরকম। যাই হোক, পরে কি হবে তা নিয়ে চিন্তা করিনা। তবে অসাধারণ একটা ভ্রমণ ছিল, তা বলতে পারি।
মনপুরা থেকে ফেরার সারাটাপথ এডভেঞ্চার পূর্ন ছিল। আসার পথে এখানে মাছের প্রজেক্ট দেখতে গিয়েছি। সেখান থেকে ঘাটে আসলাম। তারপর ট্রলারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। ১০টার সময় ট্রলার আসার কথা ছিল। তা আসছে প্রায় সাড়ে এগারটায়। সাড়ে এগারটায় সুর্য মাথার উপর। সাগরের মধ্যে ট্রলার। রোদে শরীর ঘামাতে লাগল। এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আকাশ একটু মেঘলা করল। কিছু দূর পর বৃষ্টি শুরু হল। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টি গুলো ভালো লাগছিল। শরীর ভিজে না, এমন বৃষ্টি। এর ৫ মিনিট পরই বিশাল ফোটার বৃষ্টি। সব ভিজে যেতে লাগল। আমার সাথে মোবাইল, ল্যাপটপ, সব। ট্রলারে সবাই খোলা আকাশের নিছে। ট্রলারের ইঞ্জিন যেখানে, সেখানে একটু ছাউনি রয়েছে। ব্যাগ গুলো সেখানে রেখে ভিজতে লাগলাম। ট্রলারের সামনের দিকে তেরপাল দিয়ে অনেকেই বৃষ্টির থেকে রেহাই পেতে লাগল। বিশাল তেরপাল, ছাউনির মত। আমিও ঐটার ছায়ায় অংশ নিলাম। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি কমল। উপর থেকে ঐ তেরপালটি সরানো হল। কারণ ঐটার ভেতর যথেষ্ঠ গরম।

মাছের প্রজেক্টের ভেতরে একটি সুদৃশ্য বাড়ি।
মাছের প্রজেক্টের ভেতরে একটি সুদৃশ্য বাড়ি।
মাছের প্রজেক্ট
মাছের প্রজেক্ট
বাড়ির পাশের পুকুর, এখানেও রয়েছে অনেক মাছ
বাড়ির পাশের পুকুর, এখানেও রয়েছে অনেক মাছ
বাড়ির সামনে সুন্দর বসার জায়গা
বাড়ির সামনে সুন্দর বসার জায়গা
ট্রলারের ভেতরে, উপরে বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য কাগজ।
ট্রলারের ভেতরে, উপরে বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য কাগজ।
ট্রলারে
ট্রলারে

বৃষ্টি হওয়ার পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলো। সূর্যের তেজ আরো বাড়লো। পূর্ন শক্তি আমাদের উপর নিক্ষেপ করতে লাগল। এভাবে সারাটাপথ রোদের তাপে পুড়ে পুড়ে পার হচ্ছিলাম। সারাক্ষণ বসে থাকতে না পেরে আমি আবার শুটকির মত চিৎ হয়ে মাথার উপর তোয়ালে দিয়ে গরমের মধ্যে শুয়ে থাকলাম। ট্রলারের ডেকে। এরপর আবার উঠে বসলাম।  চেয়ারম্যন ঘাট পৌছার কিছুক্ষণ আগে ঢেউ গুলো বড় হতে লাগল। ছোট ট্রলার। অনেক মানুষ। সাথে অনেক গুলো গরু। একবার উপরে উঠে, একবার নিছে নামে। এক মহিলা ছিল নতুন, সে চিৎকার শুরু করল, ও আল্লাহরে !  ও মা গো ! ও বাবা গো! এভাবেই তীরে পৌঁছলাম।

নিঝুম  দ্বীপ সম্পর্কে আমার অনুভূতিঃ
দ্বীপে আসার পুর্বে আমার ধারনা ছিল এখানের জীবন অনেক কষ্টের। এখানে ভালো কিছুই পাওয়া যাবে না।  সবাই গরিব হবে। এটা সেটা। দ্বীপ সম্পর্কে এমন ধারণার কারণ কিন্তু বই। বই এ আগে এমনি লেখা থাকত।  কিন্তু না, এখানে মানুষ গুলো যথেষ্ঠ সচ্ছল। জীবন যাপন করার যত কিছু দরকার সব কিছুই পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু এখানের সবার বাড়িতেই সোলার রয়েছে। টিভি রয়েছে, ডিস রয়েছে। এখানের দোকান গুলোও যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ।

এখানে নাকি তিনটে প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। মাদরাসা রয়েছে। একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। যদিও অনেকেই তারপর ও নাকি পড়া লেখা করে না। ছোট ছেলেমেয়েরা পড়ে না কারণ হিসেবে রয়েছে নগদ টাকা। ছোট খাট কাজ করে দিলে টাকা পাওয়া যায়, তাই নাকি এরা স্কুলে যায় না। কাজ গুলো করে।
দ্বীপের প্রধান সড়ক একটি। দ্বীপের এক পাশে থেকে আরেক পাশে সোজা চলে গেছে। তিনটি বাজার চোখে পড়েছে আমার।
দ্বীপের ভেতর যাতায়াতের জন্য রিক্সা  এবং মোটর সাইকেল রয়েছে। তবে মোটর সাইকেলই বেশি। অনেক দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যায়। দ্বীপে ঘুরার জন্য এ মোটর সাইকেল ভাড়া করা যায়। এ ক্ষেত্রে দুটি লাভ। মোটর সাইকেল যে চালাবে, সে গাইডের কাজ ও করবে। মোটর সাইকেল চালাতে পারলে নিজে নিজে চালানো যায়।
মনপুরা দ্বীপ সম্পর্কে আমার অনুভূতিঃ
মানুষ গুলোর আন্তরিকতা ভালো লেগেছে। মনপুরা নাকি অনেক পুরাতন দ্বীপ। মনপুরা মুভিটির মনপুরা নাম হলেও স্যুটিং নাকি করা হয়েছিল নিঝুমদ্বীপে। এখানে নিঝুম দ্বীপ থেকে ঘন বসতি। দ্বীপের সৌন্দর্য অনেক সুন্দর। সূর্যাস্তটায় দেখার মত। ডাকবাংলোতে খুব  কম খরচে থাকা যায়। নিঝুম দ্বীপের তুলনায় অনেক কমে এবং নিঝুম দ্বীপ থেকেও ভালো সুবিধে।
নিঝুম দ্বীপে যত কষ্ট করে হরিণ দেখতে হয়েছে, মনপুরাতে তার থেকেও সহজে দেখতে পেরেছি। সমস্যা হচ্ছে এখানে হরিণের কিছু পরিমাণ কম। কিন্তু নিঝুম দ্বীপে অনেক হরিণ।

এখানের মানুষ গুলোকেও স্বচ্ছল মনে হচ্ছে। পড়ালেখার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে।ভয় লাগে কখন দ্বীপ গুলো তলিয়ে যায়। কারণ সবাই যানে, এ দ্বীপ গুলো যে কোন সময়ই তলিয়ে যাবে। আরেক দিক দিয়ে আবার আরেকটি দ্বীপের জন্ম হবে। আবার সেখানে অনেক মানুষের বসতি ঘড়ে উঠবে। আবার কোন এক সময় তাও তলিয়ে যাবে… চলতে থাকবে, পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত।প্রতিবারই খাবার খাওয়ার পর বিল দেখে আবার জিজ্ঞেস করি, বিল কত? এত্ত কম! এত কিছু খাওয়ার পর ও এত কম টাকা। অনেক ভালো খাবার খাওয়া যায়, খুবি কম টাকায়। দুই দ্বীপেই।দুই দ্বীপের চার পাশেই ছোট ছোট অনেক গুলো চর দেখা যায়। ছোট ছোট দ্বীপ বলা যায়। জানি না ঐ সব জায়গায় মানুষ থাকে কিনা। হয়তো থাকে। যাওয়া হয় নি, তাই ঐ সব জায়গায় কি আছে তা জানা হয় নি। সৃষ্টির অনেক কিছুই অবাক করে। সৌন্দর্য গুলো দেখতে ভালো লাগে। হয়তো আবার আসব দেখতে। হয়তো না। কারণ আরো অনেক কিছু যে দেখার বাকি রয়ে গেছে। জানি, আল্লাহর সৃষ্টির সব কিছু দেখে শেষ করতে পারব না। তারপর ও যত টুকু পারি, যেন দেখে যেতে পারি। আল্লাহর কাছে তাই চাওয়া।

 

আপডেটঃ অনেকেই খরচের কথা জানতে চাচ্ছেন। খরচ অনেক কম। খাওয়া খরচ একদমই কম। স্বাভাবিক অন্যান্য অঞ্চলে যেমন, তেমনি। ভ্রমনে দুইটা খরচ, একটা হচ্ছে খাওয়া খরচ আরেকটা হচ্ছে যাতায়াত। যাতায়াত খরচ ২ জন/ ৪ জন এমন জোড়া হলে কম হবে। কারণ মোটরসাইকেলে চলতে হয়। আর মোটর সাইকেলে দুইজনের খরচ যা, একজনের খরচ ও তা। তাই দুজন করে হলে অনেক কমে যাবে খরচ। থাকার খরচ ও মোটামুটি অনেক কম। আমি সঠিক তথ্য দিতে পারছি না, কারণ ভুলে গেছি এতদিনে।


4 thoughts on “নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া এবং মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *