ঠাকুরগাঁও ভ্রমণ

এ ট্যুরের আগের তিন দিনের গল্পঃ

পঞ্চগড় দেখার মত  অনেক কিছু রয়েছে, যেমন মহারাজার দীঘি, বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির এবং চা বাগান। সিলেটে পাহাড়ী অঞ্চলে চা বাগান রয়েছে। আর পঞ্চগড় সমতল জাগাতেও চায়ের চাষ শুরু হয়েছে। মহারাজার দীঘি যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। পঞ্চগড় শহর থেকে একটু দূর বলে যেতে ইচ্ছে করে নি। মত পরিবর্তন করে ঠাঁকুরগাও এর দিকে চলে গিয়েছি পঞ্চগড় থেকে।

ঘুম থেকে উঠেছি দেরি করে। আগের রাতে ঘুমুতেও গিয়েছি দেরি করে। ফ্রেস হয়ে বের হতে হতে প্রায় ১০ টা বেজে গেছে। রেস্টুরেন্টে গিয়ে নাস্তা খেলাম। এরপর ঠাকুরগাঁও এর দিকে রওনা দিলাম। সাড়ে ১১টায় বাস ছাড়ল। প্রায় একটার দিকে ঠাকুরগাঁও নামিয়ে দিল।

ঠাকুরগাঁওতে বিখ্যাত আম গাছ রয়েছে,  সূর্যপুরী  আম গাছ। তা দেখতে যাবো। দেখার জন্য যেতে হয়েছে অনেক দূর। সকালে ছিলাম পঞ্চগড়, সেখান থেকে এসেছি ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গি থানায় এ গাছটি। বালিয়াডাঙ্গি যাওয়ার পর ও আরো ১০ কিলো এর মতো ভেতরে যেতে হয়েছে, হরিণমারী নামক জাগায়। যাওয়ার পথটি ছিল অসাধারণ। আর যেখানে গিয়েছি, সেখানে এখনো মাটির বাড়ি রয়েছে। রয়েছে খড়/ছন দিয়ে তৈরি করা বাড়ি।
যাওয়ার পথে মুণ্ডুমালা BGB ক্যাম্প পড়েছে। ঐখানে ফ্রেস হওয়ার জন্য থেমেছি। BGB দের সাথে কিছুক্ষণ কথা হলো। তারা আমাকে পথ দেখিয়ে দিল। যাওয়ার পথে দেখলাম অনেকেই ফসল শুকাচ্ছে। ধান মাড়াই এর কাজ করছে।

IMG_0590
ভুট্টা শুকানো হচ্ছে।
IMG_0598
মাটির বাড়ি
IMG_0638
সূর্যপুরী আমগাছ
IMG_0650
সূর্যপুরী আমগাছের উপর উঠা!

সূর্যপুরী আমগাছ এর ঐখানে গিয়ে দুইটা ছেলের সাথে দেখা। আলমগির এবং জাহাঙ্গীর। ওরা এসেছে দিনাজপুর থেকে। তারাও আম গাছ দেখতে এসেছে।  আমি এর পর দিনাজপুর যাবো। তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা হলো। তাদেরকে জানালাম আমিও দিনাজপুর যাবো। পরে আমরা এক সাথে সাথে ঠাকুরগাঁও ফিরলাম। একই অটোতে করে। ঠাকুরগাঁও এসে দুপুরের খাবার খেলাম ৪টার দিকে।

 

 

 

সূর্যপুরী আমগাছ দেখতে যাওয়ার পথে।
সূর্যপুরী আমগাছ দেখতে যাওয়ার পথে।

 

মরিচ শুকানো হচ্ছে
মরিচ শুকানো হচ্ছে

খাওয়াদাওয়া করে বাসে উঠতে যাবো, এমন সময় আলমগির বলল তার ফুফির বাসায় যাবে, ৫ মিনিটের পথ। আমি বললাম যাও। আমাকে বলে আমিও সাথে যেতে। গেলাম। ওদের সাথে মাত্র কিছুক্ষণ আগে পরিচয় হয়েছে। এখন তাদের সাথে তাদের আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছি!

কিছুক্ষণ বসার পর আমাদের সেমাই, মিষ্টি খেতে দিল। ঐ সময় আমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি। Mhafuzur Rahman ভাই বলল উনি ঠাকুরগাঁও শহরে আছে। আলমগিরের এর ফুফির বাসা থেকে বের হয়ে উনার সাথে দেখা করলাম। এরপর উনি ঠাকুরগাঁও বড় মাঠে নিয়ে গেলো। কথা বললাম, উনার কথা শুনলাম। আমার সাথে আলমগির এবং জাহাঙ্গীর দুইজনই ছিল। আমরা সবাই চটপটি খেলাম। তারপর বাস স্ট্যান্ড ফিরে আসলাম। উনি অনেক অভিজ্ঞতা মূলক কথা বলল। দারুণ সব কথা।

ততক্ষণে লাস্ট বাসটি চলে গেছে। ঢাকায় যাওয়ার বাস গুলোতে করে দিনাজপুর যেতে হবে এখন। সেগুলো আরো কিছুক্ষণ পর ছাড়বে। আমাদের মাফুজুর রহমান ভাই চা খাওয়াতে নিয়ে গেলো। চা খেয়ে আবার ফিরে এসেছি বাস স্ট্যান্ড। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর ও বাস আসে না। হানিফের একটা আসল, ঐটা আমাদের নিবে না। আরো কিছুক্ষণ পর অন্য একটা বাস এসেছে। পরে আমাদের ঐ বাসে উনি তুলে দিল।

বাসটি কিছুক্ষণ পর একটা কাউন্টারে থামল। আধাঘণ্টার মত অপেক্ষা করল। গায়ে লাগে নি। এরপর আরো কিছুক্ষণ পর আরেকটা কাউন্টারে এসে থামল। আরো আধা ঘণ্টা। আরেকটু আসার পর আরেকটা কাউণ্টারে, আরো আধাঘণ্টার জন্য। মাত্র ২৫ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে আড়াই ঘণ্টা লাগল। ভাড়া নিল ৮০ টাকা! আমি বিরক্ত, অনেক বিরক্ত, মহা বিরক্ত হয়েছি!

দিনাজপুর আসব শুনে Khairat Hossin নক দিল। নক দিয়েছে Alam Rohan ভাই। ৪০ কিলো মিটার যেতে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা লাগবে, আমি উনাদের বললাম আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে আসছি। কিন্তু এক ঘণ্টা নয়, ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুর যেতে কয়েক ঘণ্টা কেটে গিয়েছে।

বাস থেকে নেমেছি দশমাইল। সেখান থেকে দিনাজপুর আরো ১৬ কিলো। এ ১৬ কিলো এসেছি ইঞ্জিন চালিত ভ্যানে করে। মাত্র ২০ টাকা দিয়ে। সময় ও কম লেগেছে। ৩০ মিনিট ও সম্ভবত লাগে নি। ভ্যান এত জোরে চলতে পারে আমি এর আগে বিশ্বাস করতাম না। বাসে এত সময় লাগবে জানলে বাসে আমি উঠতামই না। এত কম রাস্তা CNG করেই আসা যেতো।

মাফুজুর রহমান ভাই হোটেল মৃগয়া এর কথা বলল, সেখানে উঠলাম। Alam Rohan ভাই এর সাথে কথা হচ্ছিল ফেসবুকে। উনি কিছুক্ষণ পর পর আমি কোথায় আছি জিজ্ঞেস করেছে। আমি পথে আটকে আছি। দিনাজপুর পৌঁছানর পর উনাকে ফোন দিলাম। হোটেল মৃগয়া এর কথা বললাম।

হোটেলে ব্যাগ রেখে আমি নিচে নেমেছি। উনি আসবে বলল। হোটেলের নিচে নেমে দেখি উনি হোটেলের সামনে। মোটর সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম কথা জিজ্ঞেস করছে আমি খেয়েছি কিনা। বললাম না, এখন খাবো। উনি বলল চলেন, বাসায় চলেন। আমি না করেও কাজ হয় নি। উনার কথায় পরে রাজি হয়ে উনার বাসায় চলে গেলাম।

অনেক গুলো আইটেম দিয়ে রাতের খাওয়া খেলাম। বিভিন্ন রকম পিঠা, রুটি, মাংস, আলু ঘণ্ট, ফিরনি ইত্যাদি। আজ ছিল সবে-বরাত এর রাত। দিনাজপুরের দিকে আজ ঈদের মত।  ঠাকুরগাঁওতেও নাকি একই রকম উৎসবের মত হয় আজ। এরপর আবার নিয়ে গেলো বটতলা মোড়, মজনুর চা খাওয়াতে। চা খাওয়ার পর আমাকে হোটেলের সামনে দিয়ে গেলো।

আগামীকাল আমি কোথায় কোথায় ঘুরব, সে গুলো জানতে চাইলো। আমি বললাম স্বপ্নপুরি, লিচু বাগান এসব দেখতে যাবো। উনি বলল কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে ফোন দিতে বলল। আমি রুমে ফিরে ফ্রেস হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রুমটা ছিল দারুণ। যথেষ্ট সুন্দর সিঙ্গেল রুম। সম্ভবত ৪০০ টাকা রুম ভাড়া। সারাদিন ঘুরা ঘুরি করার কারণে রাতে বিছানায় যাওয়ার সাথে সাথে ঘুম চলে আসে। দারুণ লাগে।

পরের দিন সারাদিন দিনাজপুর ঘুরেছি। পরের লেখা থেকে তা জানা যাবে।

দিনাজপুরের সব গুলো ছবি দেখা যাবে এখানে। 


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *