গল্পঃ গেম ক্যারেক্টার

আপনাকে আমি আগে কোথাও দেখেছি? মানে আমাদের আগে কোথাও দেখা হয়েছে??

ইফতি গাড়িতে উঠতে যাবে, পেছনে তাকিয়ে দেখল একটি ছেলে তাকে প্রশ্নটি করেছে। বয়সে তার থেকে ছোট হবে। টিনেজ। চোখে হাই পাওয়ারের চশমা। ইফতি উত্তর দিল, না তো! মনে হয় না!

ইফতি গাড়িতে উঠে চলে গেলো। ফাহাদ চিন্তা করল উনাকে দেখেছি কোথায়? পরিচিত মনে হচ্ছে কেন? সেও বাসায় ফিরল।

ফাহাদের রুটিন হচ্ছে, ক্লাস, খাওয়া, গেমস খেলা আর ঘুম। স্কুল থেকে ফিরে খাওয়া দাওয়ার পরিবর্তে কম্পিউটার টেবিলে বসবে। তারপর যেকোন একটা গেম চালু করে খাওয়ার কথা ভুলে যাবে। আজ ও তেমনি করল। রুটিনে কোন পরিবর্তন নেই। প্রিয় গেমটি ওপেন করে খেলা শুরু করল।

গেমটি খেলতে খেলতে হঠাৎ গেম এর একটি মডেলের দিকে তার নজর পড়ল। আরে উনারেই তো আজ দেখেছি! একই রকম দেখতে। গেমস এর মডলের এবং ঐ আপুটি দেখতে একই রকম হলো কিভাবে?!

ফাহাদ পরের দিন স্কুলে গিয়ে ইফতিকে খুজে বের করল। খুজে বের করা সহজ ছিল না। দেখেই বলল, আপনাকে না বলছি আমি কোথায় দেখেছি? সত্যিই আপনাকে আগে দেখছি, তবে বাস্তবে না। একটা গেম এর একটা মডেল হিসেবে। গেম এর ক্যারেক্টার হিসেবে। ইফতি বলল, তাই নাকি? কি গেম? ফাহাদ গেম এর নাম বলল। ইফতি বলল, তাহলে তো ডাউনলোড করে খেলে দেখতে হবে।

ইফতি বাসায় এসে গেমটি ডাউনলোড করল। এবং রান করে অবাক হয়ে গেল। হুবহু তার মত একটা ক্যারেক্টার।

কয়েক বছর আগের কথা। নিষাদ নামের ছেলেটির পছন্দ হয়েছে একটি মেয়েকে। টিনেজের ভালো লাগা। প্রথম ভালো লাগা। লুকিয়ে রাখতে পারে নি। সবাইকে বলে বেড়ালো। নিষাদ নিজের প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার আগেই মেয়েটির কানে চলে গেলো।

একদিন মেয়েটি নিষাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। এসব কি কথা বলে বেড়াচ্ছো তুমি? একটুও লজ্জা করে না? এসব উলটা পালটা কথা যেন আর না শুনি!

মেয়েটি আর শুনে নি তেমন কথা। নিজেকে গুটিয়ে নিলো নিষাদ। নিজের ভেতরে। প্রথম ভালোলাগাকে কেউই মনে হয় ভুলতে পারে না। ভুলতে পারেনি নিষাদ ও।

নিষাদ আগে ফটোশপ নিয়ে ঘাটাঘাটি করত। ভালো লাগত। এরপর পরিচিত হয়েছিল 3D মডেলিং এর সাথে। ব্লেন্ডার শিখে মডেলিং শুরু করল। পড়ালেখার পাশা পাশি 3D মডেলিং করে বেড়ায়।

একটা গেমস কোম্পানিতে পার্টটাইম কাজ করে। এ পর্যন্ত দুইটি সুন্দর সুন্দর গেমস এর 3D মডেল তৈরি করে দিয়েছিল। যেগুলো প্রোগ্রামাররা কোড করে বাস্তব রুপ দেয়। কোন মডেল কিভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করে। কোন সিন এর পর কোন সিন আসবে, সেগুলোর কোড করে।

ইফতি চিন্তায় পড়ল। গেম এর কারেক্টার তার মত হওয়ার কারণ কি? কেউ কি তার ছবি তুলে এমন করেছে? কিন্তু ছবি তুললে তো সে বুঝতে পারত।

ফাহাদকে জিজ্ঞেস করল গেমটি কে তৈরি করেছে। ফাহাদ গেম ডেভেলপার কোম্পানির নাম বলল। ফাহাদকে জিজ্ঞেস করল তাদের ঠিকানা জানে কিনা। ফাহাদ বলল জানে না, তবে বের করা যাবে।

ইন্টারনেট থেকে ডেভেলপার কোম্পানির ওয়েব সাইট থেকে তাদের ঠিকানা বের করল ফাহাদ। পরের দিন গিয়ে তা ইফতিকে জানালো।

গেম ডেভেলপার কোম্পনারি অফিসে একটি মেয়ে প্রবেশ করল। সবাই তাকিয়ে আছে। আরে এ তো আমাদের গেমের ক্যারেক্টারের মত! একজন আরেকজনের দিকে তাকাতে শুরু করল! ক্যারেক্টার কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়?

ইফতি এগিয়ে গেলো। বলল, আসলে আমি আপনাদের একটা গেমে আমার মত একটা ক্যারেক্টার দেখতে পেয়েছি। আমার ছবি ছাড়াও কিভাবে এরকম সম্ভব হয়েছে, তাই জানতে চাচ্ছি।

একজন ডেভেলপার এগিয়ে আসছে। বলল, আসলে ক্যারেক্টার গুলো 3D মডেলিং এর উপর নির্ভর করে। আর আমাদের মডেলিং এর কাজ করে নিষাদ। তুমি চাইলে তার সাথে কথা বলতে পারো। ঐ যে তার রুম, বলে নিষাদের রুম দেখিয়ে দিল।

নিষাদের রুমের সামনে এসে ইফতি নক করল। ভেতরে আসব? নিষাদ ইফতে দেখে সব ভুলে গেলো। কি বলবে বুঝতে পারে নি। তাকিয়ে থাকল। ইফতি নিজেই প্রবেশ করল।
রুমের চার দেয়ালের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো। ইফতির অনেক গুলো আর্ট। কোন ক্যামেরার ছবি নয়, একজন আর্টিস্ট এর আর্ট। ইফতি নিজে কথা হারিয়ে ফেলল। কি বলবে?

নিষাদ বলল, আজও কি বলবে, এসব বন্ধ করতে? দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল, বলবে এগুলো খুলে ফেলতে?

ইফতি কিছুই বলতে পারে নি। চিন্তা করতে লাগল, এগুলো ছেলেটির ভালোবাসা নাকি পাগলামি? নাকি দুটোই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *