গাজীপুর বেজ ক্যাম্প এ একদিন

গাজীপুর বেজ ক্যাম্পে গিয়েছি সকালে। এটা ছিল একটি এডভ্যাঞ্চার ক্যাম্প। আমরা অনেকে, সব ভাই ব্রাদারের সাথে। দুঃখিত, একটু ভুল হয়েছে। এখন ভাই ব্রাদারের অনেকেই বিয়ে করে ফেলছেন। সাথে রয়েছে আমাদের ভাবীরা। তাই গিয়েছি ভাই, ব্রাদার এবং ভাবীদের সাথে। গত রাতে সাইদুর ভাই ফোন দিয়ে বলল এই এডভেন্সার ক্যাম্পের কথা। যে কোন ট্যুরেই আমার উত্তর সর্বদা হ্যাঁ থাকে। এটাতেও ছিল।

সকাল ৯টায় আমরা ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। তিনটে মাইক্রোবাসে করে প্রায় ২৫ জন। Kashem ভাই চট্রগ্রাম চলে যাওয়ার কথা। পরে উনাকে বলাতে উনি আসতে রাজি হলো এবং হোটেল থেকে উনাকে রিসিভ করে নিয়ে আসল।

আমাদের বাসে ছিল Promi ভাই, Shoeb ভাই, Al-Amin ভাই, Nasir ভাই, Rifatভাই ও ভাবী, Masudur Rashid ভাই ও ভাবী, Karjohn Kamal ভাই আর Zafi Chowdhury ভাই। বাসের ভেতর এক জন এক একটা মজার কথা বলে উঠে, আর সবাই হাসি শুরু করে। এক জন আরেকজনকে মজা করে কিছু বলে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে গিয়েছিল… আমি জানি না অন্য বাস গুলতে উনারা কিভাবে এসেছে। এমন মজা করেছে কিনা।

inside bus

 

অন্য দুই বাসে ছিল S.m. Shuvo ভাই, Mohammad Asif ভাই, Mohammad Yeasin Arafat ভাই, Masum Billah ভাই সহ অন্যরা। আমরা বেজ ক্যাম্পে এসে পৌঁছিয়েছি প্রায় ১১টায়।

 

IMG_20141116_114535

বাস থেকে নেমে আমাদের গ্যালারিতে বসতে বলল। এখানের ইন্সট্রাকটর আমাদের বলল কি কি করতে। কিভাবে কি করতে হবে ইত্যাদি। আমাদের সবাইকে নিয়ে দুটি টিম করা হলো, একটি হচ্ছে ফিনিক্স আরেকটি হচ্ছে ইউনিকর্ণ। একটার ক্যাপ্টেন ছিল ভাই আরেকটার মাসুদ ভাই। আমি ছিলাম ইউনিকর্ণ এর মেম্বার। প্রতিযোগিতা করার জন্য এভাবে টিম করা হয়েছে।

এটা গ্যালারি। এখানেই আমাদের সকল তথ্য জানানো হয়। ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়।
এটা গ্যালারি। এখানেই আমাদের সকল তথ্য জানানো হয়। ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়।

 

এরপর আমাদের স্ন্যাক্স আর কফি/চা নেওয়ার জন্য ব্রেক দেওয়া হলো। এরপর আমাদের কিছুক্ষণ পিটি করিয়ে নেওয়া হলো। যেন এডভেঞ্চার ঠিক মত করতে পারি।

প্রথম আমরা যে এডভেঞ্চার করলাম তা হচ্ছে ‘অন গ্রাউন্ড’ একটিভিটি। এটার মধ্যে যেগুলো এক্টিভিটি গুলো করতে হয়েছেঃ

* TYRE RUN
* ROPE WALK
* ZIG ZAG
* LOG WALK
* TYRE SANDWITCH
* ROPE TRENCH
* HOP N JUMP
* THROUGH THE TYRE

এ সব গুলো একবারে করতে হয়েছে অন গ্রাউন্ড এক্টিভিটিতে। সব চেয়ে কম সময় শেষ করেছেন আল-আমিন ভাই, ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে। এরপর ছিলাম আমি, এক মিনিট ২৫ সেকেন্ড।

base camp on ground adventure

এরপরের এডভেঞ্চার এর নাম হচ্ছে ‘অন ট্রি’ এডভেঞ্চার। মোটামুটি কমপ্লেক্স। অনেকেই অন ট্রি এডভেঞ্চারটি করে নি। কেউ শুরু করতে চায়নি প্রথমে শুরু করলাম আমি। এখানেও আল-আমিন ভাই সবচেয়ে কম সময় শেষ করেছে। প্রায় ৬ মিনিটের মত। আমার লেগেছে প্রায় ১২ মিনিট। আমাদের ভিডিও করা রয়েছে। পরে এক সময় শেয়ার করব। ২৫ জন থেকে মাত্র তিনজন অন ট্রি এক্টিভিটি শেষ করতে পেরেছেন।

NijolCreative

NijolCreative

কাসেম ভাই, Asif Anwar ভাই, নিলভ ভাই সহ যারা অন ট্রি এডভেঞ্চার করে নি, উনারা ফুটবল খেলেছে, সাইক্লিং করেছে। এবং কিছুক্ষণ পর পুলে নেমে গোসল করেছে।

 

NijolCreative

cycling at basecamp

৩টার দিকে ফ্রেস হয়ে লাঞ্চ শুরু করেছি সবাই। দুপুরের লাঞ্চের ব্যবস্থা ভালো ছিল। আইটেম কম ছিল কিন্তু খাবার গুলো যথেষ্ঠ সুস্বাদু ছিল। কোন ড্রিংস ছিল না। খাবার শেষে ছিল দই। তাও যথেষ্ঠ মজার ছিল।

food at basecamp

এরপর কফি / চা খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। সবাই সবার সাথে বসে বসে কথা বললাম। কিছুক্ষণ পর আবার গ্যালারিতে ডাকল আমাদের। পরের এডভেঞ্চার নিয়ে কথা বলার জন্য। ঐখানে কথা বলার এক ফাঁকে আমরা জানতে পারলাম বাংলাদেশ জিমবাবুকে বাংলাওয়াশ করেছে। দারুণ খুশিতে সবাই চিৎকার করে উঠেছি।

 

পরের এডভেঞ্চার ছিল ZIP LINE, অনেক উচুতে উঠে তারের সাথে ঝুলে নিচের দিকে যাওয়া। দারুণ লাগছিল। ৫ সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ! তারপর ও ভালো লেগেছে। ZIP LINE এ যখন আমাদের তারের সাথে ঝুলানো হয়, তখন সবাইকে কিছু না কিছু বলে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সমস্যা হচ্ছে সবাই বুঝতে পেরেছে যে আমাদের ভয় দেখানোর জন্য কথা গুলো বলে। যেমন বলত, তারটা ডেমেজ হয়ে গেছে, যে কোন সময় ছিড়ে যেতে পারে। বা বলত ওজন কত? এত ওজন হলে তো পড়ে যাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি…

ZIP LINE সবাই শেষ করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। এরপর আরেকটি প্রতিযোগিতা বাকি রয়ে গিয়েছে। তা হচ্ছে ফ্ল্যাগ সংগ্রহ। সর্বমোট ৫০টি ফ্ল্যাগ ভিবিন্ন জায়গায় রেখেছে। সবার কাজ হচ্ছে ফ্ল্যাগ গুলোকে কালেক্ট করা। যার দল সর্বোচ্চ ফ্ল্যাগ কালেক্ট করবে, তারা জয়ী হবে। দুই রকমের ফ্ল্যাগ ছিল। হলুদ এবং নীল। ৫০টির মধ্যে আমি একটিও কালেক্ট করতে পারি নি

এরপর আবার স্ন্যাক্স এবং চা/কফি খেয়ে একটু হাটা হাটি করে বেজ ক্যাম্পকে বিদায় জানিয়েছি। ফেরার সময় আবার আমাদের আগে বাসে আমরা সবাই উঠে আড্ডা দিতে দিতে ঢাকা ফিরেছি। সমমনা হলে সবাই এত্ত বেশি কথা বলতে পারে, এত্ত বেশি মজা করতে পারে আজকের ক্যাম্পে না গেলে বুঝতে পারতাম না। জীবনের আরেকটি স্মরনীয় দিন

আমাদের দল মানে ইউনিকর্ন সব গুলোতে প্রথম হয়েছে। ফিনিক্স দলকে আমরা হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছি। ক্যাম্পের বেস্ট ক্যাম্পার হয়েছেন আল-আমিন ভাই। আল-আমিন ভাই না গেলে আমি হতে পারতাম। উনি বেস্ট ক্যাম্পার হবে জানলে আগেই আমি উনাকে ঢাকা বেঁধে রেখে চলে যেতাম মেয়েদের মধ্যে Emrazina আপু সবচেয়ে ভালো করেছেন। উনি সব গুলো এক্টিভিটিই ট্রাই করেছিলেন।

আমাদের পুরো ক্যাম্পের স্পন্সর করেছেন ইল্যান্স-ওডেস্ক। ধন্যবাদ Saidur ভাইকে। ধন্যবাদ সবাইকে। প্রাণ খুলে আনন্দ করার জন্য।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *