কোন বিষয়টা শিখতে সহজ / কোনটা শিখতে কঠিন

একজন সাধারণ ওয়েব ডেভেলপার HTML, CSS জ্ঞানকে স্কিলের মধ্যেই ধরে না। একজন ওয়েব ডেভেলপারের এগুলো জানা থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। তাই একজন ওয়েব ডেভেলপারকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, HTML, CSS পারেন? তখন হয়তো সে রেগে যেতে পারে। বলে উঠতে পারে, আপনি কি আমার সাথে মশকরা করেন? এর মানে হচ্ছে এগুলো তার কাছে সহজ। খুবি সহজ।

কিন্তু এগুলো তার জন্য এক সময় কঠিন ছিল। এমন সহজ ছিল না সব সময়। এগুলোর সাথে পরিচিত হতে হয়েছে। তারপর এগুলো শিখতে হয়েছে। শেখার পর এগুলো নিয়ে কাজ করেছে। এবং এক সময় এগুলো সহজ হয়ে গিয়েছে। এখন তার কাছে HTML, CSS সহজ হলেও হয়তো অন্য আরেকটা বিষয় কঠিন। তার কাছে হয়তো সার্ভার সাইড কোডিং / ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট এসব কঠিন। এখন এসব কঠিন মনে করে যদি সে যদি না শিখে, শিখে প্রয়োগ না করে করে, তাহলে সব সময় তার কাছে কঠিন হয়ে থাকবে। আর যদি সে এসব শিখে, এবং প্রয়োগ করে, তাহলে এক সময় তার কাছে HTML, CSS এর মতই সহজ হয়ে যাবে। তখন আবার কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে, আপনি কি সার্ভার সাইড কোডিং জানেন? তখন দেখা যাবে সে বিরক্তিকর দৃষ্টি দিবে। চিন্তা করবে, এসব কি জিজ্ঞেস করে? সার্ভার সাইড কোডিং না পারলে ব্যাকএন্ড ডেভেলপার বলে পরিচয় দিতাম?

ওয়ার্ডপ্রেসের 4.3 ভার্সন রিলিজ হয়েছে দেখেছি। ওয়ার্ডপ্রেস আমার খুবি প্রিয় একটা CMS। যখন ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে জানি, তখন ভাবলাম একটু শিখে নি। ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ করার জন্য ইন্সটল দিতে হবে। নিজ কম্পিউটারে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল দেওয়াই আমার কাছে তখন অনেক বেশি কঠিন ছিল। এটা হলে ঐটা হয়না। তখন সার্ভার সম্পর্কেও নতুন। কম্পিউটারে আগে সার্ভার ইন্সটল করতে হবে। পিএইচপি ইন্সটল করতে হবে। মাইসিক্যুয়েল ইন্সটল করতে হবে। আর কত কিছু। অনেক সময় নিয়ে শুধু ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করাই শিখতে হয়েছে। কঠিন ছিল। অনেক কঠিন। কিন্তু এখন মাত্র একটা কমান্ড দিয়েই ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব সাইট তৈরি করে পেলতে পারি। মাত্র একটা কমান্ড! ইজি পিজি।

এইচটিএমএল সিএসএস শেখার সময় ও দেখা যেত ট্যাগ লিখতাম কাজ করত না। কেন কাজ করত না, আমি তো ঠিক মতই লিখেছি সব। যেমন ইমেজ ট্যাগ লিখলাম, কিন্তু ইমেজ লোড হচ্ছে না। কোন ভুলই তো নাই। পরে দেখতাম যে ইমেজ যে ফোল্ডারে রেখেছি, ঐ ফোল্ডার ট্যাগে উল্লেখ করা হয় নি। ছোট্ট একটা ভুল। কিন্তু না জানার কারণেই তা তখন কঠিন মনে হতো।

এক সময় পিএইচপি মাইসিক্যুয়েল কানেক্ট করাই তো অনেক কঠিন ছিল। এখন এসব তো মনে করি মানুষ এমনিতেই জানবে। জানার কথা। কিন্তু প্রথম প্রথম তো অনেক সময় নষ্ট করতে হয়েছে ছোট্ট ছোট্ট বিষয় গুলো নিয়ে। এখন এসব সহজ।

এখন আবার অনেক কিছুই কঠিন মনে হয়। একটা অটোমেটেড সিস্টেম কিভাবে নিজে নিজে চারপাশ থেকে জ্ঞান আহরণ করে নিবে। কিভাব ঐ জ্ঞান গুলোকে কাজে লাগাবে। নিজে নিজেই সব কিছু করবে। অটোমেটেড সিস্টেম। AI আরকি। এসব কঠিন মনে হয়। সমস্যা হচ্ছে যত দ্রুত পিএইচপি, মাইসিক্যুয়েল শিখে পেলতে পেরেছি, তত দ্রুত এখন এসব শিখতে পারছি না। কারণ হচ্ছে লার্নিং কার্ভ। একটা বিষয় শেখার জন্য নুন্যতম সময় ঐ বিষয়ের পেছনে দিতে হয়। ঐ বিষয় সম্পর্কে নূন্যতম ব্যাসিক জ্ঞান থাকা লাগে, তাহলেই ঐ বিষয় বুঝতে পারা যায়। আমার কাছে এখন এ বিষয় গুলো কঠিন লাগার কারণ হচ্ছে আমি যতটুকু ব্যাসিক জ্ঞান দরকার, তা এখনো শিখতে পারি নি। আরো অনেক কিছু শেখা বাকি আছে। শিখতে থাকলে এক সময় হয়তো সহজ হয়ে পড়বে।

কারো কারো কাছে প্রোগ্রামিং কঠিন মনে হয়। হতে পারে। স্বাভাবিক। সে যদি যতটুকু আগ্রহ নিয়ে প্রোগ্রামিং এ সময় দেওয়ার কথা, তা না দেয়, তাহলে কঠিন লাগবেই। কিন্তু আগ্রহ নিয়ে সময় দিতে থাকে, তাহলে এক সময় না এক সময় তা সহজ হয় উঠবে। HTML, CSS এর লার্নিং কার্ভ অনেক কম। অনেক কম সময়ই এসব শিখা যাবে। সে তুলনায় প্রোগ্রামিং এর লার্নিং কার্ভ আরেকটু বেশি। আরেকটু বেশি সময় লাগবে প্রোগ্রামিং এর ব্যাসিক ধারণা নিতে। অ্যালগরিদম / ডেটা স্ট্র্যাকচারের লার্নিং কার্ভ আবার প্রোগ্রামিং এর ব্যাসিক জ্ঞান জানা থেকে আরেকটু বেশি। তাই কারো কাছে যদি কোন একটা কঠিন মনে হয়, তার মানে হচ্ছে তার আরেকটু বেশি সময় দেওয়া দরকার। আরেকটু আগ্রহ সহকারে দেখা দরকার। এই, আর কিছু না। সব কিছুই আস্তে আস্তে সহজ হয়ে যাবে। নবম শ্রেণীতে গণিত করার সময় সেটের অংক গুলো করার সময় প্রথম দিকে কেমন নতুন নতুন আর কঠিন মনে হয়েছে অনেকের কাছে। কিন্তু একটু সময় দেওয়ার পর তো মনে হয়েছে, আরে, সেটের অংক গুলো থেকে সহজ অংক আর আছে? তেমনই সব কিছুই এক সময় সহজ হয়ে উঠবে। যদি শেখার আগ্রহ থাকে। হ্যাপি লার্নিং 🙂


One thought on “কোন বিষয়টা শিখতে সহজ / কোনটা শিখতে কঠিন

  1. algorithm & data structure er bangla kono book ache vaiya, kichu bujtechina ei course e, Sir ke bollam PTR die ki bojacche, sir bollo ptr means ptr,,pore janlam internet er help e..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *