কান্না ভরা দুটি চোখ আমার।

প্রায় সময়ই আমার কান্না আসে। কিছু ভাবতে গেলেই চোখ দিয়ে পানি পড়ে। নিজেকে খুব একা মনে হয়। মন চায় সব কিছু চেড়ে কোথায় ও চলে যাই। কিন্তু পারি না। কোথাও যেতে পারি না। তারপরও আমি পড়ি, ক্লাসে যাই, মাঝে মাঝে কাজও করি। কিছু কিছু সময় ভালো লাগে কিছু কিছু সময় খারাপ। আর খারাপ যখন লাগে তখনই আমার দুই চোখে পানি চলে আসে। আমার চোখে পানি আসে তখনও যখন কাউকে কষ্টে দেখি। আমি জানি না কেন আসে, এমনি ভাবেই চলে আসে। আমি কানতে চাই না, আমি হাসতে চাই। কিন্তু আমি যে হাসতে পারি না। কিন্তু আপনি কি জানেন, আমি এখন সব চেয়ে ভালো আছি? হ্যাঁ আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো রাখছে। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর। আলহামদুলিল্লাহ।
আমি এখন ভাবতে পারি নতুন কিছু, আমি কে, কেন আসছি এসব নিয়ে ভাবতে পারি। কিন্তু ভাবতে গেলেই কান্না আসে। আবার তখনও কান্না আসে যখন দেখি অনেক গুলো মানুষ সারাদিন কষ্ট করে যায়, আবার বাসায় গেলেও ঠিক মত একমুঠো খেতে পারে না নিজের সম্পর্কে ভাবার কথা তো দূরে থাকুক। সব কিছু আমার কাছে খাপছাড়া মনে হয়। কোন কিছুর সাথে কোন কিছুর মিল নেই যেন। আমি চায়ের দোকানে গেলে চায়ের কথা বলে ঐ দোকারদারের দিকে তাকিয়ে থাকি, দেখি কত কিছু নিয়ে ওরা ব্যস্থ থাকে, কত অল্প টাকার বিনিময় অনেক বেশি কষ্ট করে। আহ!! সবাই যদি এক সাথে শান্তিতে থাকতে পারত।
আবার কোন হোটেলে গিয়ে দেখি হোটেল বয়দের। দেখি তারা দুটাকা বকশিস পাওয়ার জন্য সবার কাছে কেমন নত হয়ে থাকে। কোনদিন উচ্চ ভাবে কথা বলতে পারে না। একটু ভুল করলেই শুনতে হয় ধমক, যে খেতে আসে তার কাছ থেকেও আবার মালিকের কাছ থেকেও। ঐতো, কয়েকদিন আগে খিলগাঁও রেলগেটে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছি, একটা ছেলে কি ভুল করেছে যেন তাকে সবাই মিলে কি মার দিয়েছে। আমি আর খেতে পারি নি খাওয়া। আমার মুখ দিয়ে খাবার যেতে চায় নি আর। তারপরও জোর করে খেয়ে উঠে আসলাম। আমি রুমে ঢুকতে পারি নি। তার আগেই পেট থেকে আমার সকল খাবার বের হয়ে গিয়েছে। কেন জানি কষ্ট লাগে এসব দেখলে। একটুও ভালো লাগে না।
আমি ও তাদের জন্য কিছু করতে পারব না। আমার দুটি হাত আছে আর সাথে একটা কীবোর্ড। আমি কিছু লিখতে পারব তাদের নিয়ে। কিন্তু তাদের কোন লাভ হবে না। কারন কোনদিনও তারা আমার এ লেখা পড়তে পারবে না। আর যারা আমার লেখাটা পড়তে পারবে তাদের কাজেও আসবে না। 

ভালো হতো যদি তাদের সবার জ্ঞান থাকত। সবাই অনেক কিছু জানত। নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগাতো। আচ্ছা তারা কেন জ্ঞান অর্জন করে না? করলে অনেক ভালো হতো তাই না?? 
আর লিখতে ভালো লাগে না। খারাপ কথা নিয়ে লিখলেও কেমন মন খারপ লাগে। আবার মন খারাপ থেকেই লিখি…


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *