ইনসোমনিয়া

ইনসোমনিয়া ছিলো না কখনো। হয়েছে। বালিশে মাথা রাখার কিছুক্ষণ পর পরই ঘুম চলে আসত। এরপর এক সময় তোমাকে দেখি। বালিশে মাথা দিয়ে তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করি। ঘুম আমার দূর হয়ে যায়। আমার ঘুমের সময়, আমার নির্ঘুম সময়, সব সময় তুমি দখল করে নাও। সব জাগায় তুমি উঁকি দেওয়া শুরু করো। একটা মানুষের সব কিছু দখল করে নাও। কত সহজেই।

খুব অল্প সময়ের জন্যই আমার জীবনে আসো। সব গুলো ভালো এক সাথে লাগা শুরু হয়েছিল তখন। এক সময় আবার চলেও যাও। রেখে যাও শূন্য একটি খোলস। এখন যা রয়েছে, তাকে একটি খোলসের সাথেই তুলনা চলে।

আগে দেখতাম স্বপ্ন। স্বপ্ন গুলো কত সহজেই দুঃস্বপ্ন হয়ে গেলো। যাওয়ার সময় সকল ভালো লাগা গুলোও নিয়ে যাও। তোমার সাথে। এখন যা রয়েছে, সব খারাপ লাগা।

স্বপ্ন গুলো দেখতাম তোমাকে ঘিরে। সব কিছুই করতাম তোমার জন্য। তোমার জন্য সব সময়ই কিছু একটা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, যে কোন কিছু। আমার কেন্দ্র ছিলে তুমি। এখন আমি কেন্দ্র বিহীন একটা বিন্দু। নাটাই বিহীন একটা ঘুড়ি।

বিছানায় যাওয়ার পর বালিশটা ভিজতে থাকে। রাত পার হয়ে যায়। ভোর হয়। এক সময় পাখিরা কিচির মিচির করে। ক্লান্ত দেহ এক সময় নেতিয়ে পড়ে। ঐটাকে কি ঘুম বলে? এক সময় ক্লাসের সময় হবে। মোবাইলটা রিং হতে হতে এক সময় বন্ধ হয়ে যাবে। বিছানা ছেড়ে উঠার কোন খবর থাকবে না। অন্য সব ইনসোমনিয়া রুগীদের মত দুপুরের দিকে ঘুম থেকে উঠব। বিসন্ন একটা দিন পার করব। দিন শেষে সন্ধ্যা হবে। এরপর রাত। একই রুটিনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। চলে যাচ্ছে সময় গুলো। নি:সঙ্গতাকে সঙ্গী করে, এভাবেই…


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *