আর্থিক স্বাধীনতা এবং স্বপ্ন

একজন মানুষের সবার আগে যে স্বাধীনতা অর্জন করা দরকার, তা হচ্ছে আর্থিক স্বাধীনতা। ক্রিয়েটিভ কিছু করার জন্য এই আর্থিক স্বাধীনতা খুবই দরকার। আমাদের অনেকেরই আর্থিক স্বাধীনতার পেছনে ছুটতে গিয়ে ক্রিয়েটিভ কিছু করা হয়ে উঠে না। তখন আমাদের টাইমলাইনটা কেমন হয়?

পড়ালেখা শেষ করার পর চাকরি খুঁজতে থাকা। চাকরি শুরু করার পর বিয়ে সাদি, বাচ্চা কাচ্চা এটা সেটা। এগুলো মাঝে ভাবতে থাকা একটু ভালো সুযোগ পেলে নিজের স্বপ্নের পেছনে সময় দিব। কিন্তু ভালো সুযোগ অনেকের ক্ষেত্রেই পাওয়া যায় না। এরপর? জীবনের শেষ প্রান্ত, অবসর জীবন। যখন ভালো সুযোগ পাওয়া যায়, ততদিনে আর সময় থাকে না। নিজের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

আমাদের অনেকেরই আর্থিক স্বাধীনতা আছে কিন্তু নেই ভালো কোন স্বপ্ন। আর তাই অসাধারণ কিছু করতে পারার সকল সামর্থ্য থাকা স্বত্বেও খুব সাধারণ একটা জীবন পার করে দেই। একটা বৃত্তের মত। কারো স্বাধ থাকে সাধ্য থাকে না। কারো সাধ্য থাকে স্বাধ থাকে না।

আমাদের যারা এখন কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি, তারা সহজেই এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারি। আমরা ইউনিভার্সিটি থেকে বের হওয়ার আগেই আমাদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পারি। যেন পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে আমাদের সময় গুলোকে কাজে লাগাতে পারি। করতে পারি ক্রিয়েটিভ কিছু। আমাদের এই পৃথিবীতে অনেক বেশি কনজিউমার। ক্রিয়েটিভ মানুষ অনেক কম। আমাদের দরকার আরো বেশি ক্রিয়েটিভ মানুষ।

অনেকেই বলবে ছাত্র অবস্থায় টাকা পয়সার দিকে মন দিলে পড়ালেখা হবে না। ঐটা হচ্ছে আমাদের তৃতীয় হাত। ডানহাত, বামহাত আর অজুহাত। পড়ালেখার পাশাপাশি যারা কিছু করার চেষ্টা করে, তাদের অভিজ্ঞতা বাড়ে। ইউনিভার্সিটি শেষ করে কোন জব করতে গেলেই চাইবে আপনার আগের অভিজ্ঞতা কি। তখন যারা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার পাশাপাশি কিছু করার চেষ্টা করেছে, তারাই এগিয়ে থাকে।

যদি প্রশ্ন যাগে, ছাত্র অবস্থায় আমি কি করব। তাহলে বলব করার মত রয়েছে অনেক কিছু। ছোটবেলায় পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন তৈরি করতাম। মজা পেতাম, তাই। কিন্তু তখনো জানতাম না অনলাইনে এই প্রেজেন্টেশন তৈরি করেই অনেক ভালো টাকা আয় করা যায়। আয় করা যায় ডিজাইন থেকে। কোডিং এর কথা আর নাই বললাম। আরো সহজ কিছু? ফেসবুকে সারাক্ষণ পড়ে থাকি আমরা। ফেসবুকে কোন একটা ক্যাটেগরির প্রোডাক্ট নিয়ে একটা পেইজ খুলতে পারি। হতে পারে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার জিনিস পত্র, হতে পারে টি সার্ট, হতে পারে যে কোন প্রসাধনি। কোন ব্র্যান্ডের ভালো, কেনো ভালো এসব নিয়ে লিখতে পারেন। এরপর? নিজেই ঐ পেইজ থেকে প্রোডাক্ট গুলো বিক্রয় করা শুরু করুন। বিকাশ এমন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করতে পারেন। চুক্তি করতে পারেন কোন কুরিয়ারের সাথে। এ ভাবে ছোট্ট একটা ব্যবসা শুরু করতে কি লাগে? অনেক টাকা? না। শুধু একটু সময় এবং বুদ্ধি। এরপর এটাকে স্কেল করে বড় কিছু তৈরি করে ফেলা সম্ভব। চাকরি করা ছাড়াও সুন্দর আয় করা, স্বাধীন জীবন নিয়ে একটা লেখা লিখেছি অনেক আগে। অনলাইনে কি কি করা যায় তা নিয়ে একটু ধারণা পাওয়া যাবে। চাকরি করা ছাড়াও সুন্দর আয় করা।

আমাদের বাবা বা দাদাদের সময় এবং আমাদের সময়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। উনাদের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। কারো একটা আইডিয়া থাকলে কার কাছে ঐ আইডিয়া নিয়ে কথা বলা যাবে, এমন কোন ধারণাই ছিল না। কিন্তু এখন? ইনভেস্টররা টাকা নিয়ে বসে আছে ভালো একটা আইডিয়ার জন্য। কিভাবে একটা আইডিয়াকে ব্যবসায় দাঁড় করানো যায়, তা নিয়ে রয়েছে অনেক গাইড লাইন। আমাদের কাছে সবচেয়ে দামি যে জিনিসটা রয়েছে, তা হচ্ছে সময়। এই সময় গুলোকে ভালো ভাবে কাজে লাগালে আল্লাহর রহমতে যে কোন কিছুই সম্ভব। শুধু দরকার ইচ্ছে শক্তি। আমাদের স্বাধীনতা নির্ভর করে আমাদের ইচ্ছে শক্তির উপর। ইচ্ছে শক্তির জয় হোক 🙂

Leave a Reply